Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

পবিত্র মুহররম মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য কী?

| প্রকাশের সময় : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

উত্তর: মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর বিধানে গণনার জন্য মাস ১২টি, তন্মধ্যে চারটি মাস নিষিদ্ধ মাস, এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান।’ (সূরা তাওবাহ, আয়াত : ৩৬।) নিষিদ্ধ চারটি মাস সম্পর্কে রাসুলেপাক (সা.) বলেন, বছর হলো বারোটি মাসের সমষ্টি, তার মধ্যে চারটি মাস অতি সম্মানিত। তিনটি পর পর লাগোয়া মাস। সে তিনটি হলো, জিলকদ, জিলহজ ও মুহররম আর চতুর্থটি হলো জুমাদাস সানি ও শাবানের মধ্যবর্তী রজব মাস। (বুখারি, হাদিস নম্বর : ২৯৫৮; মুসলিম, হাদিস নম্বর : ১৬৭৯।) ইমাম বাগাভী (রহ.) বলেন, অনেক আগেই আল্লাহ তায়ালা এ বিধান লাওহে মাহফুজে লিখে রেখেছেন। (তাফসিরে বাগাভী, পৃষ্ঠা : ১৯২।) ইমাম আবু জাফর তাবারি (রহ.) বলেন, ইসলাম আগমনের পূর্বেও জাহেলি যুগে এ চারটি মাস নিষিদ্ধ ছিলো। এ মাসগুলোকে তারা পবিত্র মনে করে সম্মান করত, যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং ঝগড়া-ফাসাদ থেকে নিজেরদের বিরত রাখত। (তাফসিরে তাবারি, ১৯২ পৃষ্ঠা।)
অধিক সম্মানিত মাসগুলোর প্রথম মাস মুহররম। এই মুহররম মাসের ফজিলত অনেক বেশি। যেহেতু এটি পবিত্র মাস তাই মুহাররম মাসে যুদ্ধ হারাম। তবে যদি প্রতিপক্ষ কাফির-মুশরিক যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং আক্রমণ করে তাহলে যুদ্ধ করে তাদেরকে ঘায়েল করা বৈধ। এ প্রসঙ্গে মুকাতিল ইবনে হায়্যান ও ইবনে জুরাইজ (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে, সাহাবীগণের একদল মুহররম মাসে মুশরিকদের একদল লোকের সাক্ষাত লাভ করেন। তখন মুসলিম পক্ষ প্রতিপক্ষকে নিবৃত্ত রাখতে চাইলেন, যাতে তারা হারাম মাসে যুদ্ধ না করে। তারপর মুশরিক পক্ষ অস্বীকৃতি জানিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হল এবং হঠাৎ তাদের ওপর চড়াও হল। তখন মুসলমানগণ তদের প্রতিহত করলেন এবং যুদ্ধে লিপ্ত হলেন। এরপর মহান আল্লাহ তাঁদেরকে বিজয় দান করেন। (তাফসিরে ইবনে কাছির, ৫ম খন্ড, ৪৪৯ পৃষ্ঠা।)
হাদিস শরিফে মুহররম মাসে নফল ইবাদত এবং নফল সিয়ামকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, আফদালুস সিয়ামি বাদা রামাদানা শাহরুল্লাহিল মুহাররাম। অর্থ : রমজানের পর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ রোজা হল আল্লাহর মাস মুহররম মাসের রোজা। (মুসলিম, হাদিস নম্বর : ১৯৮২।) এ হাদিসে মুহররমকে ‘শাহরুল্লাহ’ তথা আল্লাহর মাস বলা হয়েছে। এর দ্বারাই বোঝাযায়, মুহররম মাসের মর্যাদা কত বেশি। সুবহানাল্লাহি বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম।
তিরমিজি শরিফে হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আলী (রা.) কে প্রশ্ন করলেন, রমজান মাসের পর কোন মাসের রোজা রাখার জন্য আপনি আমাকে আদেশ করবেন? আলী (রা.) বললেন, ঠিক এ প্রশ্নটিই এক ব্যক্তি হুজুর (সা.) কে করেছিলো। আমি সেখানে বসেছিলাম। হুজুর (সা.) প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, তুমি যদি রমজানের পর কোনো মাসকে গুরুত্ব দিয়ে রোজা রাখতে চাও, তাহলে মুহররম মাসকে গুরুত্ব দাও। কেননা, মুহররম মাস হল আল্লাহর মাস। (তিরমিজি, হাদিস নম্বর : ৭৪১; মুসনাদে আহমাদ, ২য় খন্ড, ১৫৪ পৃষ্ঠা।) একবার রাসুল (সা.)কে প্রশ্ন করা হয়েছে, মাসগুলোর মধ্যে কোন মাসটি শ্রেষ্ঠ? রাসুল (দ.) বললেন, শ্রেষ্ঠ মাস হল আল্লাহর মাস। যাকে তোমরা মুহররম বলে থাকো। (সুনানে কুবরা লিন্নাসায়ি, হাদিস নম্বর : ২৯১৬; সুনানে কুবরা লিল বায়হাকি : খন্ড ৪, ২৯১পৃষ্ঠা)
উত্তর দিচ্ছেন: মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ এহছানুল হক মুজাদ্দেদী



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ