Inqilab Logo

ঢাকা, রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০২ পৌষ ১৪২৫, ৮ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

নকল ডিজিটাল থার্মোমিটার প্রতারণার শিকার রোগীরা

লোকবল সঙ্কটের অুজুহাত ওষুধ প্রশাসনের তদারকি ব্যাহত

হাসান সোহেল | প্রকাশের সময় : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০৭ এএম

রাজধানীর পার্শ্ববর্তী কেরানীগঞ্জের আমিরাবাগ এলাকার চাকুরিজীবী দীন ইসলামের তিন বছর বয়সী শিশু শিহাব জ্বরে আক্রান্ত। তার মা ডিজিটাল থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর মাপছেন এতে ১০৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা দেখাচ্ছে। বাবা-মা উদ্ধিগ্ন হয়ে পড়েন। কয়েক দফা জ্বর মাপার পর কখনো ১০৪ আবার কখনো ১০৫ ডিগ্রি দেখাচ্ছে। পাশের এক ফার্মেসী মালিকের পরামর্শে শিশুর জন্য সিপ্রোফ্লক্সাসিন অ্যান্টিবায়োটিক সিরাপ নিয়ে খাওয়ানো শুরু করেন। একদিন পরও শিশুর জ্বর না কমায় শিহাবকে নিয়ে উদ্ধিগ্ন হয়ে পড়েন তার বাবা-মা। পরে তাঁকে নিয়ে আসা হয় মিটফোর্ড হাসপাতালে। চিকিৎসক জ্বর মেপে দেখেন ১০০ ডিগ্রি। যা সাধারণ জ্বর হিসেবে গণ্য করা হয়। পরে শিহাবের বাবা-মা বুঝতে পারলেন জ্বর মাপার ডিজিটাল থার্মোমিটারটি সঠিক নয়। এ কারণে তাপমাত্রা অস্বাভাবিক দেখাচ্ছিল। শুধু শিহাবের বাবা-মা ই নন। তাদের মতো অসংখ্য মানুষ প্রতিনিয়ত এভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
প্রযুক্তির উন্নয়নে দেশের সাধারণ মানুষও আজ সচেতন হয়ে ওঠেছে। দেশের অধিকাংশ নাগরিক মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। তেমনটি যে কোনো শারিরীক সমস্যায় মেডিকেল ডিভাইসও ব্যবহার করছেন। এমন একটি মেডিকেল ডিভাইস হচ্ছে এয়ারডক্টর ডিজিটাল থার্মোমিটার। আন্তর্জাতিক মানের আসল এই মেডিকেল ডিসটির মূল্য মাত্র ৮০ টাকা। ডিভাইসটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হেলথওয়ে মেডিকেল লিমিটেড। কিন্তু এক শ্রেণীর প্রতারক ডিজিটাল এই থার্মোমিটারটি নকল করে বাজারজাত করছে। তবে আসল ও নকল চেনা খুবই কষ্টকর ব্যাপার। কোন্টি আসল আর কোন্টি নকল তা ডিভাইসটি খুলে পরখ না করা পর্যন্ত বুঝা মুশকিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধবিদ্যা বিভাগের সাবেক প্রফেসর আ ব ম ফারুক বলেন, জ্বর কোনো রোগ নয়। তবে যে কোনো সিরিয়াস রোগের পূর্ব লক্ষণ। কিন্তু জ্বর মাপার যন্ত্রটি যদি সঠিকভাবে কাজ না করে তাহলে সেটি ভুল রিডিং দেবে। এতে ভুল ওষুধ গ্রহনের সম্ভাবনাও রয়েছে। যা কখনো কখনো প্রাণঘাতি হয়ে ওঠতে পারে। এজন্য এসব নকল কারবারিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তুমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।
ডিজিটাল থার্মোমিটার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হেলথওয়ে মেডিকেল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর হোসেন বলেন, এয়ারডক্টর ডিজিটাল থার্মোমিটারটি এ ক্যাটাগড়ির পণ্য হওয়ায় রেজিষ্ট্রেশন ছাড়াই আমদানি করা যায়। তবে আমদানির আগে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর থেকে অনুমোদন নিতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই পণ্যটি আমদানি করে দেশে বাজারজাত করছেন। কিন্তু কেরানীগঞ্জের জিনজিরা বারঘর টোলা এলাকার জনৈক দিদার ডিজিটাল থার্মোমিটারটি নকল করে বাজারজাত করছেন। এতে মানুষজন প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। নকল ডিভাইসটির মাথার অংশটি সামান্য চোটে ভেঙ্গে যায়। আর নকলটির ওজনও অনেক কম। তবে সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল-নকল চেনা সম্ভব নয়। এই ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে তিনি ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর ও বাংলাদেশ মেডিকেল ইন্সট্রুম্যান্টস অ্যান্ড হসপিটাল ইকুইপমেন্ট ডিলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের ঢাকা শাখার সভাপতির কাছে আবেদন করেন।
ঢাকা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ জাভেদ আহমেদ সমিটির প্যাডে একটি বিজ্ঞপ্তি দেন। এতে বলা হয়, এয়ারডক্টর ডিজিটাল থার্মোমিটার নকল পণ্যটি সমিতির অধীন জব্দকৃত। তাই এসব ব্যবসায়ীদের এই পণ্যটি ক্রয় করার সময় অবশ্যই হেলথওয়ে রেজিষ্ট্রেশনকৃত আসল পণ্য দেখে ক্রয় করতে অনুরোধ করেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করেন, এয়ারডক্টর মেডিকেল ডিভাইসটির নকল পণ্যটি কোনো ব্যবসায়ী না জেনে ক্রয় করে থাকলে তা সমিতি অফিসে জমা দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়। অন্যথায় কারো কাছে পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বাজারে ডিজিটাল থার্মোমিটারটি নকল হলেও নীরব ভ‚মিকা পালন করছে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। কারণ এসব পণ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা সংস্থাটির নেই। আর এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা নকল মেডিকেল ডিভাইস বাজারজাত করছে। তবে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের একজন সহকারি পরিচালক বলেন, জনবল সংকটের কারণে মেডিকেল ডিভাইস সঠিকভাবে দেখভাল করা যাচ্ছে না। এছাড়া এসব ডিভাইস পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থাও তাদের নেই। তবে নতুন করে জনবল নিয়োগ হলে এটি দেখভাল করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর