Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৩ পৌষ ১৪২৫, ৯ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

পবিত্র আশুরা আজ

মো. আবদুর রহিম | প্রকাশের সময় : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০৭ এএম

আজ ১০ মুহাররম, শুক্রবার পবিত্র আশুরা। এদিনে কারবালা প্রান্তরে সাইয়েদেনা হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) হক ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন ইসলামের শত্রæ ও বাতিল ইয়াজিদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে নির্ভীকভাবে শাহাদতের অমীয় সুধা পান করে গেছেন। ইসলামকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে তিনি শ্রেষ্ঠত্বের আসনে দাঁড় করিয়ে গেছেন। আর এজন্যই আল্লামা ইকবাল (রহ.) বলেছেন, ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায় হার কারবালাকা বাদ’। এ মহান দিনে হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) এর শাহাদতের মাধ্যমে ইসলামকে জিন্দা রাখার জন্য যে রক্ত প্রবাহ শুরু হয়েছিল নতুন নতুন ইয়াজিদ বাহিনীকে প্রতিহত করতে সে রক্ত প্রবাহের ধারা অব্যাহত থাকবে। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।
ঈমানের বলে বলীয়ান এবং সত্য ও ন্যায়ের সাধক হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) হক ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে নির্ভীকভাবে শাহাদতের অমীয় সুধা পান করে পৃথিবীর বুকে চির অমর হয়ে আছেন। যতদিন পৃথিবীসহ আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টিকুল থাকবে, ততদিন তার নাম ও কীর্তি পৃথিবীজুড়ে অভিনন্দিত ও অনুকরণীয় হতে থাকবে। সাইয়েদেনা হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) প্রমাণ করে গেছেন, অন্যায় ও অসত্যের কাছে কখনও মাথা নত করা যাবে না। সত্য তথা হক প্রতিষ্ঠায় মাথা উঁচু করে প্রাণ উৎসর্গ করলে আদর্শ প্রতিষ্ঠাসহ জগতের বুকে চির অমøান ও উজ্জ্বল থাকা যায়। কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনার মাধ্যমে এ শিক্ষাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা মুসলিম উম্মাহর অগ্রযাত্রায় নবতর চেতনার উন্মেষ এবং রাব্বুল আলামীনের প্রদর্শিত পথে চলার ক্ষেত্রে ত্যাগ স্বীকারের জন্য যুগে যুগে ইসলামের উত্থানে অনুপ্রেরণা যুগিয়ে যাচ্ছে। আশুরার দিনে কারবালা প্রান্তরে প্রতিটি ঘটনা মুসলিম উম্মাহর জন্য কল্যাণময় ও তাৎপর্যপূর্ণ এবং বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে আছে। তাইতো কবির উপলব্ধি ছিল ‘শির দেগা, নেহি দেগা আমামা।’ কারবালার মত লড়াই যুগে যুগে চলতেই থাকবে। এখনও চলছে মুসলিম দেশে দেশে।
আশুরার দিন মুসলমানদের নিকট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদার দিন। তাই আশুরার দিনসহ আগে বা পরে আরো একটিসহ মোট দু’দিন রোজা রাখার কথা বলেছেন, আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.)। রমজান মাসের রোজা ফরজ হওয়ার পর রমজানের রোজা ছাড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোজা হচ্ছে আশুরার রোজা। রাসূল (সা.) আশুরার দিনের প্রশংসা করে বলেছেন, আশুরার দিনের সম্মানে মুমিনগণ রোজা রাখলে দোজখের আগুন তাদের স্পর্শ করবে না। আশুরার দিনে ১০ আয়াত কোরআন তেলাওয়াতকারী সারা বছরের কোরআন তেলাওয়াতের ছোয়াব পাবে। যে আশুরার দিনে রোজা রাখলো, সে যেন সারাজীবন রোজা রাখলো। পবিত্র আশুরার দিনটি বৈশিষ্ট্যময় হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলো হচ্ছে এদিনে জগৎ সৃষ্টির সূচনা হয়। এ দিনেই (শুক্রবার) মহাপ্রলয়ের মাধ্যমে পৃথিবী ধ্বংস হবে। এদিনেই হযরত আদম (আ.)কে জান্নাত থেকে পৃথিবীর বুকে অবতরণ করানো হয়। এ দিনেই আল্লাহ তায়ালা তার তওবা কবুল করেছিলেন। হযরত নূহ (আ.) এদিনেই মহাপ্লাবন থেকে রক্ষা পেয়ে নৌকা থেকে পৃথিবীর বুকে আবার অবতরণ করেছিলেন। এদিনে হযরত ইদ্রিস (আ.) সশরীরে জান্নাতে প্রবেশ করেন। হযরত আইয়ুব (আ.) দীর্ঘদিন কঠিন রোগ ভোগের পর এদিনে রোগমুক্ত হন। এদিনেই হযরত ইউনূস (আ.) মাছের পেট থেকে বের হয়ে রক্ষা পেয়েছিলেন। আশুরার দিনে হযরত ইব্রাহীম (আ.) আল্লাহ তায়ালার অশেষ কুদরতে নমরুদের অগ্নিকুন্ডের ৪০ দিন অবস্থান করে সুস্থ অবস্থায় বেরিয়ে আসেন। এদিনে হযরত দাউদ (আ.) এর তওবা কবুল হয় এবং হযরত সোলায়মান (আ.) বাদশাহী লাভ করেন। ১০ মুহাররমে হযরত ইউসুফ (আ.) তাঁর পিতা হযরত ইয়াকুব (আ.) এর সাথে মিলিত হন। আশুরার দিনেই হযরত মূসা (আ.) আল্লাহ তায়ালার সাথে কথা বলেছিলেন। এদিনেই আল্লাহ তায়ালা বনি ইসরাইল স¤প্রদায়কে ফেরাউনের বন্দীদশা থেকে উদ্ধার করেন এবং লোহিত সাগরে ফেরাউন ও তার বাহিনীর সলিল সমাধি ঘটান। পবিত্র আশুরার দিনেই আল্লাহ তায়ালা হযরত ঈসা (আ.)কে শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করে সশরীরে আসমানে উঠিয়ে নেন। বিভিন্ন বর্ণনা মতে, এদিনে ২ হাজারের মত পয়গমম্বরগণের জন্ম হয়েছিল এবং এদিনেই উনাদের দোয়া কবুল হয়েছিল। আশুরার দিনে ৪ রাকাত নফল নামাজ নিম্নরূপে আদায় করলে পেছনের ৫০ বছরের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। ৪ রাকাত নফল নামাজের প্রতি রাকাতে সুরা ফাতেহার পর ২৫ বার সুরা এখলাস পড়তে হবে। পবিত্র আশুরার দিন সরকারি ছুটির দিন। এ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন প্রিন্টমিডিয়া বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে পত্রিকা, অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এ মহান দিবস উপলক্ষে আশুরার দিনের পূর্বরাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বিভিন্ন মসজিদ, দরবার, খানকায় মিলাদ মাহফিল, আলোচনায় অংশ নিবেন। জিকিরসহ নানা নফল এবাদত বন্দেগী করবে। শিয়া মুসলমানরা আজ তাজিয়া মিছিল করবে। এদিনে মুসলমানগণ ঘরে ঘরে বিশেষ খাদ্য তৈরি ও বিতরণ করবে। আর এতে রয়েছে প্রভূত বরকত।
কর্মসূচি
বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ঃ মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় শহীদ দিবস শাহাদতে কারবালা উপলক্ষে বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের উদ্যোগে আজ এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সভাপতিত্ব করবেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা ইমাম হায়াত। প্রধান মেহমান থাকবেন হাফেজ আল্লামা সৈয়দ সাইফুর রহমান নিজামী শাহ। এছাড়া মুসলিম লীগের উদ্যোগে আজ বেলা ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ