Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, ৭ কার্তিক ১৪২৫, ১১ সফর ১৪৪০ হিজরী

শরীয়তপুরে গৃহহীন ২০ হাজার পরিবার রাজনৈতিক প্রকল্পের ফাঁদ

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:৩৫ এএম

 ভাঙনরোধে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলায় পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা সুরেশ্বর খাল পুনঃখনন ও নিষ্কাশন পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয় ১৯৯৯ সালে। যা কাগজে কলমে শেষ হয় ২০০১ সালে। এরপর আবার প্রকল্প নেওয়া হয় ২০১৬ সালে। যা শেষ হওয়ার কথা ছিলো ২০১৯ সালে। খোদ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করেন, সমস্যার সমাধানে প্রকৃত প্রকল্প না নিয়ে রাজনৈতিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিলো। সে কারনে কোনো প্রকল্পই বাস্তবায়ন করা যায়নি। 

এই গাফিলতিতেই গৃহহীন হয়েছে ২০ হাজার পরিবার। পানি সম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অলসতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। তিনি বলেন, সমস্যার সমাধানে প্রকৃত প্রকল্প না নিয়ে রাজনৈতিক প্রকল্প হাতে নেওয়া ও তা বাস্তবায়নের ঝোঁকই এ সমস্যার সৃষ্টি করেছে। ২০১৬ সাল থেকে পদ্মা নদীর ভাঙনে শরীয়তপুরে কমপক্ষে ২০ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়েছে। বিলীন হয়েছে জনপদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও চিকিৎসা কেন্দ্র। এর মধ্যে গত আড়াই মাসে গৃহহীন হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার পরিবার। পানিসম্পদমন্ত্রী মন্ত্রী বলেন, পদ্মার ভাঙনরোধে কয়েক বছর আগে তিনটার মতো প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প তিনটা শেষও হয়েছে। তারপরও ভাঙন ঠেকানো যায়নি। প্রকল্পের পরিচালকরা আছেন, প্রকৌশলীরা আছেন, তাদের জবাবদিহিতা করতে হবে। তারা কাজ করেননি। তিনি বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ভাঙনরোধে ৯০০ মিটার বাঁধের কাজ করেছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে ২ কিলোমিটারের বাঁধের কাজ হয়েছে। এ প্রকল্পগুলো ২ বছর আগের। তার মানে কাজগুলো হয়নি, ঠিকমতো হয়নি কিছুই। পিডি আছে, প্রকৌশলী আছে, তারা কাজ করেননি, করেন না! আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, কেন কাজ করেননি, তা সবাই জানে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে সব বলেছি। এগুলো সব রাজনৈতিক প্রকল্প। এখন প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প নিয়েছেন। বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প আসছে। এবার কাজ হবে।
মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বাঁধ দিয়ে, চর কেটে ভাঙন রোধ করা যাবে না। একপাশে ড্রেজিং করবেন, বাঁধ দেবেন, অন্য পাশে ভাঙবে। তাই আমরা আপাতত হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনবসতি, বাঁধ, পোল্ডার রক্ষা করব। মন্ত্রী বলেন, সি লেভেল উচুঁ হয়ে গেছে। রিভার বেড ভরাট হয়ে গেছে উজান থেকে আসা বালুতে। এখন বাঁধ উঁচু করতে হবে। নদীগুলোর ড্রেজিং করতে হবে। হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ লাগবে। পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা যেখান থেকে বাংলাদেশে ঢুকেছে, সেখান থেকে দুই পাড় পাথর দিয়ে উঁচু করে বাঁধ দিতে হবে। স্থায়ী দেয়াল দিতে হবে। যেমনটা ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা দিয়েছে। এতে টাকার অপচয় হবে। দুর্নীতি হবে। তারপরও তা করতে হবে। তবেই সমাধান হবে বন্যা ও নদী ভাঙনের।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ