Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫ পৌষ ১৪২৫, ১১ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

রাজশাহী -১ আসনে আ.লীগে ১০ জন, বিএনপিতে ৪ জন, ফারুক চৌধুরী ও ব্যারি. আমিনুল এগিয়ে

মোঃ হায়দার আলী, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) | প্রকাশের সময় : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:১৯ পিএম

রাজশাহী -১ আসন টি ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত। এখানে হেবি ওয়েটের প্রার্থীরা অংশ গ্রহন করেন। এমপি নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ততই উত্তাপ ছড়াচ্ছেন। উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়চ্ছেন। এ নিয়ে মামলাও হয়েছে। কেউ যেন কাউকে ছাড় দিতে নারাজ, একজন অন্য জনকে সাইজ করতে যা যা করা দরকার সব কিছু করছেন। কেন্দ্রের নির্দেশ যেন কেউ আমূলে নিচ্ছেন না। এ আসনে য যারা নির্বাচিত হন তারাই মন্ত্রী পরিষদে স্থান পান। এদিক থেকে আসনটি অত্যাধিক গুরুত্ব এবং ভিআইপি আসন হিসেবে খ্যাত। গোদাগাড়ী ও তানোরের উপজেলার মাটি ছিল বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল। সে ঘাঁটিতে আমেরিকার টু ইন টাওয়ারেরর আঘাত এনে ক্ষত বিক্ষত করে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির প্রাার্থী পুলিশের সাবেক আইজিপিকে ১৭ হাজার ৩৩৬ ভোটে হারিয়ে সাংসদ হয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী। পরের বার বিএনপি ভোট বর্জন করায় সংসদে যেতে তাঁকে আর প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে হয়নি, ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে হয়। তবে এবার তাঁর বিরুদ্ধে এককাট্টা দলের সেভেন স্টার সহ আরও ২ জন নেতা আগামী দিনে এমপি প্রার্থী হওয়ার চিন্তা ভাবনা করে নির্বাচনী এলাকায় রংবেরং এর পেস্টার সাটিয়েছেন। স্থানীয়ভাবে ‘সেভেন স্টারস’ নামে পরিচিত এই নেতাদের দাবি, এবার জিততে হলে তাঁদের যেকোনো একজনকে মনোনয়ন দিতে হবে। তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভা নিয়ে এ আসন গঠিত। এখানে বিএনপিতে অবশ্য আওয়ামী লীগের মতো গৃহবিবাদ এখন নেই, যারা বিবাদ করতো তারা অনেকে আওয়ামীলীগে যোগদান করেছেন। কিন্তু জামায়াত ইসলাম এখানে ভাগ বসাতে পারেন। স্থানীয় বিএনপি নেতারা মনে করে, দলীয় ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক প্রভাবশালী ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আমিনুল হকের বিকল্প নেই। ইতিমধ্যে ব্যারিষ্টার আমিনুল হক প্রার্থী ঘোষনাও হয়ে গেছেন। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যা. মুজিবুর রহমান ১৯৮৬ সালের ৭ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার তাঁকেই জোটের প্রার্থী হিসেবে পেতে তৎপর জামায়াত। তাঁর পক্ষে এলাকায় এবার ঈদ শুভেচ্ছার পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। ফারুক চৌধুরী ২০০১ সালের নির্বাচনে আমিনুল হকের কাছে ৩৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ব্যারি, আমিনুলের বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা হলে প্রেপ্তার এড়াতে তিনি আত্মগোপন করেন। ফলে ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন তাঁর বড় ভাই সাবেক পুলিশ প্রধান এনামুল হক। তিনি ফারুক চৌধুরীর কাছে হেরে যান।
আওয়ামী লীগে অন্তর্দ্বন্দ্ব
আওয়ামী লীগের প্রথম দফার মেয়াদের শেষ পর্যায়ে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে শিল্পপ্রমিন্ত্রী হন ফারুক চৌধুরী। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ‘একতরফা’ নির্বাচনে বিনাপ্রতিি ্দ্বতায় সাংসদ হওয়ার পর দলের নেতাদের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। এরই ফল সেভেন স্টারস। গত বছরের ১৮ নভেম্বর গোদাগাড়ীর কাঁকনহাটে সমাবেশ করেন এই সাত নেতা। সেখানে মনোনায়ন প্রত্যাশী হিসেবে সাত নেতার নাম ঘোষণা করা হয়। তাঁরা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বদরুজ্জামান ও মকবুল হোসেন খান, আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য আতাউর রহমান খান, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজি মতিউর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক, গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র মনিরুল ইসলাম বাবু, জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি আবদুল ওহাব ও তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুন্ডুমালা পৌর মেয়র গোলাম রাব্বানী। আতাউর রহমান বলেন, 'এলাকার মানুষ প্রার্থী পরিবর্তন চায়। এখানকার বর্তমান এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী হাইব্রিড নিয়ে চলছেন। তাকে বদল করে আমাদের মধ্যে থেকে যে কাউকে প্রার্থী দেওয়ার দাবি জানিয়েছি।' গত কয়েক দিন পূর্বে রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের সংগঠনিক সম্পাদক একেএম আাসাদুজ্জামান আসাদ নিজেকে এমপি প্রার্থী ঘোষনা করে পোষ্টার লাগিয়েছেন। তবে তিনি ওমর ফারুক চৌধুরীর সাথেই ছিলেন। রাজশাহী জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তাজবুল ইসলামও মনোনয়ন চান। তিনি এমপি নির্বাচন করার জন্য নির্বাচনী এলাকায় নৌকার পক্ষে গণসংযোগ করছেন। সেভেন স্টার নেতারা বলছেন এই সাতজনের ভেতর থেকে একজনকে মনোনয়ন দিলে জয়লাভ সম্ভব হবে, অন্যথায় নয়। এরপর থেকেই একাধিক জনসভা করে প্রচারণা চালাচ্ছেন সেভেন স্টারস হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই নেতারা। এ নিয়ে দলের ভেতরে বিরোধ তীব্র হচ্ছে, তুষের আগুনের মত জলচ্ছে।। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর মতিউর রহমানকে চাকরিচ্যুত করা হয়। গত দুটি নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন চেয়ে পাননি। এবারও মাঠে রয়েছেন। মতিউর রহমান বলেন, ফারুক চৌধুরী জনগণের আস্থা হারিয়েছেন। তিনি মানুষের সঙ্গে প্রচন্ড দুর্ব্যবহার করেন। মাদকের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সরকারি তালিকাতেই উঠেছে। এসব কারণে তিনি গণবিচ্ছিন্ন। সাংসদ ফারুক চৌধুরী বলছেন, আমি মনোনায়ন নিয়ে চিন্তা করি না নেতার দায়িত্ব হচ্ছে রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরা। তাঁর দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন। নেত্রী মনে করলে তাঁকে মনোনয়ন দেবেন, না মনে করলে দেবেন না। তিনি বলেন, রাজশাহীতে একমাত্র এই আসনটিই নির্বাচনের জন্য গোছানো। মাদক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি কখনো বেআইনি তদবির করেন না, এটা প্রশাসনের সবাই জানে। গোলাম রাব্বানী আগে ফারুক চৌধুরীর সঙ্গেই ছিলেন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর তাঁদের দূরত্ব তৈরি হয়। গোলাম রাব্বানী বলেন, নেত্রী এবং দলের সাধারণ সম্পাদক অনবরতই বলছেন, তৃণমূলের সমর্থন যাঁর পক্ষে, তাঁকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। এটাই যদি হয়, তাহলে তাঁর নামটাই উঠে আসবে। গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ বদিউজ্জামান বলেন, রাজশাহী - ১ আসনে ওমর ফারুক চৌধুরীর কোন বিকল্প নেই। আমার জানা মতে তিনিই মনোনায়ন পাবেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা সুপরিচিত ও প্রশাংসানীয় মুখ ছাড়া মনোনায়ন দিবেন না। কিন্তু এধরনের মুখ এখনও দেখা যায় না। নির্বাচনের আগে কিছু ননোনায়ন প্রত্যাশী আনাগোনা করবেন এটা স্বাভাবিক। আগামীতে জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে নৌকা তুলে দিবেন তার পক্ষে সবাই একযোগে কাজ করে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করবে নেতা কর্মী সমর্থকেরা। গোদাগাড়ী উপজেলা গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ বলেন, আমার শতভাগ বিশ্বাস ফারুক চৌধুরী এবারও দলের মনোনয়ন পাবেন। তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন নেতা কর্মী তার সাথে আছেন। ফারুক চৌধুরীর বিকল্প শুধুই ফারুক চৌধুরী অন্য কেউ না। সেভেন স্টারে যাঁরা আছেন, তাঁদের মধ্যে মতিউর রহমান ছাড়া আর কেউ মন থেকে মনোনয়ন চান না। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারি. আমিনুল হক ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনবার এখানে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। দুই দফায় মন্ত্রীও ছিলেন। তবে তিনি ছাড়াও চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্র সচিব জহুরুল ইসলাম, ও যুক্তরাষ্ট প্রবাসী ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন মনোনয়ন রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক যুববিষয়ক সম্পাদক সাজেদুর রহমান মার্কনি প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় আছেন। এ আসন থেকে ১৯৮৬ সালে জয়ী জামায়াতের মুজিবুর রহমান ২০-দলীয় জোট থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছে দলটি। মজিবুরের নামে নির্বাচনী এলাকায় কিছু কিছু পোস্টারও লাগানো হয়েছে। তানোর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, বিএনপি ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আমিনুল হকের ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে। গোদাগাড়ী-তানোরে তাঁর বিকল্প কোনো নেতাও এখন পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি। দলে ছোটখাটো গ্রুপিং থাকলেও সবাই আমিনুলের অনুসারী জেলা জামায়াতের মুখপাত্র আবু মো. সেলিম বলেন, এ আসনটি তাঁদের ছিল। এবারও তাঁরা চাইবেন এবং আসনটি পাবেন বলে আশাবাদী। গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুস সালাম বলেন, জামায়াত জোটে আছে। তাদের ভারপ্রাপ্ত আমির এ আসন থেকে একবার সাংসদ হয়েছিলেন। তারাও চাইতে পারে। কিন্তু আসনটি জামায়াতকে দেওয়া হবে না। কেননা ইতিমধ্যে ব্যারিস্টার আমিনুল হক প্রার্থী ঠিক হয়ে গেছে। এখানে আমিনুল হকের বিকল্প নেই। তার হাত ধরে এলাকার ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে। তিনি গোদাগাড়ী তানোরের মানুষের মনে প্রানে মিশে আছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর