Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ২১ জুলাই ২০১৯, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

‘ফেলনা’ সবই ফেলনা নয়

রফতানি আয়ের বিরাট সুযোগ : প্রসারিত হতে পারে কর্মসংস্থান

শফিউল আলম | প্রকাশের সময় : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

‘ফেলনা’ মানেই সবকিছু ফেলনা নয়। ফেলনা মামুলি অনেক জিনিসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বিভিন্ন দেশে। রফতানি আয়ের বিরাট সুযোগ অনায়াসে আয়ত্ত করা সম্ভব। এর মাধ্যমে প্রসারিত হতে পারে কর্মসংস্থানের পথ। অথচ ভারত মিয়ানমারসহ প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আমদানি এবং চোরাপথে অপ্রয়োজনীয় নিম্নমানের হরেক খাদ্য, পানীয়, ভোগ্য ও সৌখিন পণ্যে দেশের বাজার সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে এসব পণ্যের পেছনে।
রফতানিকারকদের সূত্রে জানা গেছে, ‘ফেলনা’, অপ্রচলিত বা খুবই কম প্রচলিত জিনিসপত্র রফতানি বাবদ ব্যাপক আয়ের পথ হতে পারে সুগম। চট্টগ্রাম অঞ্চলে এ সুযোগ-সম্ভাবনা অনেক বেশি। কিন্তু পদে পদে জটিলতা, অনিয়ম-দুর্নীতি, কারচুপি, রফতানি ডকুমেন্ট জালিয়াতি এবং যথাযথ তদারকির অভাবে ধুঁকছে এ খাত। এতে করে আটকে আছে ফেলনা, অপ্রচলিত ও কম প্রচলিত রফতানি বাজার। চাহিদা কাজে লাগানো হলে বার্ষিক ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা জোগাতে পারে এ খাত। এরমধ্যে রয়েছে পরিত্যক্ত চুল, নারকেলের ছোবড়া, ভাঙা কাচ, বাঁশের ফালি, পানের খয়ের থেকে শুরু করে হরেক রকম খাদ্যপণ্য, হস্ত-চারু-কারু ও কূটির শিল্পসামগ্রী ও গৃহস্থালী পণ্য। ভারত, মিয়ানমার, চীন, নেপাল, ভূটান, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের এসব ‘ফেলনা’, কম প্রচলিত বা অপ্রচলিত ধরনের পণ্যসামগ্রী রফতানির বাজার চাহিদা রয়েছে।
এ ধরনের পণ্যসামগ্রীর মধ্যে পান-সুপারি, পানের খয়ের, মিষ্টি জর্দাসহ পানের রকমারি মসলাপাতি, চিড়া, মুড়ি, খৈ, গুড়, আলুর চিপস, চানাচুর, নুডুলস, দেশীয় বিভিন্ন ধরনের ফলমূল, শাক-সবজি, তাজা দেশীয় ফুল, কাগজ ও সিনথেটিক কাপড়ের তৈরি ফুল, শো-পিসসহ হস্ত-কুটির ও মৃৎশিল্পজাত পণ্য, বেত, বাঁশের ফালিসহ খুবই সাধারণ দেশজ দ্রব্যসামগ্রী, মানুষের পরিত্যক্ত চুল, ভাঙা কাচের মতো ফেলনা জিনিসপত্র পরিকল্পিত উপায়ে রফতানি করা সম্ভব। এর মাধ্যমে এসব ফেলনা, অপ্রচলিত বা কম প্রচলিত পণ্যসামগ্রী হয়ে উঠতে পারে নিশ্চিত অর্থকরী রফতানি খাত।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাঁশখালী ও মহেশখালীর (কক্সবাজার) পানের বরজে উৎপাদিত সুমিষ্ট পানের খ্যাতি এই উপমহাদেশ ছাড়িয়ে সুদূর মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর আর ইউরোপে। ভারতের লক্ষেèৗর পানের পরেই চট্টগ্রামের পানের স্থান। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলায় উপজাতীয়দের জাদুকরি হাতের ছোঁয়ায় তৈরি নজরকাড়া সৌখিন ও গৃহস্থালী জিনিসপত্র, শো-পিস, হরেক ফলমূল ও মসলাপাতির জুড়ি নেই। এসব পণ্যসামগ্রীর রফতানি বাজার চাহিদা রয়েছে।
প্রতিবেশী দেশসমূহ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের আমদানিকারক ও তাদের এজেন্টরাই এ ধরনের পণ্যসামগ্রী বাংলাদেশ থেকে কিনে নেয়ার জন্য প্রায়ই অর্ডার দিয়ে থাকেন। অথচ পরিকল্পিত উদ্যোগ ও নগদ ইনসেনটিভের অভাবে রফতানি বাজারের সেই স্থানটুকু কব্জা করে নিচ্ছে ভারত, ভিয়েতনাম, চীন, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ভূটানসহ বিভিন্ন দেশ। এ অবস্থায় এখন কয়েকটি দেশে খুব সীমিত আকারে প্রায় সাড়ে তিন শ’ কোটি টাকার অল্পস্বল্প কিছু অপ্রচলিত পণ্য রফতানি করা হচ্ছে। তবে তা প্রকৃত বাজার চাহিদার বিপরীতে মামুলি মাত্র।
এদিকে ‘ফেলনা’, অপ্রচলিত অথবা কম প্রচলিত পণ্যসামগ্রী সীমিত পরিসরে রফতানি হচ্ছে কাগজে-কলমে। ‘কাজির গরু’র মতো রফতানিতে গোঁজামিল হচ্ছে। এ খাতে সরকারের দেয়া নগদ ভর্তুকি সুবিধার (ক্যাশ ইনসেনটিভ) অপব্যবহার করা হচ্ছে। অসৎ ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট রফতানি চালান ডকুমেন্টে মিথ্যা ঘোষণা, জালিয়াতি, কারচুপির করছে। ফলে রফতানি পরিমাণগত বৃদ্ধি পাচ্ছে না। বাজার সুবিধাও সঙ্কুচিত হয়ে আছে। অন্যদিকে মিয়ানমার, ভুটান, ভারত, মালয়েশিয়া, চীন, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসছে অপ্রচলিত ও অপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য ও গৃহস্থালী সামগ্রী। আচার, সচ, চিপস, বিস্কুট, চানাচুর, নুডুলস, লজেন্স-চকোলেট, কাপড়সহ অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আমদানিতে দেশের বড়সড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা অপচয় হচ্ছে। চোরাচালানেও আসছে এসব অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। দেশীয় পণ্যের উৎপাদন ও বাজার মার খাচ্ছে।
ফেলনা, অপ্রচলিত, কম প্রচলিত পণ্য রফতানিতে হরেক গোঁজামিলের কারণে রফতানি বহুমুখীকরণের টার্গেট বেহাত হচ্ছে। ঘোষণা মাফিক পণ্যসামগ্রী সরবরাহ না করে ভিন্ন ধরনের পণ্যের চালান শিপমেন্ট করা, গুণগত মান ও ওজনে কারচুপিসহ নানামুখী অনিয়মে আগাগোড়া জড়িত সংঘবদ্ধ একটি চক্র। এতে করে অপ্রচলিত দ্রব্য রফতানি বাজার প্রসারের লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে। রফতানি বহুমুখীকরণের জন্য অপ্রচলিত বা কম প্রচলিত পণ্য রফতানির পেছনে দেয়া নগদ সহায়তার কোটি কোটি টাকা যাচ্ছে সিন্ডিকেটের পকেটে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কর্মসংস্থান


আরও
আরও পড়ুন