Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮, ৫ কার্তিক ১৪২৫, ০৯ সফর ১৪৪০ হিজরী

ক্রিকেটপ্রেমী ভারত-পাকিস্তান দম্পতিরা দুবাইয়ে ‘বোল্ড’

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৫:৫৬ পিএম

আরব আমিরাতে যখন এশিয়া কাপ ক্রিকেটে দুই চির প্রতিদ্বন্দী ভারত পাকিস্তান মুখোমুখি, তখন সেখানকার কিছু পরিবার বিভক্ত তাদের সমর্থন নিয়ে। আরব আমিরাতে এমন অনেক পরিবার বসবাস করেন যারা দুইজন সীমানার দুইপাড়ের মানুষ। পাকিস্তানির জন্য ভারতের কিংবা ভারতীয়র জন্য পাকিস্তানের ভিসা পাওয়া কঠিন হওয়ার কারনে তারা আরব আমিরাতে বসবাস করাটাই সুবিধাজনক হিসেবে বেছে নেন। তিনটি যুদ্ধ ও ২০০৬ এ মুম্বাই হামলার পর দুই দেশের সম্পর্কে অনেক দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছে যার ফলে অনেক পরিবার সীমানা দিয়ে বিভক্ত হয়ে গেছে।
একটি বড় উদাহারন, ভারতের টেনিস খেলোয়ার সানিয়া মির্জা ও পাক ক্রিকেটার শোয়েব মালিক যারা দুবাইতে বসবাস করছেন।
আরব আমিরাতে বসবাসকারী অনেক দক্ষিন এশিয়ান পরিবারের মধ্যে একটি হচ্ছে ভারতের নাগরিক কাসিম ওয়াকিল ও তার স্ত্রী পাকিস্তানের মেয়ে গাজালা। তবে বিয়ে করার পর্বটা খুব সহজ ছিল না দু’জনের। কাসিমের কথায়, ‘আমাদের বিয়েই হত না, যদি আরব আমিরাতে না থাকতাম। গাজালা লাহোরের মেয়ে। আমি মুম্বাইয়ের। এই নিরপেক্ষ জায়গায় থাকি বলেই আমাদের সম্পর্কটা টিকে আছে।’
তবে বিয়ের এই পর্বটা শুরু হয়েছিল ক্রিকেট ম্যাচকে ঘিরে। আমিরশাহিতে পাকিস্তান–দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দেখতে এসেছিলেন গাজালার বাবা। গ্যালারিতেই আলাপ। কাসিমের কথায়, ‘সেই ছিল প্রথম ধাপ আমাদের সম্পর্কের।’ মানব সম্পদ বিভাগে কাজ করেন গাজালা। তাঁর কথায়, ‘এশিয়া কাপে ভারত–পাকিস্তানকে একসঙ্গে খেলতে দেখে অদ্ভুত এক নস্টালজিয়া কাজ করছে। মনে হচ্ছে, আমরা নিজের বাড়িতে আছি। দেশের আবহ অনুভব করছি। দু’দেশের ক্রিকেটারদের একসঙ্গে খেলতে দেখাটা গর্বের।’
একই রকম মনের অবস্থা শ্রীনগরের নাভিদ সিরাজ এবং তাঁর স্ত্রী নাইদার। নাইদা ইসলামাবাদের মেয়ে। বলেছেন, ‘নিরপেক্ষ দেশে ভারত–পাকিস্তান খেলায় আমরা চোখের সামনে সবাইকে দেখতে পাচ্ছি। প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করছি।’ দুবাইয়ের ট্যাক্সি ড্রাইভার সুনীল মনোহরের বাড়ি কর্ণাটকে। পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের মেয়ে নুনদাকে বিয়ে করেন। সুনীলের কথায়, ‘ক্রস বর্ডার পরিবারের জন্য আমিরশাহি সেরা জায়গা। এর আগে কিছু পরিবার পাকিস্তানেই আটকে থাকতে বাধ্য হতেন। কারণ ভারতে যাওয়ার ভিসা পাওয়া যেত না। এখানে ছবিটা আলাদা। আর ভারত–পাকিস্তানের ম্যাচ আমাদের উৎসাহিত করে দ্বিগুণভাবে।’
আনন্দ খুঁজে নিতে চাইলে, রাস্তা বেরিয়ে আসে। মনে কোনও ভেদের অনুভূতি না জাগলে, কোনও কাঁটাতারের বেড়া আলাদা করতে পারে না। ওঁরা সবাই বুঝিয়ে চলেছেন সেটাই। সূত্রঃ নিউজ রিপাবলিক।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ