Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

এক টুকরা সবুজের সমারোহ

রাজধানীতে বনসাই প্রদর্শনী

মালেক মল্লিক : | প্রকাশের সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

ইট-পাথরের নগরীতে বনসাই প্রদর্শনী যেন এক টুকরো সবুজের সমারোহ। কী নেই সেখানে? শিল্পী যেমন রঙ তুলি দিয়ে ছবি আঁকে বনসাই শিল্পীরাও অগভীর পাত্রে মাটি, গাছ দিয়ে পরিপূর্ণ শিল্প গড়ে তুলে। চারদিকে পরিপাটি নানা রকমের ছোট ছোট গাছ। প্রতিটি গাছেই রয়েছে এক মায়াবী ছোঁয়া। শিল্পিত হাতের পরশে প্রতিটি গাছের সৌন্দর্য যেন টানছে সকলকেই। যেন এক নৈসর্গিক দৃশ্য। ঘূর্ণি, তমাল, শ্যাওড়া, তুঁত, বট, পাকুর তেঁতুল, ডুমুর, লিচুবট, কৃষ্ণচূড়া, কামিনী, নিশিন্দা, লাইকর, ক্যাকটাসসহ আরও কত জানা অজানা গাছ ভেসে আসছে চোখের সামনে। এমন দৃশ্যেরই অবতারণা রাজধানীর বনসাই প্রদর্শনীতে। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে নানা বয়সী বনসাইপ্রেমীদের অংশ গ্রহণে মুখরিত হয়ে উঠে।
বনসাইয়ের প্রায় ২০০০ বছর পূর্বে চীনের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে জাপান, কোরিয়া ও ভিয়েতনামসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত হয়। বাংলাদেশেও বনসাই শিল্পীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বনসাইয়ের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহও বাড়ছে। আর এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে বাংলাদেশ বনসাই সোসাইটি। ১৯৯৯ সালে কয়েকজন শিল্পি গড়ে তোলেন বাংলাদেশ বনসাই সোসাইটি (বিবিএস)। প্রতি বছর আয়োজন করে আসছে বনসাই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং কর্মশালা। ধানমন্ডিস্থ ২৭ নম্বর সড়কের ২০ নম্বর বাসায় মহিলা ভলান্টারি এসোসিয়েশনের অডিটোরিয়ামে তিন দিনব্যাপী ২০তম বার্ষিক বনসাই প্রদর্শনী আয়োজন করে বনসাই সোসাইটি। গতকাল রোববার প্রদশর্নীর শেষ দিন ছিল। অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রদর্শনীর উদ্ধোধন করা হয়। সভাপতি নাজমা শফিকের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এশিয়াটিক এমসিএল এর কর্ণধার, বিশিষ্ট অভিনেতা, পরিচালক ও লেখক আলী যাকের। গেস্ট অব অনার ছিলেন বাংলাদেশের নিযুক্ত জাপান দূতাবাসের সাংস্কৃতিক বিভাগের প্রধান মিস. মাচিকো ইয়ামামুরা। চিল্পশিল্প ও লেখক আফজাল হোসেন ও সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনিসুল হকসহ সোসাইটির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। বনসাই সোসাইটির একাধিক প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন সিলেটের কুলাউড়া থেকে আগত বনসাই শিল্পী সেলিনা পারভীন লাভলী ইনকিলাবকে বলেন, সৎ ও ভাল মানুষ ছাড়া বনসাই তৈরি করা সম্ভব নয়। কারণ এইসব তৈরি করতে প্রয়োজন হয় অনেক ধৈর্যের। বনসাই সোসাইটির সভাপতি নাজমা শফিক ইনকিলাবকে বলেন, এবার আমাদের ২০তম বনসাই প্রদর্শনী শেষ হলো। প্রতি বছরের ন্যায় আমাদের সদস্যরা নিরলসভাবে খেটে প্রদর্শনীকে সার্থক করেছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতার রয়েছে। আমি আশা করব সরকার এই বিষয়টির দিকে সুনজর দিবেন। নাজমা শফিক আরো বলেন, ঢাকা শহর থেকে সবুজ হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বনসাই বাসাবাড়িতে সেই সবুজ ফিরিয়ে আনতে পারে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: প্রদর্শনী


আরও
আরও পড়ুন