Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, ৭ কার্তিক ১৪২৫, ১১ সফর ১৪৪০ হিজরী

ভাঙা সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

নড়াইল থেকে আতিয়ার রহমান : | প্রকাশের সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

‘মানুষ না মরলি ভাঙাচোরা সারবিনে নে। এ এটটা মরণফাঁদ।’ অতিকষ্টে সেতু পার হওয়ার সময় ক্ষোভের সঙ্গে কথা গুলো বললেন চোরখালী গ্রামের বৃদ্ধা তারা বিবি। কাশিপুর গ্রামের কলেজ পড়–য়া হোসেন শিকদার ও চোরখালী গ্রামের রবিউল মোল্লা গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে সেতু পার হতে গিয়ে সাইকেলসহ নদীতে পড়েছেন। হোসেন শিকদারের মাথা কেটে গেছে। এ ধরনের ছোটখাটো দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে নড়াইলের লোহাগড়া পৌর এলাকায় নবগঙ্গা নদীর উত্তর পাড়ে। এখানে রয়েছে লোহার কাঠামো এবং কাঠের পাটাতনের তৈরি একটি সেতু ; ৭মাস পূর্বে ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চললেও সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ মেরামতের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। সেতুটি সংস্কার না করায় পৌর এলাকাসহ উপজেলার অন্তত নয়টি গ্রামের মানুষজন চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
লোহাগড়া পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, কাঠ ও লোহার তৈরী এ সেতুটি ৯০ দশকে লোহাগড়া বাজার এলাকায় ছিল। পরে সেখানে ব্রীজ নির্মাণ করা হলে সেতুটিকে সরিয়ে এই এলাকায় স্থাপন করা হয়। সেতুটি প্রায় ৩০০ ফুটের মতো লম্বা।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সেতুটির দক্ষিণপাশ দিয়ে পাটাতনের প্রায় অর্ধেকাংশের অধিকাংশ কাঠই ভেঙে গেছে। যা আছে তার অধিকাংশই দুর্বল। পাটাতনের কাঠ ভেঙে জায়গায় জায়গায় অনেক ফাঁকা হয়ে গেছে। নিচের লোহার খুুঁটি ও ফ্রেমের অবস্থাও নড়বড়ে। মরিচা ধরে এর স্থায়িত্ব নেই বললেই চলে। সেতুতে ওঠার দুই পাশের মাটি অনেক নিচে নেমে গেছে। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন শত শত লোকজন পার হচ্ছেন।

ওই সেতুর পাশে দাঁড়িয়ে কথা হয় স্থানীয় চোরখালী গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা কওসার শেখ, ব্যবসায়ী সাহিদুর রহমান, কানাই দাস ও কাজল পাল, চাকুরিজীবী মো. সেলিম এবং কৃষক গোলাম সরোয়ারের সঙ্গে। তারা জানান, এ সেতুর কাছাকাছি দুইপাড়ে জয়পুর, চোরখালী, গোফাডাঙ্গা, ধোপাদহ, বাহিরপাড়া, নারানদিয়া, পুরুলিয়া, কচুবাড়িয়া ও রামপুর গ্রাম। সেতুর দক্ষিণপাড়ে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী এড়েন্দা বাজার। এ সব গ্রামের ব্যবসায়ী, কৃষিজীবী ও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য যেমন সেতুটি খুবই প্রয়োজনীয়, তেমনি শিক্ষার্থীদের এ সেতু পার হয়ে যেতে হয় কাশিপুর এসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, লক্ষীপাশা মহিলা ডিগ্রী কলেজ, লক্ষীপাশা আদর্শ বিদ্যালয় ও নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজসহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। লোহাগড়া ও নড়াইল সদরে যেতে সেতুটি খুবই দরকার। এ সেতু দিয়ে সাইকেল, মোটরসাইকেল, ভ্যান, টেম্পু, অটোরিকশা, নছিমনসহ এ ধরনের যানবাহন চলাচল করত। পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় এসব পরিবহন চলতে পারছে না।
লোহাগড়া পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম বলেন, সেতুটির বেহাল দশায় ওই এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছেন। এটির ৪৫ ফুট অংশ ভাঙাচোরা। মেরামতের জন্য পৌরসভা থেকে পরিকল্পনা ও হিসাব তৈরির কাজ চলছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ