Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১ পৌষ ১৪২৫, ৭ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

অভিযোগ প্রমানিত হলে কঠোর ব্যবস্থা

বিএসএমএমইউতে রোগীর দুটি কিডনী গায়েব

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১:০৫ এএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসকের ‘অসর্তকতা’য় চিকিৎসাধীন থাকা রোগীর দু’টি কিডনিই উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের জন্য বলা হয়েছে ভিসি প্রফেসর ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। তিনি ইনকিলাবকে বলেন, রোগীর সব রিপোর্ট দেখে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি ঘটনার তদন্ত করবে এবং অপরটি রোগী রওশন আরার চিকিৎসা করবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে রিপোর্ট প্রদানের জন্য বলা হয়েছে। ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, এ ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকদের মান সম্মানের বিষয় জড়িত। তাই অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রওশন আরার ডান কিডনিটি অস্ত্রোপচারের সময় কেটে ফেলা হয়েছে কিনা তা তদন্তে গঠিত কমিটিতে সাত জন সদস্য রয়েছেন। কমিটির প্রধান করা হয়েছে কিডনি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর হারুন-অর রশিদকে। এছাড়াও কমিটিতে আছেন- বিএসএমএমইউ’র ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর একেএম খুরশিদুল আলম, নেফ্রোলজি বিভাগের প্রফেসর অসীম কায়েস, রেডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান, সার্জারি বিভাগের ডিন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও বিএসএমএমইউ’র অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর আসাদুল ইসলাম। অপরদিকে রওশান আরার চিকিৎসায় গঠিত ছয় সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ডে আছেন-বিএসএমএমইউ’র ইউরোলজি বিভাগের প্রফেসর আনোয়ারুল ইসলাম, নেফ্রোলজি বিভাগের প্রফেসর শহিদুল ইসলাম সেলিম। সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর তৌহিদুল আলম, কার্ডিওলজি বিভাগের প্রফেসর হারিফুল হক, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর জলিল চৌধুরী এবং ইউরোলজি বিভাগের প্রফেসর মো. হাবিবুর রহমান।
কমিটি গঠন প্রসঙ্গে কিডনী গায়েব হওয়া রোগীর সন্তান চলচ্চিত্র পরিচালক রফিক শিকদারের বলেন, ‘তদন্ত রিপোর্টের ব্যাপারে আমার কোনো বিশ্বাস নেই আর। আমি আদালতে একটি রিট আবেদন করবো। মায়ের প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিচার চাই আমি। প্রয়োজনে সেই চিকিৎসকের চিকিৎসা কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখার জন্য বলবো।’
উল্লেখ্য, কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক রফিক শিকদারের মা রওশন আরা বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁর একটি কিডনি সারাতে গিয়ে আরেক কিডনিও হারাতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রফিক শিকদার। রফিক সিকদারের অভিযোগ বিএসএমএমইউ’র ইউরোলজি বিভাগের প্রফেসর ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল তার মায়ের বাম কিডনিটি অস্ত্রোপচার করে ফেলে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর সিটি স্ক্যান করে দেখা যায়, মায়ের শরীরে ডানের কিডনিটিও নেই। রওশন আরার বর্তমানে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।#



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।