Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১ পৌষ ১৪২৫, ৭ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

রাফায়েল ছাড়া বেকার হবে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৮:৫২ পিএম

রাফায়েল মিস হওয়ার পর হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের (এইচএএল) ৩০,০০০ হতাশ কর্মকর্তা ও স্টাফ চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। নতুন বিমানের কোন অর্ডার না থাকায় তিন বছরের মধ্যে তাদের উৎপাদন সক্ষমতা অলস অবস্থায় নষ্ট হবে। এরপর সেখানে কর্মরত বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বে।
পিএসইউ তাদের কাজের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ধারাবাহিকভাবে ‘এক্সিলেন্ট’ রেটিং পেয়ে আসছে। তারা রাফায়েল চুক্তিতে থাকছে না- এটা জানতে পারার পর এইচএএল রীতিমতো থমকে গেছে। বিশেষ করে যেহেতু তারা শুরু থেকেই রাফায়েল ক্রয় প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপের সাথে যুক্ত ছিল।
এইচএএল’র কর্মকর্তারা দ্য স্টেটসম্যানের কাছে বলেন, “আমরা জানি না, কোথায় সমস্যা হলো। শুরু থেকেই আমরা টেকনিক্যাল এবং সম্মিলিত দর কষাকষির প্রক্রিয়ার অংশ ছিলাম। হঠাৎ করেই আমরা আর এটার সাথে নেই। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী যে ১২৬টি রাফায়েল বিমান কেনা হবে, তার ১০৮টি নির্মাণ করার কথা আমাদের।”
অবসরপ্রাপ্ত এক শীর্ষ কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, “এটা আমাদের উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আগামী ১৫-২০ বছর চালু রাখতো। কিন্তু এখন বাদ পড়ার কারণে আমাদেরকে এখন কর্মক্ষমতা অলস নষ্ট করতে হবে”।
পিএসইউয়ের যখন হেলিকপ্টারের যথেষ্ট অর্ডার ছিল, তখন তারা বিমানের জন্য নতুন করে আর কোন অর্ডার পায়নি। অথচ তাদের সক্ষমতাকে ব্যবহারের জন্য এই অর্ডার তাদের দরকার।
এখন এটা একটা বড় উদ্বেগের বিষয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা বলেছেন, তিন বছরের মধ্যে পিএসিউ এসইউ-৩০ হেলিকপ্টারগুলো সরবরাহ করার পরই, তাদের সক্ষমতা অপচয় হতে থাকবে।
এলসিএ তৈরি এবং সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার পরও এ অবস্থার সৃষ্টি হবে। আগে যে উৎপাদন লাইন ‘হক’ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো এলসিএ’র জন্য দেয়া হয়েছে। বৃটেনের বিএইএসের লাইসেন্সের অধীনে হক এজেটিগুলো তৈরি করেছিল হাল। আর বিমানবাহিনীর কাছে প্রথম যানটি হস্তান্তর করা হয় ২০০৮ সালের আগস্টে।
ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য ৪২টি হক তৈরির কাজ ২০১০-১১ সালে শেষ হয় এবং এরপর আরও ৫৭টি সরবরাহ করা হয়। ২০১৬ সালের জুলাইয়ে সবগুলো হস্তান্তরের কাজ শেষ হয়। এইচএএল ডারিন-১১ স্ট্যান্ডার্ডের জাগুয়ার, এনএভিডাব্লিউএএসএস, মিগ-২১, মিগ-২৭, সি হ্যারিয়ার, চিতাহ এবং চেতাক হেলিকপ্টারগুলোর আপগ্রেডের বিষয়েও বিশেষ যোগ্যতা অর্জন করেছে।
এইচএএল খুব সহজেই রাফায়েল তৈরি করতে পারতো – বার বার এটা উল্লেখ করে অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা দাবি করেন যে, এইচএএল যেটা তৈরি করে, সেটার জন্য গ্যারান্টিও দিয়ে থাকে, শুধু ডিজাইন ঘাটতির ব্যাপারে কোন গ্যারান্টি থাকে না। কারণ এইচএএল এ যাবত মিরেজ, এলসিএ এবং হকসহ অনেক ধরনের আকাশযান তৈরি করেছে, যেগুলো এখনও দক্ষতার সাথে কাজ করছে। সূত্রঃ সাউথ এশিয়ান মনিটর।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।