Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮, ৫ কার্তিক ১৪২৫, ০৯ সফর ১৪৪০ হিজরী

২৯ সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার অনুমতি পাবে বিএনপি

ফারুক হোসাইন | প্রকাশের সময় : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:৩২ এএম

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকার, তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ বেশ কয়েকটি ইস্যুতে রাজধানীতে জনসভা করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়াপল্টনের সামনে জনসভার অনুমতির জন্য ইতোমধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে বিএনপি।
তবে সরকারের একটি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি ২৭ সেপ্টেম্বর জনসভার অনুমতি চাইলেও ওই দিন তাদেরকে জনসভার অনুমতি দেবে না সরকার। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রাজপথের প্রধান এই বিরোধী দলকে জনসভা করার অনুমতি দেয়া হবে বলে সূত্রটি জানায়। তবে ঠিক কী কারণে ২৭ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে ২৯ সেপ্টেম্বর জনসভার অনুমতি দেয়া হবে এ বিষয়ে সূত্রটি কিছুই জানায়নি।
সূত্রটি আরো জানায়, বিগত দিনে বিএনপির জনসভার অনুমতি শেষ মুহূর্তে দেয়া হলেও এবার কিছুটা আগেই পাবে। এছাড়া বিএনপি নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে বাধা প্রদান, পথে কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতা তৈরি কিংবা নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারের কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। সূত্রটি জানায় সরকারের শেষ সময়ে এসে বিএনপির জনসমর্থন যাচাই করতে চায় সরকার। এজন্য সোহরাওয়ার্দীর মত বড় একটি উন্মুক্ত স্থানে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে। এতে দলটির ডাকে বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কেমন হয় তা দেখতেই এই কৌশল নিচ্ছে সরকার। একই সাথে বিএনপিসহ বিরোধী দলকে জনসভা করার অনুমতি দেয়া হয় না বলে দেশে বিদেশে বিএনপি যে অভিযোগ করছে সে বিষয়টিকেও মিথ্যে প্রমাণ করতে চায় সরকার। এছাড়া নির্বাচনের আগে বিএনপির প্রতি সাধারণ মানুষের জনসমর্থন ও উপস্থিতি কৌশল নির্ধারণে ও সরকারের সহযোগী হবে বলে মনে করে সূত্রটি।
এদিকে বিএনপি’র একাধিক নেতা জানান, ২৭ সেপ্টেম্বর কিংবা ২৯ সেপ্টেম্বর যেদিনই বিএনপিকে জনসভার অনুমতি দেয়া হোক না কেন সেদিনই বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ এবং নেতাকর্মী উপস্থিত হয়ে বিএনপির দাবির প্রতি সমর্থন জানাবে এবং এই সরকারকে ‘না’ বলবেন। তারা মনে করেন, সরকার যদি বিএনপির জনসভায় কোনো ধরনের বাধা বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করে তাহলে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এবং নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকারের দাবিতে পুরো ঢাকা শহর জনসমুদ্রে পরিণত হবে।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, জনসভাটি সফল করার জন্য ইতোমধ্যে ঢাকা এবং এর আশপাশের জেলাগুলোর বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এজন্য ঢাকার এবং আশপাশের জেলাগুলোর নেতাদের নিয়ে বৈঠক করবে বিএনপি। সরকার বাধা দেবে এবং গ্রেফতার করতে পারে এসব বিষয় মাথায় রেখেই কৌশলীভাবে সমাবেশে উপস্থিত হওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেবে দলটির সিনিয়র নেতারা। বিএনপি সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ ইনকিলাবকে বলেন, বিএনপিকে জনসভার অনুমতি দেয়া হলে লাখো মানুষের ঢল নামবে। তাই সরকার ভীত হয়ে বিএনপিকে জনসভার অনুমতি দেয় না। তবে এবার অনুমতি পেলে বা না পেলেও বিএনপি জনসভা করবে এবং এই সরকারের সাথে সাধারণ মানুষ যে নেই সেটি সকলে জনসভায় উপস্থিত হয়ে প্রমাণ করবে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর এবং ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন জেলার সভাপতি সাধারণ সম্পাদককে জনসভাটি সফল করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জনসভা কীভাবে সফল করা যায় এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিতি হয় সেটি নিয়ে পরবর্তীতে নেতাদের সাথে বৈঠক করবেন সিনিয়র নেতারা।
দীর্ঘদিন পর সর্বশেষ গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি’র ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে জনসভা করার অনুমতি পায় দলটি। অল্প সময়ের মধ্যে অনুমতি পেয়ে জনসভায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি জনসভাকে সফল করে এবং নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করে তোলে। যদিও বিএনপির শীর্ষ নেতারা অভিযোগ করে আসছেন, ১ সেপ্টেম্বর জনসভার পর থেকেই বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ সারাদেশে হাজার হাজার ভুতুড়ে মামলা করা হচ্ছে এবং এসব মামলায় নেতাকর্মীদের আসামি ও গ্রেফতার করছে পুলিশ। জনসভায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখেই সরকার ভীত হয়ে দমন-পীড়নের নতুন কৌশল নিয়েছে।
অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, আমরা দলের পক্ষ থেকে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জনসভার জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়াপল্টনে অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করেছি। এখন পর্যন্ত অনুমতির বিষয়ে আমাদের কিছু জানানো হয়নি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ