Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯, ০৬ চৈত্র ১৪২৫, ১২ রজব ১৪৪০ হিজরী।

ভারত থেকে আসা ৮২ হাজার পরিবার পুনর্বাসিত হচ্ছে

অবহেলিত অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুরা

চট্টগ্রাম ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

তিন পার্বত্য জেলার গুচ্ছগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় মানবেতর জীবনযাপনকারী অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের বাদ দিয়ে ভারত প্রত্যাগত উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনে আরও কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যদিয়ে শেষ হলো ‘ভারত প্রত্যাগত শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসন’ সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের ৯ম সভা। গতকাল (মঙ্গলবার) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন টাস্কফোর্সের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।
সভায় সরকারি অর্থায়নে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান জেলার ৮২ হাজার ভারত প্রত্যাগত উদ্বাস্তু পরিবার পুনর্বাসনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়। এজন্য এ তিন পার্বত্য জেলার ৮১ হাজার ৭৭৭ পরিবারের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে সরকার গঠিত এ টাস্কফোর্স। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
অভিযোগ রয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিনের সংঘাতের ফলে যেসব বাঙ্গালি ও অ-উপজাতি উদ্বাস্তু হয়েছেন তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে না। শুরুতে তাদের রেশন দেয়া হলেও এখন তাও বন্ধ রয়েছে। গুচ্ছগ্রাম এবং নির্ধারিত কিছু এলাকায় তারা নিজ দেশে অনেকটা পরবাসী জীবনযাপন করছেন। অথচ ভারত থেকে প্রত্যাগতদের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। তবে টাস্কফোর্স সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির সুবাতাস ছড়িয়ে দিতে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। এখানে পাহাড়ি বা বাঙালি কোন ভেদাভেদ নেই। সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর এ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। সভায় পুনর্বাসনের জন্য ভারত থেকে প্রত্যাগত ২১ হাজার ৯০০ শরণার্থী পরিবারের তালিকাও অনুমোদন দিয়েছে টাস্কফোর্স। এছাড়াও উদ্বাস্তু ও শরণার্থীদের ঋণ মওকুফ, ফৌজদারী মামলা প্রত্যাহার, প্রত্যাগত উদ্বাস্তুদের চাকরিতে জ্যেষ্ঠতা প্রদান, রেশন দেয়া এবং টাস্কফোর্স সদস্যদের সম্মানি ভাতা নিয়ে আলোচনা করেন টাস্কফোর্স সদস্যরা।
উদ্বাস্তু ও শরণার্থীদের বিরুদ্ধে ৪৫১টি ফৌজদারী মামলা রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। এসব মামলার মধ্যে ৪৪৬টি মামলা ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাগত উদ্বাস্তুরা সরকারি চাকরিতে জ্যেষ্ঠতা সুবিধা ভোগ করছেন বলেও জানানো হয় সভায়। এতে বলা হয়, এ পর্যায়ের ২৬২ কর্মকর্তাদের মধ্যে ২৫৫ জন কর্মকর্তা জ্যেষ্ঠতা সুবিধা ভোগ করছেন। সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মানিক লাল বণিক, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান, স্থানীয় সরকারের বিভাগীয় পরিচালক দীপক চক্রবর্ত্তী, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: শরণার্থী

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ