Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, ৭ কার্তিক ১৪২৫, ১১ সফর ১৪৪০ হিজরী

সৌরবিদ্যুতে সেচ উন্নয়নের উদ্যোগ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০১ এএম

সৌরশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ জন্য ‘সৌরশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে ৮২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সৌর চালিত লো-লিফট পাম্প (এলএলপি) স্থাপন ও অন্যান্য সেচ অবকাঠামে নির্মাণের মাধ্যমে ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ভূ-উপরিস্থ পানি নির্ভর সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।

ফলে প্রতিবছর অতিরিক্ত প্রায় ১১ হাজার টন খাদ্য শস্য উৎপাদন, সেচ কাজে সৌর শক্তি ব্যবহারের মাধ্য বিদ্যুতের সাশ্রয় এবং বিদ্যুৎ সুবিধা নেই এমন এলাকায় সৌরশক্তি নির্ভর সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এরইমধ্যে প্রকল্পটির অনুমোদনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী সভায় এটি উপস্থাপন করা হতে পারে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)।

প্রকল্পটি দেশের ৩৪ জেলার ১৪১টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে। জেলাগুলো হচ্ছে, গাজীপুর, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রা²ণবাড়িয়া, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, যশোর, ঝিনাইদহ, বরিশাল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর এবং নেত্রকোনা জেলা। এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য সুবীর কিশোর চৌধুরী পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে একনেকের জন্য তৈরি সার-সংক্ষেপে বলেন, সৌরশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানি নির্ভর সেচ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেচ কাজে বিদ্যুতের সাশ্রয়সহ ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ওপর চাপ কমে যাবে। এসব বিবেচনায় প্রকল্পটি অনুমোদন যোগ্য।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কৃষি উৎপাদনে সেচ একটি অন্যতম প্রধান নিয়ামক। বোরো মৌসুমে মূলত বিদ্যুৎ ও ডিজেল চালিত গভীর অগভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহার করে সেচ দেওয়া হয়ে থাকে। অনেক সময় আমন মৌসুমে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাওয়ায় আমন চাষেও সম্পূরক সেচের প্রয়োজন হয়ে থাকে। এতে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বৃদ্ধিসহ বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদন ব্যয় বহুল হচ্ছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করার জন্য সেচ কাজে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহারসহ সৌরশক্তি নির্ভর সেচ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বিদ্যুতের সাশ্রয়সহ ফসলের চাষাবাদ লাভজনক করা প্রয়োজন। এ সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সৌর শক্তি চালিত লো-লিফট পাম্প স্থাপনের মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানি নির্ভর সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সেচ কাজে বিদ্যুতের ব্যবহার সাশ্রয়সহ ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ওপর চাপ কমে যাবে, যা পরিবেশের ভারসাম্য উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া, বিদ্যুতের অভাবে যেসব এলাকায় সেচ কার্যক্রম বিঘিœত হচ্ছে সেসব এলাকাতেও সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।
প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম গুলো হচ্ছে, ২০০টি সৌরশক্তি চালিত লো-লিফট পাম্প, ২০০টি এলএলপির জন্য ভূ-গর্ভস্থ সেচ নালা নির্মাণ, ২০০টি এলএলপির জন্য পাম্প হাউজ নির্মাণ, ২০০টি এলএলপির জন্য ফিতা পাইপ ক্রয়, ৫০টি সৌরশক্তি চালিত পাতকূয়া নির্মাণ এবং ৫০টি ড্রিপ ইরিগেশন স্থাপন করা হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ