Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ২ কার্তিক ১৪২৫, ০৬ সফর ১৪৪০ হিজরী

প্রসঙ্গ আহলে বাইত একটি সমীক্ষা

এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুন্শী | প্রকাশের সময় : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০১ এএম

‘আহলে বাইত’ শব্দদ্বয় আরবি। এর দ্বারা স্ত্রী-সন্তান সন্ততি ও পরিবারকে বোঝায়। (ক) আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে : ‘তারা (ফিরিশতাগণ) বললেন, আল্লাহর কাজে তুমি (ইব্রাহীমের স্ত্রী) বিস্ময়বোধ করছ? হে পরিবারবর্গ, তোমাদের প্রতি রয়েছে আল্লাহর অনুগ্রহ ও কল্যাণ, তিনি প্রশংসাভাজন ও সম্মানিত। (সূরা হুদ : আয়াত ৭৩)। এই আয়াতে আহলে বাইত বলতে হজরত ইব্রাহীম আ.-এর পরিবারবর্গকে বোঝানো হয়েছে। (খ) আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে : ‘পূর্ব থেকেই আমি ধাত্রীস্তন্য পানে তাকে (মূসাকে) বিরত রেখেছিলাম। মূসার ভগ্নি বলল, আমি কি তোমাদেরকে এমন এক আহলে বাইতের সন্ধান দেবো যারা তোমাদের হয়ে তাকে লালন পালন করবে এবং তার মঙ্গলকামী হবে? (সূরা কাসাস : আয়াত ১২)। এখানে আহলে বাইত বলতে হজরত মূসা আ.-এর পিতৃ-মাতৃ সমৃদ্ধ পরিবারের কথা বলা হয়েছে। (গ) আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে : ‘হে নবী পরিবার, আল্লাহ তো কেবল তোমাদের হতে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে চান। (সূরা আহযাব : আয়াত ৩৩)। এই আয়াতে আহলে বাইত বলতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পরিবারকে বোঝানো হয়েছে। এদের মধ্যে শামিল রয়েছেন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র সহধর্মিণীগণ, তিন পুত্র চার কন্যা ও কন্যার বংশধরগণ। (তাফসিরে হাশিয়ায়ে শাইখ যাদাহ: খন্ড ৬, পৃ. ৬৩৫)। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সহধর্মিণীগণের সংখ্যা ১১ জন। তাদের মধ্যে দুইজন রাসূল (সা.)-এর জীবদ্দশাতেই ইন্তেকাল করেছেন। এক. হজরত খাদিজাতুল কুবরা রা., দুই. হজরত যায়নাব বিনতে খুজাইমাহ রা.। ৯ জন স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের সময় জীবিত ছিলেন। নিম্নে ধারাবাহিকভাবে তাদের নাম উপস্থাপন করা হলো- (১) হজরত খাদিজাতুল কুবরা রা., (২) হজরত সাওদাহ রা., (৩) হজরত আয়েশা রা., (৩) হজরত হাফসা রা., (৫) হজরত যায়নাব বিনতে খুজাইমাহ রা., (৬) হজরত উম্মে সালমা রা., (৭) হজরত যায়নাব বিনতে জাহাশ রা., (৮) হজরত যুয়াইরিয়্যাহ রা., (৯) হজরত উম্মে হাবিবাহ রা., (১০) হজরত সাফিয়্যাহ রা., (১১) হজরত মাইমুনাহ রা.। এদের ছাড়া রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর তিনজন দাসী ছিলেন। (১) হজরত মারিয়া রা., (২) হজরত রায়হানা রা., (৩) হজরত নাফিসা রা.।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর তিনজন সাহেবজাদার নাম হলো : (১) হজরত কাসিম রা., (২) হজরত আব্দুল্লাহ রা. (যাকে তাহির ও তাইয়্যিবও বলা হয়)। কারো কারো মতে তারা ছিলেন পৃথক সন্তান। (৩) হজরত ইব্রাহীম রা.। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কন্যাগণের নাম হলো : (১) হজরত যায়নাব রা., (২) হজরত রুকাইয়্যাহ রা., (৩) হজরত উম্মে কুলসুম রা., (৪) হজরত ফাতিমা রা.। সকল কন্যাই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের বিয়ে-শাদী হয়েছিল। হজরত ফাতিমা রা. ছাড়া তিন কন্যা তাঁর জীবদ্দশাতেই ইহলোক ত্যাগ করেন। রাসূল তনয় হজরত ইব্রাহীম ব্যতীত তার অন্য সকল সন্তান হজরত খাদিজা রা.-এর গর্ভজাত। ছেলে ইব্রাহীম রা. তাঁর দাসী হজরত মারিয়া কিবতিয়া রা.-এর গর্ভে জন্মলাভ করেন। হজরত ফাতিমা রা. ছাড়া অন্য কোনো সন্তানের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বংশধারা বিস্তার লাভ করেনি।
রাসূলুল্লাহ (সা.) আহলে বাইতকে হজরত নূহ আ.-এর কিস্তির সাথে দৃষ্টান্ত দিয়েছেন। যে ব্যক্তি নূহের কিস্তিতে স্থান লাভ করেছে সে মুক্তি পেয়েছে। আর যে তাতে আরোহণ করতে পারেনি সে ধ্বংস হয়েছে। হজরত আবু যর রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, আমার আহলে বাইত নূহের কিস্তির সমতুল্য। যে তাতে আরোহণ করছে সে মুক্তি পেয়েছে। আর যে পিছলে পড়েছে সে ডুবে মরেছে। (মুস্তাদরাকে হাকেম : খন্ড ১, পৃ. ৩৩৪; খন্ড ৪, পৃ. ১২৪৩)। অনুরূপভাবে যে আহলে বাইতকে ভালোবাসতে পেরেছে সে মুক্তি পেয়েছে। আর যে আহলে বাইতের প্রতি শত্রু তা পোষণ করেছে সে পথভ্রষ্ট হয়েছে।



 

Show all comments
  • মামুন ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৩:১৬ এএম says : 0
    তথ্য সমৃদ্ধ এই লেখাটির জন্য হুজুরকে ধন্যবাদ
    Total Reply(0) Reply
  • সাজ্জাদ ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৩:১৭ এএম says : 0
    আল্লাহ আমাদেরকে কোরআন ও হাদিসের আলোকে চলার তৌফিক দান করুক
    Total Reply(0) Reply
  • সাইফ ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১০:০৯ এএম says : 0
    আল্লাহ লেখক সাহেবকে এবং ইনকিলাব সংশ্লিষ্ট সকলকে এর উত্তম প্রতিধান প্রধান করুন। উল্লেখিত হাদিস দয় ছাড়াও আরো অনেক হাদিস আছে যেখানে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর পরিবার বর্গের বিশেষ করে মাওলা আলি শেরে খোদা (রাঃ), মা ফাতিমা (রাঃ) হযরত হাসান এবং হুসাইন (রাঃ) এর নাম নিয়ে তারে মর্যাদা সম্পর্কে বলেছেন, ইমাম বোখারি (রাঃ) তো তাঁর সাহিহ বোখারিতে, একটা অধ্যায় রছনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন "হুব্বে আহলে বাইত মিনাল ঈমান" অর্থাৎ আহলে বাইতে কে ভালো বাসাই ঈমান। আল্লাহ আমাদের সকলকে হিদায়েত নসিব করুন।
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammad amdadul Haq ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১০:৪৪ এএম says : 1
    Al-hamdulillah, very informative statement
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃ আব্দুল কাদির ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১:১০ পিএম says : 1
    মহান আল্লাহতায়ালা যেন আমাদেরকে আহলে বায়াত এর মহব্বত নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে পারি এই তৌফিক দান করেন। আমরা যেন সদা সর্বদা আহলে বাইতকে ভালো বাসতে পারি দয়াময়ের দরবারে এই কামনা রইলো, আমিন।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ