Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ৪ কার্তিক ১৪২৫, ০৮ সফর ১৪৪০ হিজরী

কথিত ‘অবৈধ বাংলাদেশীদের’ বিজেপি এক নম্বর শত্রু বানাতে চায়

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০১ এএম

কথিত ‘অবৈধ বাংলাদেশী’দের এক নম্বর শত্রু বানানোর পরিকল্পনা নিয়েছে ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। এরই মধ্যে বিজেপি প্রধান অমিত শাহ ভারতে বসবাসকারী কথিত ‘বাংলাদেশী’দেরকে উইপোকা বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ নিয়ে রাজনীতিতে এক আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক সম্পাদকীয়তে এ কথা বলা হয়েছে। ২৫শে সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘ফিয়ার সাইকোসিস : অমিত শাহ’স এন্টি-বাংলাদেশী পিচ ওন্ট হেল্প ডমেস্টিক পলিটিক্স অর ফরেন পলিসি’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে আরো বলা হয়েছে, আশা ও উন্নয়নসহ ইতিবাচক বার্তার ওপর ভর করে ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনে জয় পেয়েছে বিজেপি। আসন্ন ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাতির কাছে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ স্কিম ও স্বাস্থ্য বিষয়ক স্কিম বিষয়ে বিবৃতি জাতিগোষ্ঠী অথবা সম্প্রদায়কে অতিক্রম করে গেছে। এসবই ওই একই লাইনের। বিজেপি প্রেসিডেন্ট অমিত শাহ এরই মধ্যে অভিবাসীদেরকে অনুপ্রবেশকারী ও উইপোকা বলে আখ্যায়িত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি রাজনীতিতে আতঙ্ক ও মস্তিষ্কবিকৃতির মতো ঘটনার বিতর্ক সৃষ্টি করে দিয়েছেন।
ব্যতিক্রমী বিষয় হলো, অমিত শাহ বলেছেন, কয়েক কোটি ‘অনুপ্রবেশকারী’ প্রবেশ করেছে ভারতে। আর ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিজেপি তাদের প্রত্যেককে সনাক্ত করবে। এ বিষয়ে অমিত শাহ’র বার বার বক্তব্য, বিবৃতি এটাই বুঝিয়ে দেয় যে, কথিত ‘অবৈধ বাংলাদেশী’দেরকে বিজেপি এক নম্বর শত্রু বানানোর পরিকল্পনা করছে। আর এই ইস্যুতে সব কিছু অর্জনের চেষ্টা করছে। অমিত শাহের এই নেতিবাচক কৌশলকে তুলনা করা যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরিত্রের সঙ্গে। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে মেক্সিকানদেরকে ‘ধর্ষক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যদি এই ধারণা (বাংলাদেশী বিরোধিতা) বিজেপির নির্বাচনী সমর্থনের ভিত্তি হয় তাহলে তার ভবিষ্যত অন্য কিছু হবে না, যেমনটি হয়েছে ট্রাম্পের বর্তমান জনপ্রিয়তা কমে গেছে। শুধু এমন কৌশল নিম্নদিকেই ধাবিত করে। ২০১৯ সালে শুধু প্রকৃত ভোটই (কোর ভোট) বিজেপির জেতার জন্য যথেষ্ট হবে না।
এ ছাড়াও অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে অমিত শাহ যে তিরস্কারমূলক কথাবার্তা বলছেন তা হয়ে উঠবে এক প্রতারণাপ‚র্ণ কৌশল এবং বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্কের ক্ষতি করবে। যদিও কোনো প্রমাণ নেই যে, কয়েক কোটি কথিত অবৈধ বাংলাদেশী ভারতে বসবাস করছেন, তারপরও যদি অমিত শাহের বিবৃতিকে সত্য ধরে নেয়া হয় তাহলে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়। তাহলো এসব মানুষকে নিয়ে কী করা হবে। ভারত তো চীন নয়, তাদের (বাংলাদেশী) সবাইকে নিয়ে একটি বন্দি শিবিরে খোয়াড়ে আটকে রাখা যাবে। এ দেশটির (ভারতের) একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান আছে। ১৯৭২ সালের পর ভারতে ব্যাপক হারে অভিবাসনের বিষয়টি যেমন স্বীকার করে না বাংলাদেশ, তেমনি ভারত যাদেরকে ফেরত পাঠাতে চায় তাদের কাউকে গ্রহণ করবে দেশটি তেমনটি বিশ্বাস করা কঠিন। এ হলো চরম এক বাস্তবতা যা থেকে দ‚রে সরে থাকা যায় না।
অমিত শাহের ‘উইপোকা’ মন্তব্যে এরই মধ্যে ক্রোধের সঙ্গে মনোযোগ আকৃষ্ট হয়েছে ঢাকার। ঢাকা এ ধরনের মন্তব্যকে দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যায়িত করেছে। সম্ভবত বর্তমানে প্রতিবেশীদের মধ্যে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যাদের সঙ্গে ভারতের চমৎকার সম্পর্ক বিদ্যমান। এর কৃতিত্ব যায় ঢাকায় আওয়ামী লীগের প্রতি। কিন্তু বিজেপি যদি তার বাংলাদেশী বিরোধী অপবাদের প্রচারণা অব্যাহত রাখে তাহলে তাতে বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আওয়ামী লীগ। তাতে ভারত ও বাংলাদেশের ভবিষ্যত সম্পর্ক সন্দিহান হয়ে পড়বে। নিজেদের ভিতরে শত্রু খোঁজার অশুভ তৎপরতা অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা পররাষ্ট্রনীতি কোনোটির জন্যই সহায়ক নয়। এর পরিণাম হতে পারে বিজেপির জন্য আত্মঘাতী গোল।



 

Show all comments
  • নুরুল আমিন ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:৫১ এএম says : 0
    বাংলাদেশীদেরকে বিজেপির সভাপতি "ঊইপোকা " বলেছেন।আমাদের দেশের কোন রাজনৈতিক দল কিংবা সরকারের পক্ষ হতে কোন প্রতিক্রিয়া আজো অন্তত আমার নজরে পরেনি।প্রতিবেশী দেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সভাপতির বক্তব্য কি তার দেশের সরকারের বক্তব্যের প্রতিফলন নয়?
    Total Reply(0) Reply
  • Billal Hosen ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৪:৫৩ পিএম says : 0
    আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, «مَنْ نَفَّسَ عَنْ مُؤْمِنٍ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا نَفَّسَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَمَنْ يَسَّرَ عَلَى مُعْسِرٍ يَسَّرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فِى الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ فِى الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَاللَّهُ فِى عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِى عَوْنِ أَخِيهِ». ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের পার্থিব কষ্টসমূহ থেকে কোনো কষ্ট দূর করবে কিয়ামতের কষ্টসমূহ থেকে আল্লাহ তার একটি কষ্ট দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবীকে দুনিয়াতে ছাড় দেবে আল্লাহ তা‘আলা তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে তাকে ছাড় দেবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। আর আল্লাহ তা‘আলা বান্দার সাহায্যে থাকেন যতক্ষণ সে তার ভাইয়ের সাহায্য করে যায়।’ [মুসলিম : ৭০২৮; আবূ দাঊদ : ৪৯৪৮; তিরমিযী : ১৪২৫] অপর হাদীসে রয়েছে, প্রখ্যাত সাহাবী আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, لاَ وَاللَّهِ لاَ يُؤْمِنُ ، لاَ وَاللَّهِ لاَ يُؤْمِنُ ، لاَ وَاللَّهِ لاَ يُؤْمِنُ قَالُوا : وَمَنْ ذَاكَ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ : جَارٌ لاَ يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ ، قِيلَ : وَمَا بَوَائِقُهُ ؟ قَالَ : شَرُّهُ. ‘না, আল্লাহর কসম সে ঈমান আনে নি’; ‘না, আল্লাহর কসম সে ঈমান আনে নি’; ‘না, আল্লাহর কসম সে ঈমান আনে নি’। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, তারা কারা হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন, ‘সেই ব্যক্তি যার হঠকারিতা থেকে প্রতিবেশি নিরাপদ নয়।’ জিজ্ঞেস করা হলো, হঠকারিতা কী? তিনি বললেন, ‘তার অনিষ্ট বা জুলুম’। [মুসনাদ আহমদ : ৮৪১৩; মুসনাদ বাযযার : ২০২৬] বলাবাহুল্য আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদের অপচয় করা অথচ নিকটস্থ অসহায়ের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করাও এক ধরনের জুলুম। একে অপরকে সাহায্য করা, একে অন্যকে যৎসামান্য হলেও কিছু দেয়াও তাই গুরুত্বপূর্ণ। প্রখ্যাত সাহাবী আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, «يَا نِسَاءَ الْمُسْلِمَاتِ لاَ تَحْقِرَنَّ جَارَةٌ لِجَارَتِهَا وَلَوْ فِرْسِنَ شَاةٍ». ‘হে মুসলিম নারীগণ, এক প্রতিবেশি যেন তার অপর প্রতিবেশির পাঠানো দানকে তুচ্ছজ্ঞান না করে, যদিও তা ছাগলের পায়ের একটি ক্ষুর হয়।’ [বুখারী : ২৫৬৬; মুসলিম : ২২৬]
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ