Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১০ মাঘ ১৪২৫, ১৬ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

জাতিসংঘ ভাষণে সু চির তীব্র সমালোচনায় মাহাথির

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৬:১৬ পিএম

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সরকারি বাহিনীর চালানো হত্যাযজ্ঞ এবং উপদেষ্টা অং সান সু চি ও ডি-ফ্যাক্টো সরকারের এই নিধনযজ্ঞ অস্বীকার করা বিষয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া তার বক্তব্যে রোহিঙ্গা প্রশ্নে এসব সমালোচনা করেছেন মাহাথির।

মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বারবার বিষয়টিকে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবেও দাবি করার প্রেক্ষাপটে আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক বলেন, “স্বাধীন রাষ্ট্র হলেই নিজ দেশের জনগণের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানো যায় না।”

গত বছর রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ।

মাহাথির রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের প্রশ্নে তার ভাষণে বলেন, “আমি কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে হস্তক্ষেপের বিরোধী। কিন্তু পুরো দুনিয়া কী নীরব দর্শক হয়ে বসে বসে একটি হত্যাযজ্ঞ দেখবে এবং কিছুই করবে না?” তিনি বলেন, “দেশগুলো স্বাধীন। কিন্তু তার মানে কি এই যে, স্বাধীন বলেই নিজ দেশের জনগণের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানোর অধিকার তাদের রয়েছে!”

মাহাথির বলেন, মিয়ানমার সরকারের কর্মকাণ্ডে দেশটিতে প্রাণহানি, বাড়িঘর ধ্বংস করে দেওয়া এবং নিজ দেশের মানুষকে বাস্তুচ্যুত করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু দেশটির নেত্রী অং সান সু চি এসব অস্বীকার করছেন।

রাখাইনের সহিংসতাকে জাতিগত নিধন আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ আখ্যা দিয়েছে। জাতিসংঘ এরইমধ্যে নিধনযজ্ঞের আলামত সংগ্রহ শুরু করেছে। তবে এইসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার।

১৫ বছর পর শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন মাহাথির মোহাম্মদ। ভাষণে ১৫ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে বিশ্বের পরিস্থিতি আরও খারাপ হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্ব সংস্থাটিতে সংস্কারের আহ্বান জানান তিনি। কথা বলেন রোহিঙ্গা ইস্যু, ফিলিস্তিন পরিস্থিতি, বিশ্বায়ন, বাণিজ্য যুদ্ধ, মালয়েশিয়ার অগ্রগতিসহ নানা বিষয়ে। জাতিসংঘের মহৎ লক্ষ্যগুলো অর্জনে মালয়েশিয়ার পূর্ণ সমর্থন ও সহায়তারও অঙ্গীকার করেন তিনি। নিজের বক্তব্যে ২০১৮ সালের আগস্টে মৃত্যুবরণ করা জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মাহাথির। সূত্র: চ্যানেল নিউজ এশিয়া।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ