Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

বছরে ২ শতাংশ হারে দারিদ্র্য কমছে সংসদকে পরিকল্পনামন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ২৬ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১২:৫৬ এএম, ২৬ এপ্রিল, ২০১৬

স্টাফ রিপোর্টার
সরকারের সার্বিক প্রচেষ্টায় প্রতিবছর প্রায় ২ শতাংশ (১ দশমিক ৭৪ শতাংশ) হারে দারিদ্র্য কমে আসছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
সোমবার বিকেলে দশম জাতীয় সংসদের দশম অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মতিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মুস্তফা কামাল বলেন, দারিদ্র্য হ্রাসে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্জিত গতিশীলতা এবং হত-দরিদ্যদের জন্য টেকসই নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাধ্যমে জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা, অতি দরিদ্র ও দুস্থদের জন্য বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণসহ একাধিক কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ ছাড়া দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ, ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠির পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থ বছরে (২০১৫-১৬) সামাজিক নিরাপত্তার জন্য ১৪০টি কর্মসূচি চলমান রয়েছে। এ সব কর্মসূচির আওতায় ৩৭ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের প্রায় ১২ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং জিডিপির ২ দশমিক ১৯ শতাংশ।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমামের সম্প্রতি বাংলাদেশের ৭ দশমিক শূন্য ৫ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন এটা কতটুক যৌক্তিক? এমন এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমি যা বলি তা কোন অ্যাজামশন থেকে বলি না। ‘আই টক বেইজ অন ফ্যাক্ট’। আমি যা বলি সেটাই আসল জিনিস।
পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, কিছুদিন আগে বিশ্ব ব্যাংক বলছে ৬ দশমিক ৩০ ভাগ অর্জন করতে পারবো, এর কিছুদিন পর তারাই আবার বলেছে বলেছে ৬ দশমিক ৬০ ভাগ। আইএমএফ বলেছে ৬ দশমিক ৭০ ভাগ, এডিপি বলেছে ৬ দশমিক ৭০, আর হংকং সাংহাই ব্যাংক বলেছে এই বছর আমরা ৭ ভাগ অর্জন করতে পারবো। এরা আমাদের দাতাগোষ্ঠী। তারা তাদের নিজস্ব প্রজেকশন থেকে এসব কথা বলে। কিন্তু যা বলবো সেটা হলো আসল জিনিস।
তিনি বলেন, হোয়েন আই টক, আই টক বেইজ অন ফ্যাক্ট। আমি বলি পরিসংখ্যান ব্যুরোতে যে ডাটা মেইনটেইন করা হয়, সেই তথ্য থেকে। সেটি হচ্ছে আসল জিনিস। আমি যে তথ্য দেই সেগুলো অনুমান নির্ভর না, ডাটার ভিত্তিতেই তথ্য দেই।
মুস্তফা কামাল বলেন, আমি বেইজ অন অ্যাজামশন থেকে কোনো কোন তথ্য দেই না। সেখানে কোন তথ্যের পরিবর্তন করা হয় না। তবে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ কারো সাথেই আমাদের তথ্যের অমিল হবে না। বরং মিল হবে বছরান্তে, সেটা আমরা দেখতে পাবো।
সরকার দলীয় সদস্য আব্দুল মান্নানের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের। আমাদের বিনিয়োগের পরিমাণ কমেনি।
বিনিয়োগের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এখন থেকে ৬ বছর আগে আমাদের বিনিয়োগ ছিল ২৭ ভাগ, এখন বেড়ে তা দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৮৯ ভাগ। আমাদের সরকার দায়িত্ব নেয়ার সময় ২০০৮-০৯ সালে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২৩ বিলিয়ন ডলার, এখন তা দাঁড়িয়েছে ৬৪ বিলিয়ন ডলার। তবে প্রাইভেট সেক্টরে কয়েক পয়েন্ট কমেছে, যেটা কমেছে সেটা পাবলিক কভার করেছে।
মন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বেই প্রাইভেট সেক্টর একটু স্লো হয় তখন সরকারকেই চালকের আসনে বসতে হয়। সেই কাজটিই বাংলাদেশ সরকার করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় এডিপি বাস্তবায়নের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা। গতবার আমরা বাস্তবায়ন করেছি ৭৫ হাজার কোটি, এবার বাস্তবায়ন করবো ৯৪ হাজার কোটি টাকা। তাই আমাদের বিনিয়োগ কমেনি।
সীমান্তে ৪ বছরে ১৪৬ বাংলাদেশি হত্যা -সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সিলেট ৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও সে দেশের নাগরিক কর্তৃক ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সালের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১৪৬ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএসএফ কর্তৃক ১০৯ জন এবং ভারতীয় নাগরিক কর্তৃক ৩৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে। তবে সীমান্ত হত্যাকান্ড বন্ধে জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণসহ সীমান্তে বিজিবি টহল জোরদারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিএসএফ এর হাতে কোন বাংলাদেশি আটক হলে তাকে হত্যা বা আহত না করে বিদ্যমান সিবিএমপি অনুযায়ী বিজিবির হাতে সোপর্দ করা হলে অবৈধ পারাপারসহ সকল প্রকার অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন বিজিবি মহাপরিচালক।
এ প্রসঙ্গে বিগত ২০১৪, ২০১৫ এবং চলতি বছর বিজিবি’র হাতে আটক যথাক্রমে ২০৯, ১৭৪ ও ৪০ জন ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফ এর হাতে হস্তান্তর করার কথা উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ