Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯, ০৮ চৈত্র ১৪২৫, ১৪ রজব ১৪৪০ হিজরী।

যানচলাচল বন্ধ : অ্যাম্বুলেন্সসহ ভোগান্তিতে মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৬ অক্টোবর, ২০১৮, ১২:২৬ এএম

রাজধানীর উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকায় মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজের জন্য মাটি খোঁড়ার সময় তিতাসের গ্যাসের মূল লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ গ্যাস উদগীরণ হওয়ায় রাস্তার উভয়পাশের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় উত্তরাসহ আশপাশের পুরো এলাকা এবং ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে ব্যাপক যানজট দেখা দিয়েছে। গতকাল রাত সোয়া ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড এবং সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেডের সঙ্গে মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজের জন্য সরকারের চুক্তি হয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন দেশে মেট্রোরেলসহ সড়ক নির্মাণের সময় কাজে অবহেলাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
এদিকে, গ্যাস লাইন কেটে যাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেও ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের কোনো গাড়ি বা উদ্ধারকর্মী না আসায় চরম ক্ষোভ দেখা দেয় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, যেভাবে বিকট শব্দ হয়েছে। তাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। অথচ ঘটনার অনেক পড়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস এসে পৌঁছায়। এছাড়া এত বড় ঘটনা ঘটলেও তিতাসের সংশ্লিষ্ট কোন কর্মীকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের পরিদর্শক আতাউর রহমান জানান, রাত পৌনে ৯টার দিকে সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, গ্যাসের লাইন মেরামতসহ পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণের কাজ তিতাসের। তবে অগ্নিকান্ডসহ যে দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য আগাম সতর্কতা হিসেবে ফায়ার সার্ভিসকে ঘটনাস্থলে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেট্রোরেলের জন্য মাটি খোঁড়ার কাজ চলাকালীন রাত সোয়া ৮টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে আওয়াজ শোনা যায়। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন যে, তিতাসের গ্যাসের মূল লাইনটি কেটে গিয়ে সেখান থেকে অনেক জোড় গতিতে গ্যাস বের হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ঘটনার পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে এবং রাস্তার উভয় পাশে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে ঘরে ফেরা মানুষেরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্যাস লাইন কেটে যাওয়ার পরে এক ঘন্টার মধ্যেও ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের কোন গাড়ি বা উদ্ধারকর্মীকে দেখা যায়নি। তারা বলেন, অনেক বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। আল্লাহ বাঁচিয়েছেন বলে রক্ষা পাওয়া গেছে।
মাহমুদা বেগম নামে এক গৃহবধূ বলেন, দুর্ঘটনার পর গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। চুলায় রান্না চলছে এমন সময় গ্যাস চলে যাওয়ায় মারাত্মক বিপদে পড়েন তিনি। তার স্বামীকে বাইরে থেকে খাবার আনতে পাঠিয়েছেন।
ওসমান আলী নামে এক বাসীন্দা বলেন, কোন পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়া যাচ্ছেতাইভাবে কাজ করলে এমন হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পুরো দেশটা চোরদের দখলে চলে গেছে। সব জায়গায় অদক্ষ লোকদের বসিয়ে রাখা হয়েছে। অতি দ্রুত গ্যাস লাইন সংস্কার করা না হলে অনেক বড় বিপদ হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
এদিকে ঘটনার পর গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকেও রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, রাস্তা বন্ধ থাকায় গাজীপুর থেকে ঢাকাগামী কোন যানবাহন রাজধানীতে ঢুকতে পারছে না। একইভাবে রাজধানী থেকে উত্তরা হয়ে কোন গাড়ি ঢাকার বাইরে যেতে পারছে না। ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ আশপাশের সব সড়ক এক কথায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
এনা পরিবহনের যাত্রী হালিম শেখ বলেন, দুই ঘন্টা ধরে বসে আছি। বাস এক জায়গাতেই স্থির আছে। রাতের মধ্যে ময়মনসিংহ পৌঁছানো নিয়ে তিনি শঙ্কায় রয়েছেন।
শেরপুরে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চালক খলিল মিয়া বলেন, ছোট বেলা থেকে শুধু উন্নয়নের কথা শুনে যাচ্ছি। কখনো উন্নয়ন ভোগ করতে পারলাম না। যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়া কাজ করায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কখনো শেষ হয় না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আলিমুজ্জামান বলেন, নকশা সামনে রেখে কাজ করলে তো এত বড় দুর্ঘটনা ঘটতো না। মাটির নিচে কোথায় কী আছেস সেটি না দেখে কাজ করলে এমন ঘটনা কখনো বন্ধ হবে না।
ট্রাকচালক হাবিবুল্লাহ বাহার বলেন, এমনিতে খোঁড়াখুড়িতে ১০ মিনিটের পথ যেতে এক থেকে দেড় ঘন্টা লাগে। যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে রাতের মধ্যে হয়তো গাজীপুর অতিক্রম করা যাবে না।
উত্তরা থানার ওসি আলী হোসেন খান বলেন, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে রাস্তার উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। ওসি বলেন, এত বড় দুর্ঘটনা অথচ ঘটনাস্থলে দ্রুততর সময়ের মধ্যে তিতাসের সংশ্লিষ্ট কোন কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি। তিনি বলেন, গ্যাস বের হয়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। খুব দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
ঢাকা সিটি করপোরেশন (উত্তর) তিতাসের ডিউটি অপারেটর আলতাফ হোসেন বলেন, বড় ড্রিল মেশিন দিয়ে মেট্রোরেলের মাটি খোঁড়ার কাজ করায় তিতাসের গ্যাসের মূল লাইনটি কেটে গেছে। ঘটনাস্থলে তিতাশের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও কর্মীরা পৌঁছেছেন। তিনি বলেন, এত বড় ঘটনা হঠাৎ করে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। এটি মেরামতে পর্যাপ্ত সময় লাগবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মেট্রোরেল

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
৮ অক্টোবর, ২০১৮
১৪ জুলাই, ২০১৭

আরও
আরও পড়ুন