Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬, ১৬ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

বিভিন্ন কোর্সের নামে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে

ঢাবির সমাবর্তনে প্রেসিডেন্ট

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ৭ অক্টোবর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

ডিপ্লোমা ও সান্ধ্যকালীন কোর্সের নামে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন বিষয়ে ডিগ্রি প্রদান করা হচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের পাশাপাশি স্বাভাবিক লেখাপড়ার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে কি না তা ভাবতে হবে। আমি মনে করি জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ছাত্র-শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা ভেবে দেখবেন।
গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তনে চ্যান্সেলরের বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আব্দুল হামিদ। তিনি আরো বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে নিছক চাকুরীর জন্য উচ্চশিক্ষা নয়। উচ্চশিক্ষার মূল লক্ষ্য নিজে শিক্ষিত হওয়া এবং অন্যকে শিক্ষিত করা। মানবিক ও উদার হওয়া। জীবনকে প্রকৃতপক্ষে উপলদ্ধি করা এবং মানবসত্তা দিয়ে পৃথিবীকে আলোকিত করা। উচ্চশিক্ষা নিয়ে যে সবাই প্রতিষ্ঠিত হবে, বিত্ত বৈভবের মালিক হবে এমনটি নয়, মনুষ্যত্বের বিকাশই হলো শিক্ষার মূল লক্ষ্য। সে অর্জনে আমরা কতটুকু এগুতে পেরেছি তা আজ বিবেচ্য বিষয়।
প্রেসিডেন্ট বলেন, বিশ্বমানের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, নতুন চিন্তা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে আত্মনিয়োগ এবং জ্ঞান চর্চায় বৈশ্বিক স্রোতধারায় নিজের ফলপ্রসু অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ। নানা প্রতিকূলতার মাঝেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অনেকাংশে সফল। বিশ্বায়নের মোকাবেলায় ও দেশের দ্রুত উন্নয়নে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক।
চ্যান্সেলর বলেন, সবসময় অর্জিত জ্ঞান, মেধা, মনন ও বিবেক দিয়ে সামনে অগ্রসর হবে। জয় তোমাদের নিশ্চিত। আর একটা কথা বলি, জীবন ও জীবিকার জন্য তোমরা পৃথিবীর যেখানেই থাক না কেন, প্রিয় মাতৃভূমিকে ভুলবে না, ভুলবে না এদেশের খেটে খাওয়া মানুষের কথা।
শিক্ষাব্যবস্থা হওয়া উচিত পিরামিডের মতো- অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তার বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাটা হওয়া উচিত পিরামিডের মতো- এর ভিত্তিটা চওড়া হবে উচ্চশিক্ষা হবে তারা চূড়া। সকলে যাতে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করতে পারে সর্বাগ্রে তা দেখা দরকার।
আনিসুজ্জামান বলেন, ইংরেজিতে উচ্চশিক্ষার সমার্থ হলো টারশিয়ারি এডুকেশন, যার অর্থ হলো তৃতীয়স্তরের শিক্ষা। তার মানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা আমাদের দেশে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাও এর অন্তর্গত এগুলো তার আগের দুই স্তরের শিক্ষা। সেই দুই স্তরের শিক্ষার কথা কিছু না বলে শুধু উচ্চশিক্ষার কথা বলা বাগবিস্তার মাত্র। তিনি আরো বলেন, আমাদের স্কুল কলেজ মাদরাসা যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, শিক্ষা বিস্তারের জন্য তা আবশ্যক। কিন্তু এর সাথে তাল মিলিয়ে উপযুক্ত শিক্ষক পাওয়া যায় না। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রার্থীত মানে উন্নীত হতে পারছে না। তারা যখন শিক্ষার তৃতীয় স্তরে প্রবেশ করে তখন এই দুর্বলতা আর দূর করার সম্ভাবনা থাকে না।
আনিসুজ্জামান বলেন, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের বিকাশ, কোন পেশায় নিয়োজিত হতে তাকে প্রস্তুত করা এবং একজন ভালো উৎপাদনশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলায় উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, পৃথিবীতে জ্ঞানের যে বিস্ফোরণ ঘটছে, তা অন্য যে কোন সময়ের থেকে বেশি। ফলে আমাদের লব্ধ জ্ঞানের অনেকটাই প্রতিনিয়ত বাতিল হয়ে যাচ্ছে, সেখানে নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি হচ্ছে। জ্ঞানের সৃষ্টিতে আমরা তেমন অগ্রসর হতে পারিনি, তবে যে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি হচ্ছে তা আয়ত্ত করার প্রয়াস তীব্র না হলে আমাদের শিক্ষার্থীরা সত্যি সত্যি পিছিয়ে পড়বে।
ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে ধারণা, প্রযুক্তি মানেই ভালো, প্রযুক্তি মানেই গ্রহণযোগ্য। আসলে এটি পুরোপুরি সত্য নয়। বর্তমান পৃথিবীতে তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি তোমাদের বলব তোমরা অবশ্যই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, কিন্তু প্রযুক্তি যেন তোমাদের অপব্যবহার করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখেবে। ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তব্যে প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমেদ বলেন, সর্বাধিক সংখ্যক গ্র্যাজুয়েটের অংশগ্রহণে এই সমাবর্তনে আমি আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাই নবীণ গ্র্যাজুয়েটদের। সেই সাথে প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদকে তিনি রাষ্ট্রীয় কর্মযজ্ঞের মধ্যেও সবসময় আমাদের সময় দিয়ে থাকেন।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সামাদ, প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন সহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও শিক্ষকবৃন্দ।
এবারের সমাবর্তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ হাজার ১১১ জন গ্র্যাজুয়েট রেজিস্ট্রেশন করেছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বাধিক সংখ্যক গ্র্যাজুয়েটদের অংশগ্রহণের রেকর্ড। অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের গ্র্যাজুয়েটরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা কলেজ ও ইডেন মহিলা কলেজ ভেন্যু থেকে সরাসরি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। সমাবর্তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯৬টি স্বর্ণপদক, ৮১ জনকে পিএইচডি এবং ২৭ জনকে এম ফিল ডিগ্রি দেওয়া হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ঢাবি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ