Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫ ফাল্গুন ১৪২৫, ১১ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।

রাজনীতি হলো গরিবের বউ সবার ভাউজ

ঢাবি সমাবর্তনে প্রেসিডেন্ট

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ৭ অক্টোবর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

রাজনীতি এখন গরিবের বউ, সবার ভাউজ। শহরে তো ভাউজ বুঝবে না, বড় ভাইয়ের বউকে আমরা ভাবি বলি যা গ্রামে ভাউজ বলে। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫১তম সমাবর্তনে প্রেসিডেন্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আবদুল হামিদ এ কথা বলেন। চ্যান্সেলরের জন্য নির্ধারিত বক্তব্যের শেষ প্যারা আগে তিনি তার চিরচারিত ভঙ্গিতে বক্তব্য দেয়ার কথা বললে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা করাতালি দিয়ে অভিনন্দন জানায়। এসময় তিনি রাজনীতি নিয়ে কথা বলার সময় এ মন্তব্য করেন।
প্রেসিডেন্ট রসিকতা করে বলেন, ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে আইবার কথা মনে হইলেই কেন জানি ঠান্ডা লাইগা গলাডা আগেই বইসা যায়।’
চ্যান্সেলর রাজনীতি নিয়ে তার বক্তব্যে বলেন, গ্রামে একটা প্রবাদ আছে- গরিবের বউ নাকি সবারই ভাউজ। গরিবের বউ হইলে মোটামুটি গ্রামের সবাই আইসা তারে ভাউজ ডাকে। তিনি বলেন, এখন রাজনীতি হয়ে গেছে গরিবের বউয়ের মতো। যে যখন ইচ্ছা ঢুকতে পারে। এহন আমি যদি বলি আমি ঢাকা ইউনিভার্সিটির ফিজিক্সের লেকচারার অইতাম চাই, নিশ্চয়ই ভিসি সাহেব আমারে ঢুকাইতো না।’ বা আমি যদি কোনো হাসপাতালের ডাইরেক্টরকে বলি এত বড় রাজনীতিবিদ অইছি, এখন আমাদের হাসপাতালে ডাক্তারি করার লাইগ্যা দাও, বোঝেন অবস্থাডা কী হইবো! যদি বলি, এতদিন রাজনীতি করছি সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ারের পদটা তো দিতে পার? সেখানে আমাকে দেবে না। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারই কইন, আর ডাক্তারই কইন, এই ভিসি সাহেবও ৬৭ বছর হইলে উনি বলবেন আমিও রাজনীতি করব।’
প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘জজ সাহেব, আর্মির জেনারেল, সরকারি সচিব, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, কেবিনেট সেক্রেটারি বা জয়েন্ট সেক্রেটারিও রিটায়ার্ড করার পরই বলে আমি রাজনীতি করব। এটার কোনো রাখঢাক নেই। যার যখন ইচ্ছা রাজনীতিতে ঢোকা যায়।
তিনি বলেন, সরকারি দল বিরোধী দলসহ সকল রাজনৈতিক দলকে এটা নিয়ে চিন্তা করা উচিত। রাজনীতিতে এক্সপার্টাইজও দরকার আছে। যারা এক্সপার্ট আছে তাদের মতামত নেন। বিভিন্ন জায়গায় তাদের কমিটি করে দেন, উপদেষ্টা করে দেন। কিন্তু তারা ডাইরেক্ট রাজনীতিতে এসে এমপি ইলেকশন করে এমপি হয়ে যাবে, মন্ত্রী হয়ে যাবে। এটা যেন ক্যামন ক্যামন লাগে।
রাজনীতিতে শিল্পপতিদের প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, বিজনেসম্যানরা তো আছেই। কী করবেন? এগুলোকে থামানো দরকার। রাজনীতি যারা করবেন স্কুলে বাদ দিলাম, অন্তত কলেজে-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় রাজনীতিতে জড়িত হোক।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ইলেকশন নিয়ে গৃহীত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে চ্যান্সেলর বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষক ও ছাত্রদের অভিনন্দন জানাই এজন্য যে, ডাকসু ইলেকশন নিয়ে একটা আশার আলো দেখছি। তবে এ ব্যাপারে আমি ছাত্র সমাজের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ রাখতে চাই- ডাকসু হলেই দেখা যাবে ছাত্র সংগঠন-সংগঠন, ছাত্র-ছাত্র, নেতৃত্ব অনেক কিছু নিয়ে কিন্তু ভেজাল সৃষ্টি করে দিতে পারে। সাধারণ ছেলেদের বলছি, এ ব্যাপারে তৎপর থাকতে হবে- যাতে করে এ প্রক্রিয়াকে কোনো ধরনের বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।’
ডাকসু ইলেকশনের গুরুত্বের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যদি ডাকসু ইলেকশন হয়ে যায় দেখা যাবে, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন হয়ে যাবে। কলেজগুলোতেও ছাত্র সংসদের নির্বাচন হয়ে যাবে। তাহলে রাজনীতিতে ওই ঢুকে পড়া, ওই প্রক্রিয়াটি বাধাপ্রাপ্ত হবে। কারণ নেতৃত্ব ছাত্র সমাজ থেকেই গড়ে উঠবে। এখন কইত্তে যে কেডা ক্যামনে নেতা হইয়া যায়গা, আল্লাহ মালুম। মনে হয় উপর থেকে আইসা.. উইড়া আইসা জুইড়া বইছে। এ ধরনের একটা অবস্থা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ঢাবি

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
৬ জানুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ