Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৩ পৌষ ১৪২৫, ৯ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

নিজেকে ছাপিয়ে দ্রুততম ডাবল লিটনের

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১১ অক্টোবর, ২০১৮, ১২:০১ এএম

নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টি থাবা ফেলেছে দেশের অনেক জায়গাতেই। জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের তৃতীয় দিনের খেলায় বিঘ্ন ঘটিয়েছে বৃষ্টি। রাজশাহীতে স্বাগতিকদের সঙ্গে রংপুরের ম্যাচটাই শুধু পুরো দিন খেলা হয়েছে। আর এই ম্যাচেই ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন লিটন দাস। ডাবল সেঞ্চুরির হাতছানি ছিল ঢাকা মেট্রোর সাদমানের ইসলামেরও, তবে ১৮৯ রান করেই আউট হয়ে গেছেন গতকাল।

রাজশাহীতে দ্বিতীয় ইনিংসে ম্যাচ বাঁচানোর জন্যই নেমেছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে রংপুর ১৫১ রান করার পর রাজশাহী আগের দিনই চড়ে বসেছিল রানের পাহাড়ে। দুই ওপেনার মিজানুর রহমান ও নাজমুল হোসেন শান্ত পেয়েছিলেন সেঞ্চুরি। গতকাল তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন জুনাইদ সিদ্দিকীও, ১০০ রান করে অপরাজিত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ১৫০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৫৮৯ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে রাজশাহী।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ইনিংস পরাজয় এড়াতেই রংপুরকে করতে হতো ৪৩৮ রান। প্রথম ইনিংসে রান পাননি লিটন দাস, দ্বিতীয় ইনিংসে সেই আক্ষেপ ঘুঁচিয়েই দিয়েছেন। জহির জাবেদের সঙ্গে জুটিটা স্থায়ী হয়েছিল ৯৮ রান পর্যন্ত, ৩৫ রান করে আউট হয়ে গেছেন জহির। এরপর মাহমুদুল হাসানকে নিয়ে ঝড় শুরু করেন লিটন। ৮১ বল সেঞ্চুরি করেছেন, এরপর আরও বেশি আগ্রাসী হয়েছেন। ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন ১৪০ বলে, ভেঙেছেন বাংলাদেশের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড।

আগের রেকর্ডটিও ছিলো তার দখলে। গত ২৬ এপ্রিল বিসিএলে পূর্বাঞ্চলের হয়ে মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে ২৭৪ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসের পথে লিটন দুইশ স্পর্শ করেছিলেন ১৯০ বলে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের দুইশ বলের নিচে ডাবল সেঞ্চুরির একমাত্র কীর্তি ছিল সেটিই।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির বিশ্ব রেকর্ডটিও হয়েছে গত এপ্রিলেই। আফগানিস্তানের ঘরোয়া চার দিনের ম্যাচে বুস্ট অঞ্চলের বিপক্ষে ৮৯ বলে ২০০ করেছিলেন কাবুল অঞ্চলের শফিকউল্লাহ শাফাক। এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান ভেঙেছিলেন রবি শাস্ত্রি ও অ্যানায়রিন ডোনাল্ডের যৌথ রেকর্ড। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে বোম্বের হয়ে বরোদার বিপক্ষে ১২৩ বলে ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড করেছিলেন শাস্ত্রি। আর ২০১৬ সালের জুলাইয়ে গ্ল্যামরগ্যানের হয়ে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে শাস্ত্রির রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন ১৯ বছর বয়সী ডোনাল্ড।

লিটন এদিন মাইলফলকে পৌঁছেছেন রাজকীয় ঢঙে। ১৮৪ থেকে মহর শেখকে টানা দুটি বাউন্ডারিতে ১৯২। ১৯৩ থেকে তাইজুল ইসলামকে ছক্কায় ১৯৯। পরে বলেই বাউন্ডারিতে রেকর্ড গড়া ডাবল। এক বল পরই তাইজুলের বলে আউট হয়েছেন ১৪২ বলে ২০৩ রান করে। দিন শেষে মাত্র ৪৯ ওভারে ২ উইকেটে ৩১৯ রান তুলেছে রংপুর। ৭২ রানে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদুল হাসান, ২ রানে ব্যাট করছিলেন সাজেদুল ইসলাম।

এদিকে, ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে ৩১২ রান নিয়ে গতকাল ইনিংস শুরু করেছিল ঢাকা মেট্রো। ১৮৬ রানে ব্যাট করছিলেন সাদমান ইসলাম, কিন্তু আগের দিনের সঙ্গে মাত্র ৩ রান যোগ করে আউট হয়ে গেছেন। ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিও পাওয়া হয়নি। এর পরেই নিয়মিত উইকেট হারাতে শুরু করে ঢাকা মেট্রো, শেষ পর্যন্ত ৩৮৭ রান করে অলআউট হয়ে যায়। ঢাকা বিভাগের হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন সালাউদ্দিন শাকিল।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৪ রান করে আউট হয়ে যান রনি তালুকদার। দ্বিতীয় উইকেটে আবদুল মজিদ ও সাইফ হাসান ৪৩ রান যোগ করার পর আউট হয়ে যান মজিদও। ঢাকা বিভাগের রান তখন ৫০ রানে ২ উইকেট, এরপর বৃষ্টিতে আর খেলা শুরু হয়নি।

বরিশালের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ১৯৯ রান নিয়ে গতকাল নেমেছিল খুলনা। আগের দিন ৪৬ রানে অপরাজিত থাকা জিয়াউর রহমান গতকাল সেঞ্চুরি পেয়েছেন, ১১২ রান করে আউট হয়েছেন মোসাদ্দেকের বলে। অন্য প্রান্তে ৮১ রানে অপরাজিত ছিলেন আফিফ হোসেন। খুলনার ৭ উইকেটে ৩৪৯ রান তোলার পর বৃষ্টির জন্য আর খেলাই হয়নি।

অন্যদিকে কক্সবাজারে চট্টগ্রাম ও সিলেটের ম্যাচটা দ্বিতীয় দিনের মতো তৃতীয় দিনও পরিত্যক্ত হয়ে গেছে বৃষ্টির জন্য।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
রংপুর-রাজশাহী, রাজশাহী
রংপুর : ১৫১ ও ২য় ইনিংস : ৪৯ ওভারে ৩১৯/২ (লিটন ২০৩, জাভেদ ৩৫, মাহমুদুল ৭২*, সাজেদুল ২*; ফরহাদ রেজা ০/৩২, মহর ০/৪৪, তাইজুল ১/৯৮, শফিকুল ১/৬০, সানজামুল ০/৪০, ফরহাদ হোসেন ০/২৪, সাব্বির ০/১৫)।
রাজশাহী ১ম ইনিংস : ১৫০ ওভারে ৫৮৯/৪ (ডি.)(আগের দিন ৪১৯/২) (জুনায়েদ ১০০*, ফরহাদ হোসেন ৬২, জহুরুল ৫৫, সাব্বির ১৫*; শুভাশিস ০/৭৮, আরিফুল ১/৮৬, সাদ্দাম ০/৯২, সোহরাওয়ার্দী ১/১০৩, মাহমুদুল ১/৮১, সাজেদুল ১/৭৮, তানবীর ০/২৯, নাঈম ০/১৯, ধীমান ০/৭)।

ঢাকা বিভাগ-ঢাকা মেট্রো, ফতুল্লা
ঢাকা : ২০৬ ও ২য় ইনিংস : ১৪.৫ ওভারে ৫০/২ (মজিদ ১৮, রনি ৪, সাইফ ২৭*; আবু হায়দার ১/১৬, শহিদুল ০/২৫, সানি ১/৮)।
ঢাকা মেট্রো ১ম ইনিংস : (দ্বিতীয় দিন শেষে ৩১২/৪) ১৩৯.৩ ওভারে ৩৮৭ (সাদমান ১৮৯, সৈকত ২৩, শামসুর ১, মার্শাল ৪, আশরাফুল ৪৯, মেহরাব জুনিয়র ৪১, জাবিদ ৩২*, আবু হায়দার ১৫, সানি ১, শহিদুল ১৯, আসিফ ০; শাহাদাত ২/৬৪, সালাউদ্দিন ৪/৮০, নাজমুল ২/৮৪, শুভাগত ১/৬৪, মোশাররফ ১/৮৭, সাইফ ০/৩)

বরিশাল-খুলনা, খুলনা
বরিশাল ১ম ইনিংস : ২৯৯।
খুলনা ১ম ইনিংস : ১১৬.১ ওভারে ৩৪৯/৭ (জিয়াউর ১১২, আফিফ ৮১*; কামরুল ২/৪৪, মনির ১/৯০, সোহাগ ২/১০০, সালমান ১/৫৩, মোসাদ্দেক ১/২৩, ফজলে মাহমুদ ০/১৬,
রাফসান ০/১৯)।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর