Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১২ বৈশাখ ১৪২৬, ১৮ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রায়

ইউট্যাবের বিবৃতি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১১ অক্টোবর, ২০১৮, ১২:০১ এএম

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার ঘোষিত রায়কে রাজনৈতিক অপকৌশল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব)। গতকাল (বুধবার) সংগঠনের এক বিবৃতিতে বলা হয়- এই মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য নেতাদেরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই জড়ানো হয়েছে। অথচ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজেও সাক্ষ্য দেয়ার সময় তারেক রহমান বা বিএনপির কোনো নেতার নাম পর্যন্ত বলেননি। ২০০৯ সালে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপিকে হেয়, ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপদগ্রস্ত করার লক্ষ্যে অবসরপ্রাপ্ত ও বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল কাহার আকন্দকে চাকরিতে পুনরায় নিয়োগ দিয়ে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করার মাধ্যমে এটিকে একটি রাজনৈতিক মামলায় রুপান্তরিত করে। এই রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার নগ্ন প্রকাশ। রায় নিয়ে ইতিমধ্যে জনমনে প্রশ্নের অবতারণা হয়েছে। আমরা আমরা আশা করি আসামিরা আপিলে নির্দোষ প্রমাণিত হবেন এবং খালাস পাবেন।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী ইউট্যাব নেতৃবৃন্দের মধ্যে অন্যতম হলেন- সহসভাপতি প্রফেসর ড. আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর ড. মোর্শেদ হাসান খান, ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, ড. ফরিদ আহমেদ, ড. আবদুর রশিদ, আমিনুল ইসলাম মজুমদার, সৈয়দ আবুল কালাম আযাদ, লুৎফর রহমান, এম ফরিদ আহমেদ, ড. গোলাম রব্বানি, ড. মাহফুজুল হক, ড. সিদ্দিক আহমদ চৌধুরী (চবি), ড. এম এ বারি মিয়া, প্রফেসর খায়রুল (শাবিপ্রবি), ড. শামসুল আলম সেলিম (জাবি), ড. সাব্বির মোস্তফা খান (বুয়েট), প্রফেসর তোজাম্মেল (ইবি) প্রমূখ।
এদিকে ২১ আগস্ট হামলা মামলার রায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদানের ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা। শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের পক্ষ থেকে বুধবার এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২১ আগস্টের ঘটনাটি অত্যন্ত গর্হিত ও জঘন্য অপরাধ। সচেতন ও বিবেকবান মানুষ হিসেবে আমরা এ অপরাধের ন্যায়বিচার কামনা করি। কিন্তু আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি যে, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার ২০০৪ সালে সংঘটিত এ ঘটনার জন্য ২০০৯ সালে তারেক রহমানসহ বিএনপির কয়েকজন নেতাকে নতুন করে মামলার আসামী করে। সরকার তার রাজনৈতিক জিঘাংসা চরিতার্থ করার জন্যই ঘটনার পাঁচ বছর পর তারেক রহমানকে মামলার আসামী করেছে। এটি বিএনপিকে ধ্বংস ও জিয়া পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে সরকারের ধারাবাহিক অপকৌশলেরই অংশ। একটি প্রতিকূল পরিবেশে বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে তারেক রহমান ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে আমাদের বিশ্বাস। তাই আমরা এ মামলার রায় পুনর্বিচেনা করে তারেক রহমানের সাজা বাতিল এবং তাঁকে এ মামলা থেকে আব্যাহতি প্রদানের জন্য দাবি জানান।
সাদা দলের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ছাড়াও বিবৃতি দিয়েছেন দুই শতাধিক শিক্ষক। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন- প্রফেসর মোঃ লুৎফর রহমান, প্রফেসর ড. মোঃ মোর্শেদ হাসান খান, ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, ড. মো. আবুল কালাম সরকার, মো. আতাউর রহমান বিশ্বাস, ড. মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন, ড. মামুন আহমেদ, ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, ড. মো. নুরুল আমিন, ইসরাফিল প্রামাণিক, ড. মোঃ গোলাম রব্বানী, ড. সদরুল আমিন, ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, ড. মোঃ আখতার হোসেন খান, ড. মো: আবদুর রশীদ, মো. মাহফুজুল হক, ড. লায়লা নূর ইসলাম, ড. দিলীপ কুমার বড়ূয়া, ড. মো. মোশাররফ হোসাইন ভূঁইয়া, ড. মোঃ মোজাম্মেল হক, আ কা ফিরোজ আহমদ, ড. বোরহান উদ্দীন খান, মো. মাহ্ফুজুল ইসলাম, ড. আবদুল আজিজ, তাহমিনা আখতার, হোসনে আরা বেগম, ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ, ড. মোঃ আতাউর রহমান মিয়াজী, আহমেদ জামাল আনোয়ার, এম এ কাউসার প্রমূখ।
ড্যাবের প্রত্যাখ্যান: ২১ আগস্ট মামলার রায়কে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ড্যাব। সংগঠনটির সভাপতি ডাঃ এ কে এম আজিজুল হক ও মহাসচিব ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন এক যুক্ত বিবৃতিতে জানান বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বিএনপির রাজনীতি নস্যাৎ করার হীন উদ্দেশ্যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় রায় প্রদান করা হয়েছে। জিয়া পরিবার তথা জাতীয়তাবদী শক্তিকে ধ্বংস করার জন্য ও রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্য সরকার একের পর একটা ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে নির্বাচন থেকে তাদের দূরে রাখার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তারই অংশ হিসেবে সরকার মিথ্যা, বানোয়াট মামলায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারা অন্তরীণ করে রেখেছে।
সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় রায় সরকারের ইচ্ছারই প্রতিফলন বলে মনে করে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি)। তারা এই ষড়যন্ত্রমূলক রায়কে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএসপিপির বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষরকারী পেশাজীবীরা হলেন- বিএসপিপি’র আহ্বায়ক ইঞ্জিঃ মাহামুদুর রহমান, বিএফইউজে’র সভাপতি সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এম. আবদুল্লাহ, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি এড. জয়নাল আবেদীন ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ড্যাব সভাপতি ডাঃ এ কে এম আজিজুল হক, সহ-সভাপতি ডাঃ ফরহাদ হালিম ডোনার, ট্রেজারার ডা: মোস্তাক রহিম স্বপন, ডিইউজের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম, এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্সের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইঞ্জিঃ আ.ন.হ. আক্তার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত মহসচিব ইঞ্জিঃ হাসিন আহমদ, জাতীয় প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, এসোসিয়েশন অফ এগ্রিকালচারিস্ট এর আহ্বায়ক আনোয়ারুন নবী মজুমদার বাবলা, সদস্য সচিব- কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া অতিরিক্ত মহাসচিব জাকির হোসেন, ইউট্যাব সভাপতি সাবেক প্রো-ভিসি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসর আ.ফ.ম ইউসুফ হায়দার, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তাহমিনা আক্তার টফি, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. সানাউল্লাহ মিয়া, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আহবায়ক সাদা দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মোর্শেদ হাসান খান, ড. লুৎফর রহমান, সাবেক আহবায়ক সাদা দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডাঃ আখতার হোসেন খান, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের মহাসচিব মোঃ রফিকুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম জাবি’র আহবায়ক ড. কামরুল আহসান, এমবিএ এসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ আলমগীর, মহাসচিব শাকিল ওয়াহেদ, সাবেক ভিসি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ড. খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমানসহ পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ।#



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন