Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০২১, ০৬ মাঘ ১৪২৭, ০৬ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

ইন্টারনেট খরচ কমাতে ভ্যাট মওকুফের প্রস্তাব

প্রকাশের সময় : ২৭ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০০ এএম

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর আরোপিত ভ্যাট মওকুফের দাবি জানিয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)। পাশাপাশি সিম ও রিম কার্ডের শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সম্মেলন কক্ষে এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এসব দাবি জানান অ্যামটব প্রতিনিধিরা। বর্তমানে ইন্টারনেট ও মডেম ব্যবহারের জন্য ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয় বলেও তারা জানান।
সভায় বক্তব্যে অ্যামটব মহাসচিব টিআইএম নুরুল কবির বলেন, সকল পর্যায়ে ইন্টারনেট বা মডেম ব্যবহারের ওপর ভ্যাট মুওকুফ করা হোক। এর পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ইন্টারনেট ও মডেম ব্যবহারের ওপর ভ্যাট উঠিয়ে নিলে সাধারণ মানুষের কাছে তা সহজলভ্য হবে। এর ফলে অপারেটরদের আয় বৃদ্ধি এবং তথ্য প্রযুক্তির প্রসার ত্বরান্বিত হবে। চলতি বছর মার্চ শেষে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির তথ্য হিসেবে, বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ৬ কোটি ১২ লাখ ৮৮ হাজার। ফেব্রæয়ারিতে এই সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৮৩ লাখ, আর জানুয়ারিতে ৫ কোটি ৬১ লাখ। গতবছর মার্চে বাংলাদেশে ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৬২ হাজার মানুষ ইন্টারনেট সেবা কিনতেন। এই হিসেবে বছরে দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক বেড়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ। বিটিআরসির তথ্যে দেখা যায়, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৯৫ শতাংশ এ সেবা নিচ্ছেন মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে।
নুরুল কবির বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ৯০ শতাংশ মানুষ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এ ব্যবহারের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মোবাইল ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনেক সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ভ্যাট কমালে ব্যবহারকারী বাড়বে এবং এ ব্যবহারের ফলে সরকার অন্যান্য দিক থেকে বেশি রাজস্ব পাবে। তিনি বলেন, বর্তমানে ল্যাপটপের চেয়ে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। ইন্টারনেট ব্যবহার আরো সহজ ও সব মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ভ্যাটে ছাড় দেওয়া দরকার। ব্যবহার বাড়লে অন্যান্য সেবা থেকে কর পাবে সরকার।
সিম ট্যাক্স কমানোর প্রস্তাব করে তিনি বলেন, বর্তমানে মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ মানুষ মোবাইল ব্যবহার করেন। সিম ট্যাক্স কমানো হলে এর আওতার বাইরে থাকা ৬০ শতাংশ চলে আসবে। এতে সরকারের রাজস্ব বাড়বে। বর্তমানে প্রতিটি সিম ও রিম বিক্রির ওপর ৩৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৬৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক রয়েছে।
গত ৪ থেকে ৬ বছরে মোবাইল অপারেটর খাত সরাসরি জিডিপিতে প্রায় ৩ শতাংশ অবদান রেখেছে। সরাসরি অবদান রাখার পরও সিগারেটসহ অন্যান্য খাতের সঙ্গে এ খাতকে মিলিয়ে ফেলা হয়। অন্যান্য খাতের সঙ্গে এ খাতেরও কর্পোরেট ট্যাক্স সমন্বয় করা হলে এ খাত সুবিধা পাবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে খুব দ্রæত সময়ে টেলিকম খাতে অগ্রগতি হয়েছে। ১৯৯৩ সালে প্রথম বাংলাদেশে সিটিসেল মোবাইল ফোন কোম্পানি এসেছে। ১৯৯৬ সালে গ্রামীণ ও বাংলালিংক, ১৯৯৭ সালে রবি, ২০০৪ সালে টেলিটক এবং ২০০৭ সালে এয়ারটেল এসেছে।
এ খাতে গত ২০ বছরে ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই) প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশের করনীতি পরিবর্তিত হলে এ খাতে বিনিয়োগের হার আরো বেড়ে যাবে। এসডিজি, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় এ খাত অত্যন্ত বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সেক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে উচ্চ কর। বাংলাদেশে এ খাত সর্বনিম্ন রেটে সেবা দেয় এবং বেশি রাজস্ব পরিশোধ করে।
অ্যামটবের একজন প্রতিনিধি আয়কর বর্ষ পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে বলেন, ব্যাংকিং খাতে আয়কর বর্ষ জুলাই-জুন থেকে পরিবর্তন করে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করা হয়েছে। আমরা করবর্ষ নিয়ে সমস্যায় থাকি। তাই এ খাতেরও করবর্ষ পরিবর্তন করা দরকার।
অনাবাসী ব্যক্তির (বিদেশি) সম্পর্কে তিনি বলেন, এ খাতে অনাবাসী ব্যক্তির ক্ষেত্রে কনসালট্যান্সি পারিশ্রমিক, কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণের পারিশ্রমিক ইত্যাদির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ উৎসে আয়কর কর্তন করা হয়। এক্ষেত্রে অনাবাসী ব্যক্তি চুক্তির ক্ষেত্রে কোম্পানির ওপর চাপিয়ে দিতে চান। এ হার কমিয়ে আনা দরকার।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় এনবিআরের সদস্য ফরিদ উদ্দিন, পারভেজ ইকবাল, ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, তন্দ্রা শিকদার ও অ্যামটবের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইন্টারনেট খরচ কমাতে ভ্যাট মওকুফের প্রস্তাব
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ