Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১ হিজরী

চট্টগ্রামে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী যুবলীগ নেতা নিহত

গুলিবিদ্ধ ৪ র‌্যাব কর্মকর্তা

চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১৩ অক্টোবর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

নগরীর মুরাদপুরে র‌্যাবের সঙ্গে ‘গোলাগুলিতে’ এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নগরীর মুরাদপুর-বিবিরহাট সড়কের রেলক্রসিং এলাকায় এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, নিহত অসীম রায় বাবু (৪০) তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বাবু গেল সিটি নির্বাচনে নগরীর একটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীও হয়েছিলেন। পাল্টাপাল্টি গোলাগুলিতে র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের একজন উপ-অধিনায়কসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তারা হলেন, র‌্যাবের উপ-অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার শাফায়াত জামিল ফাহিম, র‌্যাব কর্মকর্তা মেজর হাসান, ল্যান্স কর্পোরাল শহীদ ও আবু।
র‌্যাব-চট্টগ্রামের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মিফতা উদ্দিন আহমেদ রাতে দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, আহতদের চারজনই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের প্রথমে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিকেলে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তাদের আবস্থা আশঙ্কাজনক। মাদক ব্যবসায়ী বাবুর প্রাইভেট কার থেকে দুটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, চারটি কার্তুজ এবং ১২ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জানা যায় অসীম রায় বাবু নগর পুলিশের তালিকায় ডাইল বাবু হিসেবে পরিচিত। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল গ্রামের গুরু সদয় রায়ের ছেলে। নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারের মোহাম্মদীয়া প্লাজায় তার একটি দোকান আছে। ওই দোকানকে কেন্দ্র করে বাবু নগরীতে ইয়াবা বিক্রির নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। সহযোগীদের মাধ্যমে সেখান থেকেই পুরো নগরীতে সে ইয়াবা ছড়িয়ে দিত। পুলিশ বিষয়টি জেনেও যুবলীগের নেতা হওয়ায় বাবুর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস করেনি।
র‌্যাব জানায়, ইয়াবার চালানসহ বাবু প্রাইভেট কারে চড়ে বিবিরহাটের দিকে যাচ্ছিলেন। র‌্যাবের চেকপোস্টে গাড়ি থামানোর সঙ্কেত দিলে বাবু গাড়ির ভেতর থেকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এ সময় র‌্যাব সদস্যরা পাল্টা গুলি ছোড়ে। পাল্টাপাল্টি গুলিতে বাবু গুলিবিদ্ধ হন। র‌্যাবেরও চার সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। র‌্যাবের সহকারি পরিচালক এএসপি মিমতানুর রহমান জানান, ঘটনার সময় বাবুর মাদক ব্যবসার সহযোগী গাড়িচালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
স্থানীয়রা জানায়, গোলাগুলির সময় বাবুর গাড়িচালক জাহেদ হোসেন সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে তাকে মুরাদপুরে মানুষের জটলায় দেখা যায়। ঘটনার খবর পেয়ে বাবুর বাবা ও ভাই ঘটনাস্থলে গেলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায় র‌্যাব।
পুলিশ ও বাবুর ঘনিষ্টজনরা জানান, ২০১৭ সালের ৫ মার্চ ও ১৩ মার্চ বাবুর বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মাদক আইনে দুটি মামলা হয়। পহেলা মার্চ মারামারি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়েছিল। চলতি বছরের ৫ মার্চ মধ্যরাতে নগরীর নন্দনকাননে কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের বাসা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে বাবু। এই ঘটনায় বাবরের ভাই বাদি হয়ে কোতোয়ালী থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
১৯৯৪ সালে নগরীর মিউনিসিপ্যাল মডেল হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করে এমইএস কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন বাবু। তখন তৎকালীন মেয়র মরহুম এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী ছাত্রলীগের ক্যাডার হিসেবে পরিচিতি পান। ওই বছরই অস্ত্রসহ গ্রেফতারের পর তার সাত বছরের জেল হয়। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন বাবু। যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের অনুসারী হিসেবে দীর্ঘদিন নগরীর নন্দনকানন, রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ আশপাশের এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য গড়ে তোলেন। ২০১০ সালে চসিক নির্বাচনে নগরীর ৩১ আলকরণ ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেন। তিন বছর আগে বাবরের গ্রুপ ছেড়ে যান বাবু। এর আগেই অসীম ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। আলাদা একটি বলয় তৈরি করে নিজেকে যুবলীগ বড় নেতা হিসেবেও পরিচয় দিতে থাকেন। এরপরই বাবু আরও বেপরোয়া আচরণ শুরু করেন বলে জানায় পুলিশ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মাদক

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ