Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬, ২১ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ

হাতিরঝিলে অবৈধ স্থাপনা নিয়ে করা রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ আপিল বিভাগের

স্টাফ রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ১৫ অক্টোবর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

রাজধানীর নান্দনিক এলাকা হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ি প্রকল্পের মূল নকশার বাইরে থাকা স্থাপনা নিয়ে জারি করা রুল দুই মাসের মধ্যে হাইকোর্টকে নিষ্পত্তি নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। গতকাল রোবার হাতিরঝিল এলাকায় ১২ ব্যবসায়ীর করা লিভ টু আপিলের শুনানি নিয়ে দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে মূল নকশার বাইরে থাকা স্থাপনা সাত দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার বা অপসারণের যে নির্দেশ হাইকোর্ট দিয়েছিল, তার ওপর স্থিতাবস্থা জারির আদেশ বহাল রেখেছে সর্বোচ্চ আদালত। ফলে আপাতত এসব স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন আিইনজীবীরা।
আদালতে রিট আবেদনকারী পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। ব্যবসায়ীদের পক্ষে শুনানি করেন খুরশীদ আলম খান। পরে মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, বিবাদীপক্ষ আবেদন করায় আদালত হাইকোর্টের আদেশের উপর স্থিতিবস্থা জারি করেছেন। একই সঙ্গে দুই মাসের মধ্যে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে আপাতত এসব স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তিনি আরো বলেন, আমরা একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে জনস্বার্থে এই রিট আবেদন করি। এরপর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ অবৈধ স্থাপনা বিষয় নিয়ে রুল জারি করে ছিল।
আর খুরশীদ আলম খান বলেন, আবেদনকারী ১২ জন ব্যবসায়ী রাজউক থেকে বরাদ্দ নিয়ে হাতিরঝিল এলাকায় ব্যবসা করে আসছেন। ভাড়া-পজেশন বাবদ তাদের কাছ থেকে ১০-১৫ কোটি টাকা করে নিয়েছে রাজউক। আমাদের পক্ষভুক্ত না করেই হাইকোর্টথেকে নির্দেশনা নিয়েছিলেন। পরে যখন আদেশটি জানতে পারলাম, তখন রাজউকের অ্যালটমেন্ট অর্ডার ও ভাড়ার কাগজপত্র দেখিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিয়ে আমরা লিভ টু আপিল করেছি। চেম্বার আদালত স্থিতাবস্থা দিয়েছিল, সেটি কন্টিনিউ করেছে আপিল বিভাগ।
গত ১ অগাস্ট একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে জনস্বার্থে এই রিট আবেদন করে। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর হাতিরঝিল- বেগুনবাড়ি প্রকল্পের লে-আউট প্ল্যানের বাইরে থাকা স্থাপনা ৭ দিনের মধ্যে ভেঙে অপসারণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করতে এবং লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী হাতিরঝিল - বেগুনবাড়ি প্রজেক্ট রক্ষায় কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেন আদালত। পূর্ত সচিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, রাজউক চেয়ারম্যান, ডিএমপি কমিশনার, হাতিরঝিল থানার ওসি এবং প্রকল্প পরিচালককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। লে-আউট প্ল্যানের বাইরে কেউ বা কোনো প্রতিষ্ঠান যেন কোনো স্থাপনা স্থাপন করতে না পারে সে জন্যে রাজউকের চেয়ারম্যান, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, হাতিরঝিল থানার ওসি এবং প্রকল্প পরিচালককে প্রকল্প এলাকায় নিয়মিত তদারকি করারও নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ওই আদেশর পর হাতিরঝিলের ১২ ব্যবসায়ী রিট মামলাটিতে পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদনের পাশাপাশি হাইকোর্টের আদেশের ওপর স্থিতাবস্থা চেয়ে আবেদন করেন। চেম্বার আদালত স্থিতাবস্থা দিয়ে লিভ টু আপিল করতে বলে। গতকাল আপিল বিভাগ সেই লিভ টু আপিলের শুনানি নিয়েই দুই মাসের মধ্যে রুল নিষ্পত্তির পাশাপাশি স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: উচ্ছেদ অভিযান


আরও
আরও পড়ুন