Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

শিবচরে শেখ হাসিনার বক্তব্য বিভ্রান্ত মনের উন্মাদনা -রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ অক্টোবর, ২০১৮, ১২:৩৮ পিএম | আপডেট : ১২:৪৩ পিএম, ১৫ অক্টোবর, ২০১৮

রোববার মাদারিপুরের শিবচরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য বিভ্রান্ত মনের উন্মাদনা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আওয়ামী সরকারের পড়ন্ত বেলায় প্রধানমন্ত্রীর খাপছাড়া বক্তৃতায় দৈন্যদশার বহি:প্রকাশ। অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতে শেখ হাসিনার একগুঁয়েমির জন্য রাজনীতির ময়দান শান্ত, নিরাপদ ও সুখময় হয়ে উঠবে না। সোমবার বেলা ১১ টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলে। 

রিজভী বলেন, মাওয়া ও শিবচরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী আজগুবি, উদ্ভট, স্ববিরোধী নানা কথা বলেছেন-যা জাতিকে হতবাকই করেনি, মানুষ মুচকি হেসেছেও। আসলে তিনি তাঁর বক্তব্যে নিজ দলের অনাচারগুলো অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে বক্তব্য রেখেছেন।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, ২০০৬ সালের অক্টেবরে আপনি যখন লগী বৈঠা নিয়ে আপনার কর্মীদের ঢাকায় আসতে বলার নির্দেশ দিয়ে দলীয় লোকদেরকে দিয়ে ২৮ অক্টোবরে লাশের ওপর নৃত্য করালেন, তারপরেও কী আপনাকে শান্তির দূত বলতে হবে? চট্টগ্রামে হত্যার হুমকির কথা বাদই দিলাম, এবারে ক্ষমতায় এসে বিএনপি’র মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে যুবনেতা-ছাত্রনেতাসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের গুম হওয়া-যা প্রত্যক্ষভাবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন দ্বারা সংঘটিত হয়েছে, তারপরেও কী আপনাকে মানবতার জননী বলতে হবে?
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার বিচার বহির্ভূত হত্যার হিড়িকে দেশব্যাপী আতংক ও ভয়ের গ্রাসের মধ্যেও আপনাকে কী বলতে হবে আপনি আইনের শাসনের সরকারের প্রধান? আপনার শাসনামলেই সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে, দেবালয়ের পুরোহিতকে হত্যা করা হয়েছে, বিদেশীরা হত্যার শিকার হয়েছে। আপনার দলের এমপি কচি বাচ্চা ছেলের পায়ে গুলি করেছে, নারায়ণগঞ্জের নিস্পাপ কিশোর ত্বকী হত্যারও অভিযোগ সেখানকার আপনারই একজন এমপি’র বিরুদ্ধে, তারপরেও আপনাকে কী মাদার অব তেরেসা বলতে হবে?
তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে আপনি নিজেকে একক ভাষ্যকারে পরিণত করে বক্তৃতায় অন্যকে খুনী, দুর্নীতিবাজ বলছেন-অথচ খুন, জখম যে আওয়ামী শাসনের ঐতিহ্য তা কিন্তু মানুষ ভুলে যায়নি। মানুষ ভুলে যায়নি ‘৭২ থেকে ‘৭৫ এ হাজার হাজার প্রগতিশীল নেতাকর্মীর হত্যার কথা, ভুলে যায়নি প্রথম বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ শিকদারের হত্যাকান্ড ও এই হত্যাকান্ডের পর আস্ফালন-এরপরেও কী আপনাদেরকে শান্তির বার্তা বাহক বলতে হবে ?
যে দলের এমপি লতিফ সিদ্দিকী বাড়িতে বাড়িতে ঢুকে বিএনপি’র লোকদের হত্যা করার আদেশ দেয়, সেই দলকে কি আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের সঙ্গে তূলনা করবো ? আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম তো বেওয়ারিশ লাশ দাফন করে সেবামূলক কাজ করে। আর আওয়ামী লীগ প্রতিনিয়ত জীবন্ত মানুষকে লাশ করার কাজ করে।
মানুষ এখন ডিজিটাল আতঙ্কে ভূগছেন বলে মন্তব্য করে বিএনপির নেতা বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করে এবং বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় একের পর এক সাজা দিয়ে আপনার ক্রোধাগ্নী নির্বাপন করতে পারেননি, এর উপর মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে পাথর চাপা দিয়ে সারাজাতির দম বন্ধ করতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা কালাকানুন করে-আপনারা গণতন্ত্রকেই লকআপ করেছেন। এখন মানুষ মন খুলে কথা বলতে এবং হাসতেও ভয় পায়। মানুষ এখন ডিজিটাল আতংকে ভুগছে। আপনার নির্বাচনে ভোটারদের কোন অস্তিত্ব নেই, আপনার অধীনে যত নির্বাচন হয়েছে তা ভোট ডাকাতি। গণমাধ্যমগুলো’র মালিক ও সাংবাদিকরা চরম আতংকে আছেন। এরপরেও কী আপনাকে গণতন্ত্রের মানসকন্যা বলতে হবে ?
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুট হয়ে গেল, আপনার আমলে বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেল, ঘুষ ছাড়া এখন কিছুই হয় না, ঘুষ নিতে মন্ত্রীরাও কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে উৎসাহিত করে, আপনার কেবিনেটের অর্থমন্ত্রী সংসদে বলেছেন-বাংলাদেশে এখন পুকুর চুরি নয়, সাগর চুরি হচ্ছে, তারপরেও কি বলতে হবে আওয়ামী মহাজোট সরকার সৎ ও স্বচ্ছ সরকার ? আওয়ামী সরকার ভাসছে কী স্বচ্ছ সরোবরে ? পদ্মা সেতু’র দুর্নীতি নিয়ে যে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল তারা এখনও সেই অভিযোগ প্রত্যাহার করেনি। কুইক রেন্টাল বিদ্যূৎ খাতে ব্যাপক দুর্নীতিতে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে, জনগণের পকেট কেটেই বিদ্যূতে ভর্তূকী দেয়া হচ্ছে, আর জনগণের এই টাকা নয়-ছয় করেই ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও আত্মীয়স্বজনদের কেউ কেউ সিঙ্গাপুরে শ্রেষ্ঠ ধনী হচ্ছে, মালেশিয়া ও কানাডায় সেকেন্ড হোম ও বেগম পল্লী গড়ে উঠছে, তারপরেও কি বলতে হবে আওয়ামী সরকার ধোয়া তুলসী পাতা ? এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ প্রমূখ।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।