Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৮ কার্তিক ১৪২৬, ২৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

লিটন এখন আরো আত্মবিশ্বাসী

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৭ অক্টোবর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

এশিয়া কাপে যাবার আগে লিটন দাস বলেছিলেন, বড় খেলোয়াড় হতে হলে বড় ইনিংস খেলতে হয়। আরব আমিরাতে প্রথম চার ম্যাচে ভালো করতে না পারলেও ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করেন এই ওপেনার। ১১৭ বলে খেলেন ১২১ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। পেয়ে যান আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি, প্রথম বড় কোন ইনিংস। সেখান থেকে ফিরেই জাতীয় লিগে নিজের রেকর্ড ভেঙে করেন দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরি। মাত্র ১৪০ বলে। যেহেতু বড় ইনিংস খেলেছেন তাহলে তো তিনিও এখন বড় খেলোয়াড়? লিটন অবশ্য পা মাটিতেই রাখছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে লিটন ব্যাট হাসে অবশ্য নিয়মিতই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে ঠিক মেলে ধরতে পারছিলেন না। এশিয়া কাপের সেঞ্চুরির পর আত্মবিশ্বাসী লিটন এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ধারাবাহিকভাবে ভালো করতে চান।

ব্যাট হাতে ক্যারিয়ারের শুরু থেকে বেশ নড়বড়ে ছিলেন লিটন দাস। যতটা প্রতিভা নিয়ে তার আগমন, মাঠে বিচ্ছুরণ হচ্ছিল না তার ছিটেফোঁটাও। নড়বড়ে ভাবটা ছিল কথাবার্তাতেও। তালগোল পাকিয়ে সমালোচিতও হয়েছেন। এশিয়া কাপের ফাইনালে করা সেঞ্চুরি ব্যাট হাতে তাকে দিচ্ছে থিতু হওয়ার বিশ্বাস। সেই সেঞ্চুরির পর সংবাদ মাধ্যমের সামনে প্রথম মুখোমুখিতে কথাবার্তাতে দেখা গেল বেশ পরিণত ভাব, ‘এখনও বড় খেলোয়াড় হইনি (হাসি)। কিন্তু আমি চেষ্টা করব, ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নিয়মিত পারফর্ম করার।’

ঘরোয়া ক্রিকেটে রান পান নিয়মিতই। প্রথম শ্রেণীতে গড়টাও পঞ্চাশ ছাড়ানো, লিস্ট-এ ক্রিকেটেও তাই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোন কিছু হচ্ছিল না মনমতো, একদিনে নিজের ঘাটতির জায়গা চিনেছেন ভালো করে। এবার লক্ষ্যটাও ঠিক করে ফেলেছেন এই ওপেনার, ‘হ্যাঁ, আমার মূল লক্ষ্য এটাই। আমার মনে হয় আমি যখন ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলি, তখন ধারাবাহিক পারফর্মেন্স দিয়ে থাকি। ওই জিনিসটাই ঘাটতি ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। আমি চেষ্টা করছি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ধারাবাহিক ভাবে পারফর্ম করে যাওয়ার।’ তারপরও এশিয়া কাপের সেঞ্চুরিটিকেই তাই নিজের জন্য মানছেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সেঞ্চুরিই বেশি গুরুত্ববহ। আপনারাও ভাল জানেন, আমি অনেক দিন ধরেই ব্যাকফুটে ছিলাম। পারফর্ম করাটা আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পাশাপাশি এটি আমার জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি, এটা আমার জন্য অনেক ব্যাপার।’

খারাপ খেলতে থাকলে নিজের সামর্থ্য নিয়ে নিজেরই তৈরি হয় সংশয়। একটা কোন ভাল ইনিংস পাল্টে দেয় পুরো পরিস্থিতি। ওই সেঞ্চুরিও তাই লিটনকে করছে নির্ভার, ‘আমি বলবো না যে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস আছে। তবে আগে থেকে একটু চাপ মুক্ত অবস্থায় আছি, এটা বলতে পারেন। আর নিজের প্রতি একটু আত্মবিশ্বাস এসেছে। যখন ভাল কিছু করে তখন নিজের ভেতর এই জিনিসটা আসে। কিছু পেতে হলে তো কিছু দিতেও হবে। আমিও জানি যে আমাকে রান করতে হবে। দলের সদস্যরাও চাইবে, যেহেতু আমি ভালো খেলেছি, সেটা যেন ধরে রাখি। এটা দুই দিক দিয়েই থাকবে। আমার মূল লক্ষ্য এটাই (ধারাবাহিকতা)। আমার মনে হয়, আমি যখন ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলি, তখন ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে থাকি। ওই জিনিসেরই ঘাটতি ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। আমি চেষ্টা করছি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে যাওয়ার।’

এই সেঞ্চুরি থেকে পাওয়া বিশ্বাস নিয়েই লিটন ছুটতে চান আরও অনেক বড় ইনিংসের পথে। একটা জায়গায় যেমন এখন তিনি চাপমুক্ত, আবার প্রত্যাশার চাপও এখন বাড়তে থাকবে আস্তে আস্তে। সেই বাস্তবতা লিটন জানেন। তাই ঘরোয়া ক্রিকেটের মতোই ধারাবাহিক হতে চান আন্তর্জাতিক আঙিনায়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: লিটন


আরও
আরও পড়ুন