Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

হযরত ইমাম মাহ্দী ও ঈসা (আঃ)-এর শুভ আগমন কবে হতে পারে

ডক্টর মুহম্মদ রুহুল আমিন | প্রকাশের সময় : ১৮ অক্টোবর, ২০১৮, ১২:০৪ এএম

(পূর্বে প্রকাশিতের পর) এটা হলো ১৯৪৫ সালের ঘটনা। বর্তমানে অর্থাৎ ২০১৮ সালে রাশিয়া ও আমেরিকায় এমন এমন নিউক্লিয়ার বোমা জবধফু আছে যা জাপানের হিরোশিমায় ফেলা বোমার থেকে ১ লক্ষ গুণ বেশি শক্তিশালী। অর্থাৎ পৃথিবীর বড় একটি শহর যেমন নিউইয়র্ক, টরেন্টো, মস্কো, ঢাকা একেকটা বোমায় উড়ে যাবে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কালো কয়লায় পরিণত হবে। আপনার আমার চোখের সামনেই এ ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। আমেরিকার ৭ হাজার বোমার নিউক্লিয়ার বাটনটি আমেরিকার প্রেসিডেন্টের টেবিলে থাকে। এই বাটনকে বলা হয় “Nuclear Biscuit”. এখন সব বোমা রেডি আছে। এটা হল ২০১৮ সাল, এখন আমাদের বুঝতে হবে যে, কবে কখন এই নিউক্লিয়ার যুদ্ধটা শুরু হতে যাচ্ছে। এখন এ অবস্থা থেকে বাঁচার উপায় কি?

এই নিউক্লিয়ার যুদ্ধের শেষের দিকে পৃথিবীর মানুষ মরতে মরতে যখন তিনভাগের দুই ভাগ মানুষ মারা যাবে, তখন খাঁটি মুমিন বান্দারা আল্লাহতায়ালার কাছে আকুতি মিনতি করে কাঁদতে থাকবে আর বলতে থাকবে, হায়! হায়! আমাদের কি হবে? মুসলমানদের কি হবে? হে আল্লাহ! মুসলমানদের জন্য একজন নেতা পাঠান, যিনি আমাদেরকে এই কঠিন অবস্থা থেকে মুক্ত করতে পারবেন।

ঐ বছরের হজ্ব পড়বে শুক্রবার। শুক্রবারের হজ্বকে বলা হয় ‘হজ্বে আকবার’। ২০২৬ সালে ১০ই জিলহজ্ব পড়ে শুক্রবার। তারিখটা হল ২ মে, ২০২৬ সাল। ঐ দিন দুপুর বেলায় জুম্মার সময় কা’বা শরীফের মূলতাজাম ও হাজরে আসওয়াদ-এর মাঝখানে যখন ঈমাম মাহ্দী কাবা ঘর তাওয়াফ করতে করতে আসবেন তখনই জিবরাইল (আঃ) ঘোষণা করবেন যে, ইনিই ঈমাম মাহ্দী। তখন মুসলমানেরা দলে দলে ইমাম মাহ্দীর হাতে বাইয়াত গ্রহন করবেন।

হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) সৈয়দ বংশোদ্ভুত ও হযরত ফাতেমা জোহরা (রাঃ)-এর বংশধর হবেন। তাঁর প্রকৃত নাম হবে মুহাম্মাদ, পিতার নাম আবদুল্লাহ ও মাতার নাম আমিনা। তিনি ইলমে লাদুন্নি অর্থাৎ আল্লাহ প্রদত্ত বিশেষ বিদ্যা ও বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী হবেন, যা একমাত্র হযরত খাজা খিজির (আঃ) ও হযরত রাসুলে আকরাম (সাঃ) ব্যতীত অন্য কাউকে দেয়া হয়নি। তাঁর মুখাকৃতি অবিকল হযরত রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর ন্যায়, গায়ের রং ফর্সা, আকৃতি লম্বা ও ছিপছিপে পাতলা ধরনের হবে। মুসলমানগণ খৃষ্টানদের সহিত যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর হতেই একজন উপযুক্ত নেতার সন্ধান করতে থাকবে, যাঁর নেতৃত্বে তারা যাতে পুনরায় তাদের হৃতরাজ্য পুনরুদ্ধার করতে পারে। রাসুলে আকরাম (সাঃ) ভবিষ্যৎ বাণী করেছেন যে, যে বৎসর রমযান মাসে চন্দ্র গ্রহণ ও সুর্য গ্রহণ সংঘটিত হবে, ঠিক সেই বৎসরই ইমাম মাহদী (আঃ) আত্মপ্রকাশ করবেন। ইতিমধ্যে এক বৎসর রমযান মাসে ঠিক উভয় গ্রহণ সংঘটিত হলেই মুসলমানগণ হযরত ইমাম মেহেদীর খোঁজ করতে থাকবে। এই সুযোগে কতিপয় ভন্ড নিজেদেরকে ইমাম মেহেদী বলে দাবী করবে। কিন্তু যিনি প্রকৃত ইমাম মেহেদী, তাঁর উপরে লোকে খেলাফতের বিরাট দায়িত্ব চাপিয়ে দেবে, এই আশংকায় তিনি স্বীয় পরিচয় প্রদান করবেন না; বরং তিনি মদীনা হতে মক্কায় গিয়ে আত্মগোপন করে খানায়ে কা’বায় তোয়াফে লিপ্ত থাকবেন। ঠিক এই সময় কতিপয় লোক তাঁকে প্রকৃত ইমাম মেহেদী বলে চিনতে পারবে ও তাঁর হাতে বাইয়াত হবে এবং তাঁকে খেলাফতের দায়িত্ব অর্পণ করবে। হযরত ইমাম মেহেদীর (আঃ) খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করার সংবাদ প্রচারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মদীনার সমস্ত সৈন্য সামন্ত ও নেতৃস্থানীয় লোকগণ মক্কায় তাঁর নিকট চলে আসবে এবং মক্কার অগনিত লোকও তাঁর নিকটে বাইয়াত হবে ও তাঁর সেনাদলে ভর্তি হবে। শ্যাম, ইরাক ও ইয়ামেনের অগণিত আওলীয়া ও আবদালগণ তাঁর পতাকা তলে সমবেত হবেন। হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) খানায়ে কা’বার নিম্নে প্রোথিত বিপুল পরিমাণ গুপ্তধন বের করে মুসলমানদের মধ্যে বিতরণ করে দেবেন। ওদিকে মুসলিম সেনা দলের সংঘবদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে খৃষ্টানগণ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ হতে সৈন্য যোগাড় করে বিরাট সেনাবাহিনী গঠন করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে সিরিয়ায় সমবেত হবে। তাদের সেনা দলে সর্বমোট আশিটি পতাকা থাকবে এবং প্রত্যেক পতাকার অধীনে বারো হাজার করে সৈন্য থাকবে। হযরত ইমাম মাহদীর নেতৃত্বে মুসলিম সেনাদল দামেস্কের নিকট পৌঁছলে খৃষ্টানদের সাথে তাদের একটা খন্ড যুদ্ধ হবে। এই সময় মুসলিম সেনাদল তিনদলে বিভক্ত হয়ে একদল খৃষ্টানদের ভয়ে রণক্ষেত্র পরিত্যাগ করে পালিয়ে যাবে, এক দল বিপুল বীর বিক্রমে যুদ্ধ করে শহীদ হবে এবং অপর একদল আল্লাহর অসীম রহমতে জয়লাভ করবে। অতঃপর তিনি রাজ্যের শৃঙ্খলা বিধান, শান্তি স্থাপন ও সুষ্ঠুভাবে রাজ্য পরিচালনার দিকে মনোনিবেশ করবেন।-(তাফসীরে ইবনে কাসীর)

দাজ্জাল সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যবর্তী কোনো স্থান হতে আবির্ভুত হবে। দাজ্জালের একটা ফিতনা এই হবে যে, সে কোনো গ্রাম্য লোককে বলবে, যদি আমি তোমার মৃত মাতা-পিতাকে পুনর্জীবিত করে দেই, তবে কি তুমি সাক্ষ্য দিবে যে, আমি তোমার প্রতিপালক প্রভূ? লোকটি বলবে, হাঁ! আমি এইরূপ সাক্ষ্য দিব! অতঃপর শয়তান উক্ত লোকটির মাতা ও পিতার রূপ ধরে তার সম্মুখে উপস্থিত হবে। তারা বলবে, ওহে বৎস! তাকে মানিয়া লও। তিনি তোমার প্রতিপালক প্রভূ। দাজ্জালের একটি ফিতনা হবে এই যে, কোনো গোত্র তাকে মিথ্যাবাদী বলে প্রত্যাখ্যান করলে তাদের গৃহপালিত পশু ধ্বংস হয়ে যাবে। কোনো গোত্রের লোকেরা তাকে সত্যবাদী বলে গ্রহণ করলে সে আকাশকে বৃষ্টি বর্ষণ করতে আদেশ করবে আর আকাশ তার আদেশ মুতাবিক বৃষ্টি বর্ষণ করবে। সে পৃথিবীকে উদ্ভিদ ও ফসল উৎপাদন করতে আদেশ করবে আর পৃথিবী তার আদেশে উদ্ভিদ ও ফসল উৎপাদন করবে। তাদের গৃহপালিত পশুগুলি সেই দিনেই মোটা, তাজা, উচু, লম্বা ও বলিষ্ঠ হয়ে যাবে। উহাদের উদর ও পার্শ্বদ্বয় প্রশস্ত হয়ে যাবে এবং উহাদের দুগ্ধবর্তী পশু পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। অথচ ইতিপূর্বে উহারা কখনো এইরূপ ছিল না। দাজ্জালের একটি ফিতনা এই হবে যে, সে পৃথিবীর সর্বত্র বিচরণ করবে এবং পবিত্র মক্কা ও পবিত্র মদীনা ভিন্ন সমুদয় পৃথিবী সে অধিকার করে নিবে। পবিত্র মক্কা ও পবিত্র মদীনার যে পথ দিয়াই সে প্রবেশ করতে চেষ্টা করবে, সে পথেই ফেরেশতাগণ সূতীক্ষ্ন তরবারী দ্বারা তাকে প্রতিহত করবে। অতঃপর সে সাবখা সীমান্তে অবস্থিত ‘আযযরীবুল আহমার’ নামক স্থানে আগমণ করবে। এই সময়ে পবিত্র মদীনায় তিনটি ভুমিকম্প সংঘটিত হবে। ইহাতে সকল মুনাফিক নর-নারী উহা হতে বের হয়ে গিয়ে দাজ্জালের সহিত মিলিত হবে। লৌহকারের হাপর যেরূপে লোহাকে মরিচামুক্ত করে দেয়, সেইরূপে মদীনা তখন অপবিত্র আত্মা হতে নিজেকে মুক্ত ও পবিত্র করে ফেলবে। এই যুগটি ‘নাজাতের যুগ’ নামে অভিহিত হবে। (তাফসীরে ইবনে কাসীর) (চলবে)



 

Show all comments
  • আবু রাইহান ২০ অক্টোবর, ২০১৮, ২:৪২ পিএম says : 0
    ২০২৬ সাল সম্পর্কে বিস্তারিত বললে খুশি হতাম
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।