Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭, ০৭ সফর ১৪৪২ হিজরী

দরিদ্র চাষির কৃষি-বিপ্লব

শ্যামনগর(সাতক্ষীরা)উপজেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ১৮ অক্টোবর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউপির কুলতলি গ্রামে শাক-সবজি উৎপাদনে জৈব প্রযুক্তি ব্যবহার করে এলাকায় বিপ্লব ঘটিয়েছেন দরিদ্র কৃষক রতিকান্ত মাঝি(৬০)।
লবণাক্ততা ও লবন পানির প্রভাবের মধ্যে বাস করে রাসায়নিক সার কীটনাশক বিহীন শাক-সবজির স্বাদ, মান নিয়ন্ত্রণে কৃষিতে জৈব প্রযুক্তি ব্যবহারই উত্তম সেটিই প্রমাণ করলেন কৃষক রতিকান্ত। ঘরবাড়ী সহ মোট ১২ কাঠা জমির মধ্যে মাত্র ৮ কাঠা ভিটায় মৌসুম ভিত্তিক শাকসবজি লাল শাক, পালং শাক, আলু, টমেটো, কচু, মিষ্টি কুমড়া, মিষ্টি আলু, বেগুন, ঢেড়স, ঝিঙা, করোলা, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ অন্যান্য সবজি নিজে উৎপাদন করে ৪ সদস্যের পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে মাসিক ৩/৪ হাজার টাকা সঞ্চয় করেন। তিনি নিজেই বীজ সংরক্ষণ করেন এবং অতিরিক্ত বীজ স্থানীয়দের মধ্যে বন্টন করে থাকেন।
তিনি বলেন বাড়ীর সকল ময়লা আবর্জনা, হাঁস মুরগীর বিষ্ঠা, ছাগলের পায়খানা এ গুলি ভিটার এক কোণে গর্ত করে সংরক্ষণ করে পচিয়ে জৈব সার তৈরী করে সারা বছর সবজির ক্ষেতে ব্যবহার করেন। বাড়ীর নিম গাছের পাতা শুকিয়ে গুড়া করে ও মেহগনি গাছের ফল শুকিয়ে বেটে রস বের করে পানির মধ্যে দিয়ে ক্ষতিকর পোকা মাকড় থেকে রক্ষা পেতে সবজির ক্ষেতে স্প্রে করেন। যার ফলে তার রাসায়নিক সার কীটনাশক ক্রয় করা লাগেনা। তিনি বলেন জৈব প্রযুক্তিতে উৎপাদিত শাক-সবজির স্বাদ রাসায়নিক ব্যবহারে উৎপাদিত সবজির থেকে বহু গুণে ভিন্ন। তিনি গর্ব করে বলেন তার বাড়ীর তৈরী সবজি বাজারে নিয়ে গেলে অল্প সময়ের মধ্যে বিক্রী শেষ এবং বাজারে বিভিন্ন পেশাজীবি ক্রেতারা তাকে খোঁজাখুজি করেন সবজি ক্রয়ের জন্য।
কৃষক রতিকান্ত মাঝির এই জৈব প্রযুক্তিতে উৎপাদিত শাক সবজির ফলনের বিপ্লব দেখে এলাকার অনেকেই নিজ বাড়ীতে জৈব প্রযুক্তিতে সবজি উৎপাদন শুরু করেছেন। রতিকান্ত মাঝি বলেন বর্তমানে তার পরিবারে পেটের পীড়া,চর্ম রোগ সহ অন্যান্য রোগ কমেছে। তিনি বলেন গত তিন চার বছর পূর্বে বেসরকারি সংগঠন কারিতাস বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রকল্পের সাথে যুক্ত হয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে জৈব প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজের বসত ভিটায় সবজি উৎপাদন শুরু করেন। তার বাড়ীর ছোট একটি পুকুরে দেশীয় মাছ রুই,কাতলা,মৃগেলের চাষ করেছেন এবং দেড় বিঘা ধানের জমিতে জৈব প্রযুক্তি ব্যবহারে আমন ফসল উৎপাদনে কৃষকদের মন জয় করেছেন।
দিনে দিনে তার নৈপুণ্যতার কারণে উপজেলা কৃষি অফিসসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন তাকে কৃষক ট্রেনার হিসেবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণে নিয়ে যান। নিজে আর্থিক দুবস্থার কারণে প্রাথমিক পর্যন্ত লেখাপড়া শিখেছিলেন এবং এক মাত্র ছেলেকে এসএসসি পাশ করালেও ও এক মাত্র মেয়েকে মাধ্যমিকের গন্ডি পার করতে পারেননি। তার আয়ের উপর দিয়ে নিজ কন্য ও পুত্রকে বিয়ে দিয়েছেন। বসত ঘর টিন দিয়ে ছাউনি করেছেন।
তিনি বলেন আইলার কারণে অনেক ফল গাছ হারিয়ে গেছে। তার এ সকল কাজে স্ত্রী গান্ধারী মাঝিও সঙ্গে থেকে সহায়তা করেন। তিনি বলেন আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে অনেক সময় ইচ্ছা থাকলেও অনেক ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয়ে উঠেনা।
কৃষক রতিকান্ত সরকাররের দৃষ্টি কামনা করে বলেন লবণাক্ততা এলাকায় শাক সবজি উৎপাদনে লবণাক্ততার প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে অন্য কোন প্রযুক্তি থাকলে এবং সেটি কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারলে কৃষকরা জৈব প্রযুক্তিতে ফসল উৎপাদনে উৎসাহিত হবে ফলে মানুষের রোগ বালাই কমে যাবে এবং এলাকায় শাক-সবজির বিপ্লব ঘটবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কৃষি

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন