Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

টেকসই ওয়াশ কার্যক্রম চ্যালেঞ্জের মুখে

উপকূলীয় ও হাওর এলাকা এসডিজি অর্জনে সমন্বিত পরিকল্পনার তাগিদ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ অক্টোবর, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির কারণে উপকূলীয় ও হাওর এলাকায় টেকসই ওয়াশ কার্যক্রম বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে। বিশেষত উপকূলীয় এলাকায় পানিতে মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততা, আর্সেনিকের উপস্থিতি, ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া, পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় পানির তীব্র সঙ্কট এবং ব্যয়সাশ্রয়ী প্রযুক্তির উপকরণের অভাবে ওয়াশ কার্যক্রম বাস্তবায়ন দুরূহ ব্যাপার। তাই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-৬) অর্জনে নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) নিশ্চিত করতে জনসচেতনতার পাশাপাশি সমন্বিত পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। গতকাল বুধবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘টেকসই ওয়াশ কার্যক্রম : তৃণমূলের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ দিক নির্দেশনা’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। এসডিজি-৬ অর্জনে ওয়াশ কর্মসূচিকে জোরদার করা এবং সুপারিশসমূহ তুলে ধরার লক্ষ্যে ব্র্যাক এই আয়োজন করে।
অতিথি ও প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত নেদারল্যান্ড দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি পিটার ডি ভ্রিস, ওয়াটার এইড-এর আবাসিক প্রতিনিধি ডা. খায়রুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ গোলাম মুকতাদির, এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ এর নির্বাহী পরিচালক এস এম এ রশীদ, ইউনিসেফ বাংলাদেশ এর ওয়াশ স্পেশালিস্ট মোহাম্মদ শফিকুল আলম এবং ব্র্যাকের কমিউনিকেবল ডিজিজ ও ওয়াশ কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. আকরামুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ডা. মুহাম্মাদ মুসা। অনুষ্ঠানে এই সংক্রান্ত উপস্থাপনা তুলে ধরেন ব্র্যাকের ওয়াশ ও ম্যালেরিয়া কর্মসূচির প্রধান ডা. মুকতাদির কবির।
ডা. খায়রুল ইসলাম টয়লেট ব্যবস্থাপনায় জনবলের উপর গুরুত্বারোপ করেন। পিটার ডি ভ্রিস বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রচলিত টয়লেট ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে নতুন উদ্যোগ, সক্ষমতা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় করণীয় নিয়ে নেদারল্যান্ড সরকার বিনিয়োগে আগ্রহী।’
ডা. মুহাম্মাদ মুসা বলেন, এসডিজি অর্জন করতে হলে আমাদের কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য- দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকার প্রতিবন্ধকতাগুলো নিরসনে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া, সরকারি- বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়, বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ওয়াশ কার্যক্রম জোরদার করা এবং মাঠ পর্যায়ে ও নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আরও অ্যাডভোকেসি করা।
আলোচনায় সুপারিশ করা হয় স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনে টেকসই ও নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় পানির অভাব দূরীকরণে বিশেষ ব্যবস্থা, প্রত্যন্ত এলাকায় উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া, এসডিজি-৬ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের অংশীদারত্ব ও সমন্বয় বাড়ানো, সরকারের কর্মসূচির সঙ্গে স্থানীয় সুধীজনকে অন্তর্ভুক্ত করে জনসচেতনতা তৈরি, স্যানিটেশন সুবিধা বাড়াতে বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোক্তা সৃষ্টি, স্বাস্থ্যবিধি ও পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারের আরও অর্থ বরাদ্ধ বৃদ্ধি, দেশের বিভিন্ন স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ওয়াশ কর্মসূচি জোরদার করা ইত্যাদি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ