Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ০৫ ভাদ্র ১৪২৬, ১৮ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীরা নিজ দেশে পরবাসী -রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২১ অক্টোবর, ২০১৮, ১২:৫৪ পিএম

বাংলাদেশে ক্রমপ্রসারমান নৈরাজ্যে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা এখন দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিনত হয়েছে। এরা যেন নিজ দেশেই পরবাসী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, অবৈধ শাসকগোষ্ঠী ফ্যাসিবাদের বিষাক্ত আক্রমনে সারাদেশটা আওয়ামী লীগের উপনিবেশে পরিনত হয়েছে। এদেশে আওয়ামী নেতাকর্মীরা ছাড়া ভিন্ন মত, পথ ও বিশ্বাসের মানুষের নিরাপদ সুস্থ্য জীবন নিয়ে বেচে থাকার কোন অধিকার নেই। নিরঙ্কুশ আওয়ামী আধিপত্যের কাছে কুর্নিশ করতে দেশের মানুষকে বাধ্য করার চেষ্টা করতে গিয়ে সরকারী অফিস, পুলিশ, প্রশাসন, হাসপাতাল, চিকিৎসা, স্কুল, কলেজ, ব্যাংক, বীমা সহ সর্বত্রই চলছে এক ভয়াবহ ‘এনার্কি ’। বিভাজনের নিকৃষ্ট পন্থা অবলম্বন করে জাতীয় পরিচয়ের চেয়ে দলীয় গজকাঠিতেই পরিমাপ করা হচ্ছে মানুষের যোগ্যতা, দক্ষতা, চিকিৎসা সেবা ও মানবতা। রোববার (২১ অক্টোবর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা দেয়া হচ্ছেনা অভিযোগ করে রিজভী বলেন, সরকারী ইচ্ছাধীন চিকিৎসায় দেশনেত্রী যে সুচিকিৎসা পাবেন না সেই আশঙ্কাটি আমরা পূর্বেই করেছিলাম। বিএনপি চেয়ারপারসনকে বন্দী করে রাখাই হয়েছেতো কষ্ট দেয়ার জন্য, সেখানে উন্নতমানের চিকিৎসার প্রশ্নই আসেনা। বি এস এম এম ইউতে শুধুমাত্র যে ফিজিও থেরাপী দেয়া হয় সেটিও পর্যাপ্ত নয়। তাঁর ব্যক্তিগত বিশেজ্ঞ ডাক্তারদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি স্বাস্থ্য পরিক্ষার জন্য, অথচ এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ছিল। দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে বিশেষায়িত হাসপাতালে দেশনেত্রীর চিকিৎসার দাবীকে সরকার তাচ্ছিল্য সহকারে অগ্রাহ্য করেছে রাষ্ট্রক্ষমতার আতিশয্যে। কারণ বেগম জিয়া সুস্থ্য হলে তো সরকার প্রধানের প্রতিহিংসা চরিতার্থ হবেনা। সেই জন্যই আধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে সজ্জিত বিশেষায়িত হাসপাতালের চিকিৎসার সুযোগ থেকে বেগম জিয়াকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

তিনি অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা দাবি করে বলেন, এখন এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন। বেগম জিয়ার মুক্তি ছাড়া প্রহসনের নির্বাচন জনগণ নির্ভিক চিত্তে প্রতিহত করবে। আমাদের এখন প্রধান লক্ষ্য নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা ও দেশনেত্রীর মুক্তি।

বিবাদীর অনুপস্থিতিতে মামলার রায় নির্ধারণ পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বেআইনীভাবে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রায় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৯ অক্টোবর ২০১৮। সরকার প্রধানের নির্দেশেই সম্পূর্ণ প্রতিহিংসামূলকভাবে এ রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে। সেজন্যই রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতের ওপর চাপসৃষ্টি করে রায়ের দিন ধার্য করে নিয়েছে। আরেকটি ফরমায়েশি রায় হতে যাচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য দেশবাসী প্রহর গুনছে। এ আদালতে ন্যায় বিচার পাওয়া যাবে কিনা সেই প্রশ্নও মানুষের মনে জেগে উঠছে।
রিজভী বলেন, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে চারদিকে নৈরাশের ছবি। সরকার পূণরায় একতরফা নির্বাচন করার জন্য এখন এজিদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ভোটাররা বাড়ী ছাড়া, ঘর ছাড়া, গ্রাম ছাড়া, জেলা ছাড়া। এজিদের মতো ফোরাত নদীর তীর অবরোধ করার ন্যায় এরা মানুষের ভোটাধিকারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। নির্বাচন নিয়ে সরকারের সন্ত্রাসী পরিকল্পনার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে বিরূপ মনোভাবের সৃষ্টি হচ্ছে। ইইউ ইসিকে পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছে তারা আগামী সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবেনা। অন্যান্য দাতা ও সাহায্য সংস্থা, বিদেশী মিশন থেকেও নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ বাংলাদেশে বর্তমানে নির্বাচনের কোন পরিবেশ নেই। নির্বাচন কমিশনার জনাব মাহবুব তালুকদার সাহেবকে নিয়ে আওয়ামীলীগ নেতারা যেভাবে আক্রমণ করে বক্তব্য দিয়েছেন তা সন্ত্রাসী আচরণ এবং তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কেন ছুটি নিয়েছেন নাকি নিতে বাধ্য করা হয়েছে তাও রহস্যজনক। ইসিকে সর্বোচ্চ চাপে রেখে কাজ করাচ্ছে সরকার।

তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কতিপয় কমিশনার ও কর্মকর্তারা নিজেরা যে আচরনবিধী তৈরি করছেন তা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থি আচরনবিধি। কারন এই কমিশনের কয়েকজন আধিকারিক কমিশনের ক্ষমতা কমিয়ে সরকারকে দিতে চান। সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করার নজীর পৃথিবীর কোথাও নেই। অথচ প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের সময় সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টির করতে আইন করতে চাচ্ছেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আরও জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত সহকারী এ্যাড: শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে হাইকোর্টের নিষেধ অমান্য করে পরপর তিনটি নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে। প্রচন্ড অসুস্থ্য শিমুল বিশ্বাসকে চিকিৎসাও দেয়া হয়নি। পিজিতে চিকিৎসা শুরু হতে না হতেই তড়িঘড়ি করে শুক্রবার বন্ধের দিন কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো যাবেনা, হাইকোর্টের আদেশ থাকা সত্বেও নজিরবিহীনভাবে গায়েবী মামলা দায়ের করা হয়েছে তার নামে। তিনি শিমুল বিশ্বাসের ওপর সরকারের অমানবিক আচরনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, স্ব নির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সহ দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন প্রমুখ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রিজভী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ