Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬, ১৪ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

ঐক্যফ্রন্ট চায় একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি

গণভবনে আ.লীগের যৌথ সভায় প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৭ অক্টোবর, ২০১৮, ১২:০২ এএম | আপডেট : ১২:৫২ এএম, ২৭ অক্টোবর, ২০১৮

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা দেশে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি চায় মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশটা যে সুন্দরভাবে চলছে। দেশের মানুষ স্বস্তিতে আছে, তাদের ভালো লাগছে না, তারা চায় একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। দেশটাকে অস্থিতিশীল করতে। সদ্যগঠিত এই জোটের নেতারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন চান কী না? তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, তারা নির্বাচন চায় কি চায় না? সেটাই বড়ো কথা। আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের জয় হবে বলে আশাবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের এক যৌথসভার সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ এবং সংসদীয় দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের ‘নিরপেক্ষ সরকারের’ অধীনে নির্বাচনের দাবির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যেহেতু একটা রায় হয়েছে উচ্চ আদালতে যে, কোনো অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সেই রায় থাকা সত্তে¡ও আমাদের আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আইনজীবী থেকে শুরু করে যারা বড়ো বড়ো আইনজীবী তারা কিভাবে দাবি করে যে, এখানে আরেকটা সরকার গঠন করে নির্বাচন দিতে হবে। এই দাবিটা কেনো? কিভাবে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সেই রায়ের পর আমাদের সংবিধান সংশোধন করেছি। ১৯৭২ এর সংবিধানে ঠিক যেরকম ছিল, যেভাবে নির্বাচনের জন্য যা যা লেখা ছিল আমরা সেইভাবেই নিয়ে এসেছি।
ড. কামালের নাম উল্লেখ না করে তার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, তাহলে একদিকে দাবি করবে সংবিধান রচয়িতা; অপরদিকে আবার সেই সংবিধানকে লঙ্ঘন করার জন্য নির্বাচনের অন্য ফর্মূলা দিবে। অনির্বাচিত একটা সরকার গঠন করতে বলবে। সরকারকে পদত্যাগ করতে বলবে। এই আবদরটা কেনো? কার স্বার্থে? কিসের স্বার্থে? সেটাই আমরা বুঝতে চাই। কি কারণে তারা এটা চাচ্ছে। তাদের যদি এতো শক্তি থাকে জনগণের সাথে আসবে, ভোট হবে।
ইভিএম নিয়ে সরকার বিরোধীদের আপত্তিরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ইভিএম দিতে চাই, দ্রুত মানুষ ভোট দিতে পারে। তাতেও আবার আপত্তি কিসের? সেটাও আমরা বুঝতে পারি না। ইভিএম আজকে ইন্টারন্যাশনালি ব্যবহার করে। এতে কেউ কারো ভোট চুরি করতে পারবে না। তাহলে সেখানে কি করে তারা আপত্তি জানায় আরও। তারা নির্বাচন চায় কি চায় না সেটাই বড়ো কথা।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা বিরোধী দলে থাকতে কথা বলা তো দূরের কথা একটা মিটিংও করতে দেয় নি। আমরা কিন্তু সকলের জন্য সভা-সমাবেশ উন্মুক্ত করে দিয়েছি। কাউকে বাধা দিই নি। এখন একটা ঐক্যজোট হয়েছে। তারা মুখে বড়ো বড়ো কথা বলে আর দুর্নীতিবাজ সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া এবং সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমান তাদের সাথে জোট করেছে। সেই দলসহ বিএনপি জামায়াত জোটসহ ঐক্য হয়েছে। তারা বললো, আমরা নাকি তাদের মিটিং করতে দিচ্ছি না। সিলেটে তারা মিটিং করলো। আগেই তারা বলে, আমাদের দিচ্ছে না। আমার যেটা মনে হয়, যে তারা চায় আমরা তাদেরকে বাধা দিই।
আগামী নির্বাচনেও জয়ের আশাবাদ জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, জয় আমাদের হবেই। জনগণ আমাদের সাথে আছে। জনগণের শক্তি নিয়েই আমরা ক্ষমতায় এসেছি। জনগণের ভোটেই আমরা ক্ষমতায় এসেছি। আমার জনগণের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা বিশ্বাস আছে। যে উন্নয়নের ছোঁয়া আজকে সকলের জীবনে লেগেছে, নিশ্চয় তারা সেটা ধরে রাখবে এবং আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দেবে। আওয়ামী লীগের জয় হবে।
তিনি বলেন, ইনশাল্লাহ আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীও আমরা উদযাপন করতে পারবো। আমরা না থাকলে আর কেউ ভালোভাবে করতে পারবে না। কারণ তাদের মনে পাকিস্তান। এখনো অনেকে বলে পাকিস্তান নাকি আমাদের চেয়ে বেশি উন্নত। যারা এটা বলে তাদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়া উচিত। বলা উচিত পাকিস্তানে যেয়ে দেখে আসেন। পাকিস্তানের ঋণ শোধের জন্য সৌদি আরব ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে। আমাদের কারো কাছে কোনো ঋণ নেই।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ আমরা করে রেখেছি, যাতে বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকে। আর সেই গতি অব্যাহত থাকবে যদি আওয়ামী লীগ আবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসতে পারে। তাহলে মানুষ সুন্দর জীবন পাবে। প্রত্যেকটা গ্রাম শহরে রূপান্তর হবে। নাগরিক সকল সুবিধা গ্রামে বসেই পাবে।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আর্ন্তজাতিকভাবেই প্রমাণিত বিএনপি একটি দুর্নীতিবাজ দল। দেশটাকে তারা লুটে খেয়েছিল। দেশের অনেকেই উন্নয়ন চোখে দেখে না বলেও মন্তব্য করেন টানা দুই মেয়াদের সরকার প্রধান। তিনি বলেন, উন্নয়ন তারা চোখে দেখে না, দেখবে না। চোখ থাকতে তারা অন্ধ।



 

Show all comments
  • নাজমুল হক ২৭ অক্টোবর, ২০১৮, ৮:০৪ এএম says : 1
    আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা সাথে আমি একমত পোষণ করছি
    Total Reply(0) Reply
  • হাসিব ২৭ অক্টোবর, ২০১৮, ৮:১২ এএম says : 3
    আমরা কী আমাদের ভোটাধিকার ফেরত পাবো না ?
    Total Reply(0) Reply
  • টুটুল ২৭ অক্টোবর, ২০১৮, ৮:১৩ এএম says : 1
    আওয়ামী লীগের জয় হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • Nannu chowhan ২৭ অক্টোবর, ২০১৮, ৮:৫৮ এএম says : 1
    Oaikko ghoton hoyse jonogoner voter odhikar o deshe gonotontro protishta korar dabi nia eaikhane orajogotar kono kisuoi nai jodi apnara eai dabi mene nen....
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammed Hussain ২৭ অক্টোবর, ২০১৮, ১২:২৮ পিএম says : 3
    People like oykko front
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammed Shah Alam Khan ২৭ অক্টোবর, ২০১৮, ১২:৫২ পিএম says : 2
    সদ্যগঠিত এই জোটের নেতারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন চান কী না? তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর উপর তিনি যেসব যুক্তি এনেছেন সবই সঠিক তাই এটা বলা যায় জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট নির্বাচন মুখি নয় এরা সরকারকে পতন করার পন্থায় ধাবিত হচ্ছে। আমরা মনে করি প্রধানমন্ত্রীর এই সংশয় সঠিক কারন নির্বাচন চাইলে তাদের দেয়া দাবী সঠিক নয়। তাদের দাবী অবশ্যই নির্বাচন মুখি হতে হবে কিন্তু তারা সেখানে খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়াকে আবার গদীতে বসানোর পাঁয়তারা করছে। কাজেই এনারা নির্বাচন চান না এনারা চান দেশে একটা বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টি করে পানি ঘোলা করে মাছ শিকাড় করতে। কিন্তু জনগণ এখন সজাগ তারা বুঝে কারা দেশ প্রেমিক আর কারা পাকিস্তান প্রেমিক। আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে দেশের প্রতি নমনীয় করেন। আমিন
    Total Reply(0) Reply
  • Safa ২৭ অক্টোবর, ২০১৮, ৩:২২ এএম says : 1
    okko front ja sae ta desbasi jane.
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammed Kowaj Ali khan ২৭ অক্টোবর, ২০১৮, ৩:২৫ এএম says : 3
    আপনাদের যে দিন পতন হইবে সেই দিন আপনাদেরকে জনগণ কি যে করিবে? বলা যায় না। ...............
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: প্রধানমন্ত্রী

২০ জানুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন