Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৩ পৌষ ১৪২৫, ৯ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

যাত্রা শুরু হল বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবন্দরের

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩০ অক্টোবর, ২০১৮, ৭:১৬ পিএম

যাত্রা শুরু করেছে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর। এর প্রথম ফ্লাইট হিসেবে মঙ্গলবার একটি বিমান আঙ্কারার উদ্দেশে রওয়ানা হয়। একই দিন প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট যায় তুর্কি সাইপ্রাসে। এ বছরের শেষ নাগাদ বিমানবন্দরটিতে প্রতিদিন ৩৫০টি গন্তব্যের জন্য বিমান ২০০০ বার উঠানামা করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। লিম্যাক, কোলিন, সেনগিজ, মাপা ও ক্যালন এই পাঁচটি বৃহৎ কোম্পানির মিলিত কনসোর্টিয়াম এই বিমানবন্দরটি নির্মাণ করে।
এর আগে, সোমবার প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বিমানবন্দরটির উদ্বোধন করেন। তুর্কি প্রজাতন্ত্রের ৯৫তম বার্ষিকীতে এর উদ্বোধন করা হয়। এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তুর্কি সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট, কাতারের আমির ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ১৮টি দেশের ৫০ জন উচ্চ পর্যায়ের অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
কামাল আতাতুর্ক বিমানবন্দরের পরিবর্তে এখন থেকে এটিই ইস্তাম্বুলের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হবে। তুরস্কের নিজস্ব অর্থায়নে দুই হাজার ৬০০ কোটি ইউরো ব্যয়ে বিমানবন্দরটি নির্মিত হয়েছে। সাত কোটি ৬০ লাখ বর্গমিটার আয়তনের এ বিমানবন্দর দিয়ে বর্তমানে বছরে ৯ কোটি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে। প্রথম পর্যায়ের এই অংশের কাজ সম্পন্ন করতে ব্যয় হয়েছে ৬০০ কোটি ইউরো।
১০ সহস্রাধিক লোক এ প্রকল্পে কাজ করেছে। এতে তুরস্ক ও বিদেশের মোট ২৫০ জন স্থপতি এবং পাঁচ শতাধিক প্রকৌশলী এই নির্মাণকাজে যুক্ত ছিলেন। তুরস্কের পরিবহন ও অবকাঠামো বিষয়ক মন্ত্রী সেহিত তুরহান জানান, আপাতত দুটি রানওয়ে ও একটি টার্মিনাল চালু করা হবে, যা দিয়ে বছরে নয় কোটি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। এর সাথে একটি প্রধান এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার, একটি কার্গো হাউজও চালু হবে। চালু হওয়া দুই রানওয়ের একটি চার দশমিক এক কিলোমিটার এবং অপরটি তিন দশমিক ৭৫ কিলোমিটার লম্বা। এ অংশে আপাতত ৩৪৭টি বিমান অবস্থান করতে পারবে। কামাল আতাতুর্ক থেকে প্রধান ফ্লাইটগুলো এ বিমানবন্দরে সরিয়ে আনতে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগবে।
দেখে নেয়া যাক এখন পর্যন্ত পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিমানবন্দরগুলো-
২. হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন এয়ারপোর্ট, আটলান্টা, যুক্তরাষ্ট্র: যাত্রী সংখ্যার বিচারে আটলান্টাকে কেউ পেছনে ফেলতে পারবে না। ২০১৭ সালে প্রায় ১০ কোটি ৪০ লাখ মানুষ এই বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করেছেন। অন্য কেউ ১০ কোটি পর্যন্তই পৌঁছাতে পারেনি।
৩. বেইজিং ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, চীন: এই বিমানবন্দর ২০১৭ সালে ব্যবহার করেছেন ৯ কোটি ৫৮ লাখ মানুষ। ২০০৮ অলিম্পিকের আগে তৈরি করা হয়েছিল এই বিমানবন্দরটি।
৪. দুবাই ইন্টারন্যাশনার এয়ারপোর্ট, আরব আমিরাত: ২০১৭ সালে দুবাই বিমানবন্দর ব্যবহার করেছেন ৮ কোটি ৮০ লাখেরও বেশি মানুষ। মজার ব্যাপার হলো, এর মধ্যে ৮ কোটি ৭৭ লাখ মানুষই আরবের নন। অনেকেই এই বিমানবন্দরে শপিং করতে ভালোবাসেন।
৫. টোকিও হানেদা এয়ারপোর্ট, জাপান: জাপানের রাজধানী টোকিও’র এই বিমানবন্দরটি বছরে প্রায় ৮ কোটি ৫৪ লাখ মানুষ ব্যবহার করেন।
৬. লস এঞ্জেলেস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, যুক্তরাষ্ট্র: ছুটিতে ক্যালিফোর্নিয়া গেলে মোটামুটি নিশ্চিত যে, আপনি এই বিমানবন্দরেই নামবেন। আটলান্টার মতো না হলেও বছরে প্রায় সাড়ে আট কোটি মানুষ এটি ব্যবহার করছেন।
৭. ও’হারে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, শিকাগো, যুক্তরাষ্ট্র: শিকাগোতেও শান্তি নেই জার্মান ফুটবল তারকা বাস্টিয়ান শোয়াইনস্টাইগারের ফ্যানদের। কারণ, শিকাগো ফায়ারে যোগ দেয়া এই সাবেক বায়ার্ন ও ম্যানইউ তারকাকে বিমানবন্দরে খুঁজে পেতেই খবর হয়ে যাবে। কারণ, এই বিমানবন্দর দিয়ে চলাফেরা করা ৭ কোটি ৯৮ লাখ যাত্রীর একজন তিনি।
৮. লন্ডন হিথ্রো, যুক্তরাজ্য: লন্ডনের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর হিথ্রো। ফি বছর এখান থেকে ৭ কোটি ৮০ লাখ মানুষ বিমানে ওঠানামা করেন। আর মাত্র দু’টি রানওয়ে দিয়েই বিমানবন্দরটি তা ম্যানেজ করে।
৯. হংকং ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, চীন: ২০১৭ সালে এই বিমানবন্দরটি ব্যবহার করেছেন ৭ কোটি ২৬ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী।
১০. সাংহাই পুদং ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, চীন: সাংহাইয়ে দু’টি বড় এয়ারপোর্ট আছে। এর একটি এই পুদং। এখানে বছরে ৭ কোটি যাত্রী বিমানে ওঠানামা করেন।
সূত্র: ডয়েশ্চ ভ্যালে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।