Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার , ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও প্রতিকারের উপায়

ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহান মজুমদার | প্রকাশের সময় : ৩১ অক্টোবর, ২০১৮, ১২:০৪ এএম

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের নানাবিধ সমস্যায় ফেলে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরো কঠিন পরিস্থিতি সম্মুখীন হতে হবে। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অসময়ে অনাবৃষ্টি, বৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়সহ অতি গরম আবহাওয়া তৈরি হচ্ছে। যখন আমাদের আবহাওয়া আরো উত্তপ্ত হবে তখন সমুদ্রের পানি আস্তে আস্তে উপরের দিকে উঠতে থাকবে। ফলে বাংলাদেশের অনেক এলাকা প্লাবিত হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে আমাদের উপকূলীয় এলাকা এবং সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারসহ অন্যান্য এলাকা। দিন দিন পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে অতিবাহিত হতে পারে। বাংলাদেশের জনসংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই জনসংখ্যার জন্য কৃষি জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ বাড়ছে। ফলে কৃষি জমি হ্রাস পাচ্ছে। গাছগাছালি কেটে ফেলতে হচ্ছে। অন্যদিকে শিল্প কারখানা স্থাপন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ইটভাটার পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই ইট ভাটার কালো ধূয়া পরিবেশকে মারাত্মক ক্ষতির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। এর প্রভাব আমাদের শ্বাস কষ্টসহ শরীরের এলার্জির সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। নানা ধরনের রোগব্যাধি বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন। কল কারখানার বর্জ্যগুলি নদীতে চলে যাচ্ছে, ফলে পানি দূষিত হচ্ছে। আবার এই পানি আমরা ব্যবহারের কারণে শরীরে নানা ধরনের রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। 

বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বিশ্বের উন্নত দেশগুলো এক হতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের এখনো জলবায়ুর পরিবর্তন ব্যাপক আকার ধারণ করেনি, তবে আমরা যদি এখনই এর থেকে উত্তরণের জন্য সচেষ্ট না হই তাহলে সামনে অনেক বড় সংকটের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
ইটভাটার জন্য মাটি সংগ্রহের কারণে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষি জমি কমে যাওয়া, কার্বন ডাই অক্সাইড বেড়ে যাওয়া, পলিথিন এবং অন্যান্য বর্জ্য, শিল্পকারখানার বর্জ্য, পশু পাখি কমে যাওয়া, বনাঞ্চল কমে যাওয়া, বিল্ডিং বেড়ে যাওয়া, কৃষি জমি কমে যাচ্ছে এছাড়াও নানামাত্রিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি আমরা। আগে আমরা জৈব সার ব্যবহার করার কারণে আমাদের জমিগুলো উর্বর থাকতো। আমরা কৃত্রিম সার ব্যবহার করার কারণে সাময়িকভাবে উপকার পেলেও জমির উবরর্তা ঠিকই হ্রাস পাচ্ছে। নদী নালা ভরাট করা হচ্ছে নানা কারণে। ফলে পানির প্রবাহ কমে যাচ্ছে। এতেও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে নদী ভাঙ্গন ব্যাপক আকার ধারণ করছে। শরীয়তপুরে অনেক এলাকা ভেঙ্গে যাচ্ছে। যার কারণে পানির সঠিক প্রবাহ স্থির হতে পারছে না। দিনে দিনে নদীর ভাঙ্গন বাড়ছে। আমরা লেকগুলোর উপরে বাড়ি ঘর নির্মাণ করছি। ফলে ঐ এলাকার বায়ু অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। অতি গরমের কারণে এসি ব্যবহার বাড়ছে।
বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় বেশি করে বনাঞ্চল বাড়াতে হবে এবং অল্প জায়গা ব্যবহার এবং বহুতল বিল্ডিং এবং শিল্পকারখানা স্থাপন করতে হবে। যাতে পরিবেশের কোন ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। শিল্পকারখানার বর্জ্য পরিশোধন করে তা নির্দিষ্ট স্থানে জমা রাখতে হবে এবং এই বর্জ্য থেকে রিসাইকেলিং করে কীভাবে অন্যকাজে লাগানো যায় এবং নতুন নতুন উদ্ভাবন প্রযুক্তি কাজে লাগাতে হবে। কল কারখানার কালো ধূয়া পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে। তাই এখন থেকে গ্রিন ফ্যাক্টরির উদ্যোগ নিতে হবে। যাতে করে পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয়। প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য এবং পলিথিনের ব্যবহার কমাতে হবে। এই প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য সহজে নষ্ট হয় না, যার কারণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে হবে। সৌর বিদ্যুৎ পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না।
ট্যানারি বর্জ্য পরিশোধনের ব্যবস্থা করতে হবে। ট্যানারির বর্জ্য যাতে করে খাল-বিল নদী-নালায় না যায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। ট্যানারি বর্জ্য খাল-বিল নদী নালায় চলে গেলে নানান রোগ-ব্যাধি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ট্যানারির বর্জ্য পরিশোধন করে ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে হবে।
শিল্প কল কারখানা করতে লক্ষ রাখতে হবে যেন কৃষি জমি নষ্ট না হয়। অল্প জায়গা ব্যবহার করে শিল্পকারখানা তৈরি করতে হবে। শিল্পকারখানার আশেপাশে গাছগাছালি লাগানো বা থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষি জমি ধ্বংস না করে বহুতল বিল্ডিং নির্মাণ করতে হবে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি দেশের জন্য এক বিরাট সমস্যা। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে চাহিদা বেড়ে যায়। তাই জনসংখ্যার বৃদ্ধির কারণে আলাদা বাসা বাড়ি করতে হবে। কৃষি জমি কমে যায়, তাই অধিক সন্তান না নিয়ে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে জনসংখ্যা বৃদ্ধি যেন না হয় সে পদক্ষেপ নিতে হবে।
লেখক: প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর (রিনিয়েবল এনার্জি), এশিয়ান এইজ এন্টারপ্রাইজ



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জলবায়ু পরিবর্তন

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন