Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫ পৌষ ১৪২৫, ১১ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

বিমানের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান

বোয়িংয়ের সব বিমান পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশ ইন্দোনেশিয়ার

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

ইন্দোনেশিয়ায় লায়ন এয়ারের বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ খুঁজতে জাভা সাগরে চালানো অভিযানে অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। কর্মকর্তারা মনে করছেন, তারা সাগরে বিধ্বস্ত বিমানের মূল কাঠামোর খোঁজ পেয়েছেন। দেশটির সামরিক বাহিনীর একজন শীর্ষ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বুধবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। সশস্ত্র বাহিনী প্রধান হাদি যাহযানতো বলেন, আমাদের বিশ্বাস আমরা জেটি-৬১০ বিমানের মূল কাঠামোর বেশকিছু অংশ ইতোমধ্যেই উদ্ধার করেছি। উদ্ধারকর্মীরা এখন জাভা সাগরে বিধ্বস্ত বিমানটির প্রধান কাঠামো খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। অনুসন্ধান অভিযানের অংশ হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছে ড্রোন ও সোলার ডিভাইস। বিমানটি বিধ্বস্তের ঘটনায় কারও প্রাণে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনাও দেখতে পাচ্ছেন না উদ্ধারকারীরা। হদিস মেলেনি বিমানের ব্ল্যাক বক্সেরও। ইন্দোনেশিয়া সরকার দেশটির সব বাণিজ্যিক বোয়িং ৭৩৭-ম্যাক্স ৮ বিমান নিরীক্ষার আদেশ দিয়েছে। এই মডেলের একটি বিমান গত সোমবার সাগরে বিধ্বস্ত হওয়ার পর এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। ওই বিমান দুর্ঘটনায় ১৮৯ যাত্রীর মধ্যে সবাই মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।বোয়িংয়ের ৭৩৭-ম্যাক্স ৮ মডেলটি অবশ্য খুব পুরোনো নয়। মাত্র গত বছরই এই মডেল চালু করে তারা। তা ছাড়া, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি মাত্র কয়েক মাস আগে সেবা দেওয়া শুরু করে। এদিকে উদ্ধারকারীরা বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ, কয়েকটি লাশ ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র উদ্ধার করেছেন। তারা এখন বিমানের মূল অংশ ও ফ্লাইটের রেকর্ড উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান সুতোপো পুরয়ো নুগরোগো টুইটার পোস্টে জানিয়েছেন, বিমানটি খুঁজতে কারাওয়াং এলাকার কাছের সমুদ্র এলাকায় সোনার ডিভাইস ব্যবহার করা হচ্ছে। কারাওয়াং এলাকাতেই বিমানটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। ইন্দোনেশিয়ার ট্রান্সপোর্ট সেফটি প্যানেলের প্রধান, সোয়েরজান্তো তোজাহজোনো ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আশা করি সকালেই আমরা বিমানের মূল কাঠামো পেয়ে যাব।’ বিমানটি ঠিক কী কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে তা এখনও জানতে পারেননি তদন্তকারীরা। এর কারণ জানতে বিমানের ব্ল্যাকবক্স উদ্ধারের অপেক্ষায় আছেন তারা। উদ্ধারকারীরা বেশ কিছু দেহাবশেষ উদ্ধার করেছেন। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ সিয়াউগি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষগুলো বিশেষ ব্যাগে ঢোকানো হচ্ছে। এরইমধ্যে ১০টি ব্যাগ পূর্ণ হয়ে গেছে। সেগুলো শনাক্ত করার জন্য জাকার্তায় নেওয়া হবে। এক টুইটার বার্তায় সংস্থাটি আরও জানায়, যাত্রীদের বিভিন্ন ব্যবহার্য সামগ্রী সাগরে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্সও রয়েছে। যাত্রীদের মালামাল ও বিমানের ধ্বংসাবশেষগুলোও ব্যাগে ভরা হচ্ছে। এ ধরনের বস্তুতে ১৪টি ব্যাগ ভরেছে বলেও জানানো হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান সোয়েরজান্ত তিজাহজানো জানান, বিমানটি মাত্র ৮০০ ঘণ্টা উড্ডয়ন করেছে। আর শেষবার উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যে পাইলট জাকার্তার নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কাছে ফিরে আসার অনুমতি চেয়েছিলেন। বিবিসি, রয়টার্স।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ