Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬, ২১ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স পাচ্ছে চার কোম্পানি

স্টাফ রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ১ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০১ এএম

টাওয়ার শেয়ারিং সেবা প্রদানের জন্য ৪ প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসি। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের হাতে লাইসেন্স তুলে দেবে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটি। লাইসেন্স পাওয়া এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ইডটকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড, টিএএসসি সামিট টাওয়ারস লিমিটেড, কীর্তনখোলা টাওয়ার বাংলাদেশ লিমিটেড ও এবি হাইটেক কনসোর্টিয়াম লিমিটেড। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার এবং বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো: জহুরুল হক।

দেশে টাওয়ার শেয়ারিং সেবা প্রদানের জন্য টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স পেতে গত জুনে ৮টি প্রতিষ্ঠান কমিশনের কাছে আবেদন করে। এসব আবেদন মূল্যায়নে গঠিত ১৫ সদস্যের একটি কমিটি মূল্যায়ন শেষে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে নম্বর দেয়। আবেদন করা ৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সার্বিক বিষয় বিবেচনায় এবং কমিটির মূল্যায়নে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া ৪টি প্রতিষ্ঠানকে টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স প্রদানের সুপারিশ করে ওই কমিটি।

কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে একই প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়ার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করে কমিশন। গত ১৪ জুলাই সরকার সুপারিশ করা ৪ প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স প্রদানের অনুমোদন প্রদান করে। এরফলে গত ১৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে টাওয়ার শেয়ারিং সেবা প্রদানের জন্য ইডটকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড, টিএএসসি সামিট টাওয়ারস লিমিটেড, কীর্তনখোলা টাওয়ার বাংলাদেশ লিমিটেড ও এবি হাইটেক কনসোর্টিয়াম লিমিটেড কে লাইসেন্স প্রদান করে বিটিআরসি। আর আজ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে লাইসেন্স তুলে দেবে কমিশন। বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, টাওয়ার শেয়ারিংয়ের লাইসেন্স এর জন্য ২৫ কোটি টাকা লাইসেন্স ফি দিতে হবে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে। এছাড়া বার্ষিক নবায়ন ফি হবে ৫ কোটি টাকা এবং বিটিআরসির সাথে রাজস্ব ভাগাভাগি হবে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হারে।

এরসাথে ২০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি। প্রতিটি কোম্পানিতে বিদেশি বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা রাখা হয়েছে ৭০ শতাংশ। লাইসেন্স পাওয়ার পর প্রথম বছর কোম্পানিটিকে দেশের সব বিভাগীয় শহরে সেবা স¤প্রসারণ করতে হবে। দ্বিতীয় বছর জেলা শহর, তৃতীয় বছর ৩০ শতাংশ উপজেলা, চতুর্থ বছর ৬০ শতাংশ উপজেলা ও পঞ্চম বছর দেশের সব উপজেলায় টাওয়ার নিতে হবে।

টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স নীতিমালায় বলা হয়েছে, আবেদনকারীদের জয়েন্ট ভেঞ্চারের কোনো একটি কোম্পানির নূন্যতম পাঁচ হাজার সাইট পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স দেওয়া হলে তখন মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো কোনো নতুন টাওয়ার স্থাপন করতে পারবে না। একই সঙ্গে লাইসেন্স পাওয়া টাওয়ার কোম্পানির কাছে তাদের টাওয়ার বিক্রি করতে পারবে। তবে নিজেরা আর টাওয়ার ভাড়া দিতে পারবে না। নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় বিপুল ব্যয়ের পাশাপাশি অনেক জনবল লাগছে টাওয়ার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষেণ।
এ ছাড়া টাওয়ারের অনিয়ন্ত্রিত সংখ্যা, ভ‚মি ও বিদ্যুতের সংকট ছাড়াও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব রয়েছে। এসব কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টাওয়ার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থেকে নিজেদের সরিয়ে আনছে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। এ ক্ষেত্রে অবকাঠামো ভাড়া প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সেবা নিয়ে থাকে তারা। ফলে একই অবকাঠামো ভাগাভাগির মাধ্যমে তা থেকে সেবা পেতে পারে একাধিক অপারেটর।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: টাওয়ার শেয়ারিং
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ