Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

ব্রেস্ট ক্যান্সারে প্রয়োজন সচেতনতা

ডাঃ এস এম আব্দুল আজিজ | প্রকাশের সময় : ১ নভেম্বর, ২০১৮, ৭:৫৭ পিএম

ক্যান্সার! শোনার সাথে সাথে অনেকে আতঙ্কিত হয়ে ওঠে এবং নিশ্চিত মৃত্যু বলে মনে করে। স্তন ক্যান্সারে নারীদের মৃত্যুর হার সব চেয়ে বেশী। ঘাতক ব্যধিসমূহর মধ্যে স্তন ক্যান্সার বেশী মারাত্মক ও ভয়াবহ। ক্যান্সার জনিত কারণে সারা বিশ্বে স্তন ক্যান্সারের অবস্থান দ্বিতীয়। নারীর স্তনে মরণব্যধি ক্যান্সার যে কোন সময় বাসা বাঁধতে পারে। সচেতন না হলে স্তন ক্যান্সারে কেড়ে নিতে পারে আপনার প্রাণ। গবেষণা করে ব্রেস্ট ক্যান্সারের মুল কারণ ও রহস্য আবিষ্কার করতে কোন চিকিৎসক ও গবেষক সক্ষম হন নি। 

ইদানিং সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও ব্রেস্ট টিউমার ও স্তন ক্যান্সারের রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বাংলাদেশের মা- বোনদেরকে ভাবিয়ে তুলছে। ভারত উপমহাদেশে প্রতি বছর আশি থেকে এক লক্ষ মহিলা ব্রেস্ট টিউমার ও স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুমবরণ করে।
যথাসময়ে রোগ নির্ণয় করতে পারলে আধুনিক হোমিও চিকিৎসার মাধ্যমে স্তন ক্যান্সারকে অনেক ক্ষেত্রেই আয়ত্তে আনা সম্ভব।
স্তন বা ব্রেস্ট ক্যান্সার কি?
স্তন বা ব্রেস্ট ক্যান্সার এক ধরনের ঘাতক ব্যধি, যা মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। ব্রেস্টের কোন কোন সেল বা টিস্যুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে বিকৃতি ঘটিয়ে দেওয়াকে ক্যান্সার হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়।
স্তন ক্যান্সারের লক্ষণঃ
সাধারণত এ রোগ চল্লিশোর্ধ মহিলাদের বেশি হতে দেখা যায়। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে পুরুষদেরও এ সমস্যা দেখা যায়। নিঃসন্তান মহিলা বা যে মহিলারা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান না ও খাওয়াতে অক্ষম, তাঁদের এই রোগে আক্রান্ত হওযার সম্ভাবনা সাধারণের তুলনায় অনেক বেশি। এ ছাড়া অল্প বয়সে মিন্সট্রেশন হওয়া,বেশি বয়সে মেনোপজে গেলে, ধুমপান করলে, শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমলেও স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একথা এখন সর্বজন স্বীকৃত যে, ব্রেস্ট ক্যান্সারের একটা জেনেটিক ভিত্তি আছে। পরিবারের কোনও মহিলা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে তাদের মা, বোন অথবা মেয়ের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৩০-৪০ শতাংশ বেড়ে যায়। এ পর্যন্ত ৮ টি ব্রেস্ট ক্যান্সারের জিন আবিষ্কৃত হয়েছে। স্তন ক্যান্সারের রোগীরা সাধারণত বুকে চাকা অথবা গাঁটের মত অনুভব করেন। অনেক ক্ষেত্রে নিপল্ থেকে রস অথবা রক্ত জাতীয় পদার্থ বের হয়। স্তনের ওপরের চামড়ার রং ও নিপলের আকার পরিবর্তন, স্তনের চামড়া কমলালেবুর মত কুচকে যায়। বগলের নীচে চাকা বা স্তনের ওপরের চামড়ায় কে্চঁকানো লক্ষ্য করা যায়। এক্ষেত্রে বুঝে নিতে হবে যে রোগটা অনেক দূর এগিয়েছে। অনেক মহিলা স্তনে এই উপসর্গগুলো অনুভব করেণ কিন্ত ভয়ে ও লজ্জায় চিকিৎসকের কাছে যান না। এতে সমস্যা আরো জটিল হয়। একথা অনস্বীকার্য যে, প্রাথমিক অবস্থায় স্তন টিউমার ও স্তন ক্যান্সার ধরা পড়লে ৮০-৮৫ শতাংশ রোগীকে হোমিও চিকিৎসার মাধ্যমে আরোগ্য করা সম্ভব।
কখন নিজেকে পরীক্ষা করবেন?
স্তন ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয়ের জন্য একটি কার্যকরী পদ্ধতি হলো নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করা। আমাদের দেশের চল্লিশার্ধ মহিলারা বেশি সমস্যায় পড়ে, বিশেষতঃ যাদের পরিবারে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী আছে, তাঁদের উচিত নিয়মিত মেমোগ্রাম করানো। তাহলে ব্রেস্টে গাঁট বা গুটলি হওয়ার অনেক আগেই ক্যান্সার নির্ণয় করে চিকিৎসা করা যায়। বলা বাহুল্য যে, এ ক্ষেত্রে চিকিৎসায় রোগী আরোগ্য লাভ করে। নিজেকে পরীক্ষা করার আগে যা মনে রাখতে হবে, মাসিক বা ঋতুচক্রের সময়ে স্তনের গঠন ও আকৃতির পরিবর্তন হয়ে থাকে । যাদের মাসিক বা ঋতুচক্র নিয়মিত হয় তাদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাবের কয়েকদিন আগে বুকের বিভিন্ন অংশে বিশেষ করে বগলের কাছে সামান্য ফোলা ও ব্যথা অনুভব হয়।
কিভাবে স্তন পরীক্ষা করবেন ?
১. যে সব মহিলার বয়স ২০-৩০ তারা প্রতি মাসে একবার মাসিক বা ঋতুস্রাবের এক সপ্তাহ পরে, সাধারণতঃ গোছল করার সময় বা পোশাক পরিধান করার সময় এই পরীক্ষা করা বাঞ্ছনীয়। যাদের বয়স ৪০-৫০ বছর তারা প্রতি ৩ বছর পর চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করবেন, স্তনে কোন অসামঞ্জাস্য দেখা দিলে।
২. আয়নার সামনে দুপাশে হাত রেখে দাঁড়ান। দু‘দিকের স্তনের মধ্যে কোনও অসামঞ্জস্য আছে কিনা লক্ষ্য করুন। এবার দু’হাত ওপরে তুলুন-মাথার দুই পার্শে রাখুন। দেখুন দু’দিকে কোন অসামঞ্জস্য আছে কিনা ?
৩.হাতের চেটো দিয়ে প্রথমে এক দিকের স্তন ও পরে অন্য দিকের স্তন পরীক্ষা করুন। কোন প্রকার চাকা বা ফোলা আছে কিনা লক্ষ্য করুন।
৪. এবার দেখুন নিপলের কোন পরিবর্তন হয়েছে কি না? যদি দেখা যায় একটি নিপল্ ভেতরের দিকে ঢুকে যাচ্ছে বা নিপর্লে চার পাশে কোন ফুসকুড়ি বা ঘা লক্ষ্য করা যাচ্ছে তাহলে সত্বর চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
৫. স্তনের বোটা বা নিপল্ থেকে কোন প্রকার রক্ত বা রসজাতিয় পদার্থ বের হচ্ছে এমন লক্ষ্য করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সহজেই স্তনে চাকা বা গুটলি ও বাহুমূলে স্তন ব্যথা অনুভব হয়।
ল্যাবরেটরীর পরিক্ষাঃ মেমোগ্রাফি, এম আর আই ও আলট্রাসনোাগ্রাফি, বায়োপসি, লিম্ফনোডস বায়োএফসি, ক্যান্সার মারকার ইত্যাদি পরিক্ষার দরকার হতে পারে।
যদিও বলা হয় স্তন ক্যান্সার বংশগত বা পরিবারিক ইতিহাস ও জিনের প্রভাব থেকে রোগীকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। বংশগত কারন ছাড়াও স্তন টিউমার ও ক্যান্সার হতে পারে। তবে ভালো পুষ্টিকর খাদ্য এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব। মনে রাখতে হবে অপারেশন করে কেটে বাদ দিলেই সবার রোগ চলে যায় না। কারও কারও এর পরও কিছু ওধুধের প্রয়োজন হয়। প্রাথমিক অবস্থায় অপারেশন ছাড়া হোমিও চিকিৎসায় টিউমার ও ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্তকে সুন্দর ভাবে আরাগ্য করা সম্ভব। লক্ষণ সাদৃশ্য সঠিক ঔষধ নির্বাচন করা হলে সহজে অরোগ্য সম্ভব। রোগীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, রোগের কারণ, দুঃখ-কষ্ট, মানসিক চাপ বিবেচনা করে ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে।

আইডিয়াল ডক্টর্স ফোরাম অব হোমিওপ্যাথি
আল-আজিজ হেলথ সেন্টার, বাইতুল আবেদ
৫৩ পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল : ০১৭১০ ২৯৮ ২৮৭।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর