Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬, ১৬ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

পরিশোধনে ভারতের সহায়তার প্রস্তাব

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০৪ এএম

রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর আধুনিকায়ন এবং ‘র’ সুগার থেকে পরিশোধিত চিনি উৎপাদনে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারত। এ লক্ষ্যে খুব শিগগিরই ভারতের পক্ষ থেকে একটি সমন্বিত প্রস্তাব শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে।
এ প্রস্তাবের ভিত্তিতে সহায়তার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে তা বাস্তবায়নের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হবে। ভারতের খাদ্য সচিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারসহ এক প্রতিনিধিদল গতকাল শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সাথে বৈঠককালে এ আগ্রহের কথা জানান। শিল্প মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভারতের খাদ্যসচিব রবিকান্ত, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বেগম পরাগ, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এ.কে.এম দেলোয়ার হোসেনসহ ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দু’দেশের শিল্পখাতে সহায়তার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের চিনি শিল্পের আধুনিকায়ন, ‘র’ সুগার থেকে রিফাইন্ড সুগার উৎপাদন, আখচাষিদের প্রশিক্ষণ, উচ্চ রিকভারীসম্পন্ন আখজাত হস্তান্তর এবং চিনি শিল্পের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর আলোচনা হয়। বৈঠকে ভারতের খাদ্যসচিব রবিকান্ত বলেন, উচ্চ প্রযুক্তির আখচাষের মাধ্যমে ভারত উদ্বৃত্ত পরিমাণে চিনি উৎপাদন করছে। এ চিনি অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে তারা প্রতিবেশি দেশগুলোসহ আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি করতে আগ্রহী। বাংলাদেশে চিনি উৎপাদনে ঘাটতি থাকায় তারা এদেশে অপরিশোধিত চিনি রফতানির জন্য শিল্পমন্ত্রীর সহায়তা চান। এক্ষেত্রে তারা প্রযুক্তিগত সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজনে ভারতীয় ‘লাইন অব ক্রেডিট’ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেন।
আমির হোসেন আমু বলেন, ভারতের জাতীয় মান নির্ধারণী সংস্থা এনএবিএল ইতোমধ্যে ২১টি পণ্যের অনুকূলে বিএসটিআই এর পরীক্ষণ সনদ গ্রহণ করেছে। আরও ১২টি পণ্যের পরীক্ষণ সনদ গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি দ্রæত এসব পণ্যের পরীক্ষণ সনদ গ্রহণ করতে ভারতীয় খাদ্য সচিব এবং হাইকমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এর আগে গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে দেখা করে ভারতের এ প্রতিনিধি দল। দুপুরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সংক্রান্ত এক ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চিনি রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে ভারত। ভোক্তাদের কথা ভেবে বাংলাদেশ এটা নিয়ে চিন্তা করছে। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশে চিনি রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা চায়। এজন্য আজ শুক্রবার ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবি এবং সে দেশের ‘এসটিসি’র মধ্যে একটি সমঝোতা স্বাক্ষর হবে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা ‘সাফটা’র আওতায় ‘এলডিসি’ভুক্ত দেশ হিসেবে ভারতে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পেয়ে থাকি। ভারত এখন আমাদের কাছে চিনি রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দাবি করছে। বর্তমানে বাংলাদেশে চিনি আমদানি পণ্য হিসেবে ‘নেগেটিভ’ লিস্টে আছে এবং এজন্য আমদানিকারককে ৪০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। তারা চিনিকে পজেটিভ লিস্টে আনার জন্যও অনুরোধ করেছে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভারতে ভোজ্যতেল রফতানিতে বর্তমানে বাংলাদেশ ভালো করছে। এরইমধ্যে সিটি গ্রæপ, বসুন্ধরা, মেঘনা গ্রæপ, টিকে ও সেনাকল্যানকে ভোজ্যতেল রফতানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভারত বলছে, ভোজ্যতেল রফতানিতে আমদানির পর যেন আরও ৩০ ভাগ মূল্যসংযোজন করা হয়। বর্তমানে এ খাতে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরী পোশাক তৈরীর কাজে ব্যবহ্যত তুলা ও চালসহ রফতানি কাজে ব্যবহ্যত অন্যান্য পণ্য আমদানি করে থাকে। গত অর্থবছর বাংলাদেশ ৮৭৩ দশমিক ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য ভারতে রফতানি করেছে, একই সময়ে আমদানি করেছে ৮ হাজার ৬১৯ দশমিক ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। উভয়দেশ চলমান বাণিজ্য আরো বৃদ্ধি করতে আগ্রহী।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চিনি

১ ডিসেম্বর, ২০১৮
১০ আগস্ট, ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ