Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬, ২৩ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

পাকিস্তানে বিক্ষোভ থামাতে কট্টরপন্থীদের সঙ্গে চুক্তি সরকারের

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩ নভেম্বর, ২০১৮, ৮:৪৩ পিএম

পাকিস্তান জুড়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভের রাশ টানতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। কট্টরপন্থী বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে তাদের সঙ্গে অবশেষে চুক্তিতে উপনীত হয়েছে ইমরান খানের সরকার। এর ফলে সেখানকার পরিস্থিতি এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রনে এসেছে।

২০১০ সালে ধর্মদ্রোহিতার অভিযোগে আসিয়া বিবিকে ফাঁসির সাজা দিয়েছিল পাকিস্তানি আদালত। এ রায় বাতিল করে গত বুধবার তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে পাক সুপ্রিম কোর্ট। তার পর থেকেই কট্টরপন্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল পাকিস্তান। সেই আন্দোলনের রাশ এখন ইমরানের জোট সরকারের সঙ্গী তেহরিক ই লাব্বাইকের হাতে। দেশের বিভিন্ন অংশে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জাতীয় সড়ক। বন্ধ দেশের অধিকাংশ স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়। কট্টরপন্থীদের রোষের মুখে পড়েছেন বিচারপতি ও আইনজীবীরাও। আসিয়ার পক্ষে রায় দেওয়া বিচারপতি ও তার হয়ে আদালতে সওয়াল করা আইনজীবীদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছে মৌলবাদী সংগঠনগুলি। এর পরই দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন সইফুল। যদিও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করলে মামলার প্রয়োজনে ফের দেশে ফিরতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় শুক্রবার মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধের নির্দেশ দেয় পাকিস্তান সরকার। রাজধানী ইসলামাবাদে টেলিফোন নেটওয়ার্কও বন্ধ করে দেওয়া হয়। দেশটির সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখে। এরমধ্যেই শনিবার দুই পক্ষের সমঝোতার খবর সমানে আসে। কট্টর ইসলামপন্থী দল তেহরিক-ই-লাবাইকের (টিএলপি) সঙ্গে করা এ চুক্তিতে আসিয়া বিবির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। একইসঙ্গে এ ইস্যুতে আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের মধ্যে আটককৃতদের মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। তবে সহিংসতায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী মামলা চলবে।

মুক্তির পর আসিয়া সপরিবারে দেশ ছাড়তে পারেন পারে এমন ইঙ্গিতের মধ্যেই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী বিক্ষোভ বন্ধ করে দলীয় সমর্থকদের রাস্তা থেকে সরিয়ে নিয়েছে তেহরিক-ই-লাব্বাইক। ইতোপূর্বে এ ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল দলটি। সর্বাত্মক বিক্ষোভের পাশাপাশি বিচারকদেরও প্রতিও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিল তারা। যদিও মৌলবাদীদের সঙ্গে পাক সরকারের এই বোঝাপড়ায় হতাশ দেশের উদারমনস্ক মানুষজন। এই চুক্তিকে ‘ফের আত্মসমর্পণ’-এর ঘটনা বলেছে পাকিস্তানের সব থেকে পুরনো সংবাদপত্র ডন। 

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী তেহরিক-ই-লাব্বাইকের সঙ্গে সরকারের চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিবিসি’কে তিনি বলেন, এ মুহূর্তেই কট্টরপন্থা দমন না করতে পারায় সমঝোতার পথে হাঁটতে হয়েছে সরকারকে। তার ভাষায়, ‘দুইটি রাস্তা আছে। শক্তি প্রয়োগ অথবা আলাপ আলোচনা। কিন্তু যখনই আপনি শক্তি প্রয়োগ করতে যাবেন, তখন লোকজনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। একটি রাষ্ট্রের এমনটা করা উচিত নয়। আর আলোচনার মাধ্যমে কিছু পেতে হলে আপনাকে কিছু ছাড় দিতে হবে।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন