Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৫ কার্তিক ১৪২৬, ২১ সফর ১৪৪১ হিজরী

শরীরে কোনো কিডনি নেই

রফিক সিকদারের মায়ের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৪ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

চলচ্চিত্র পরিচালক রফিক সিকদারের মা রওশন আরার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে চিকিৎসকরা বলছেন, লাশের ভেতরে কোনো কিডনি পাওয়া যায়নি। তবে লাশ থেকে রক্ত ও মস্তিষ্কের কিছু অংশ সংগ্রহ করে হিস্টোপ্যাথলজিতে পাঠানো হবে। সেখানকার রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলে ময়না তদন্তের সাথে সংশ্লিস্ট চিকিৎসক জানিয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, রওশন আরার দেহে কোনো কিডনি পাওয়া যায়নি। তবে তার শরীরে কয়েকটি ও মাথায় দু’টি টিউমার পাওয়া গেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রওশন আরার মৃত্যুর জন্য চিকিৎসকদের দায়ী করে রফিক সিকদার ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নেবেন না জানিয়ে দিলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। এ বোর্ডে অপর দুই চিকিৎসক ছিলেন ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক প্রদীপ বিশ্বাস ও কবির সোহেল। গতকাল ময়না তদন্তের পর নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, একটা হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে। বিষয়টি প্রাথমিকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

চলচ্চিত্র পরিচালক রফিক সিকদার গত রাতে দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, ময়না তদন্ত শেষে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন আমার মায়ের শরীরে কোন কিডনি ছিল না। এতে প্রমানিত হয় আমার মায়ের কিডনি দুটি বিক্রি করে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের চিকিৎসকরা। এ বিষয়ে আমি শাহবাগ থানায় জিডি করেছি। মাকে নিয়ে পাবনা গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি ফিরে এসে মামলা করা হবে। জানা গেছে, বাম পাশের কিডনি জটিলতার কারণে গত ২৬ আগস্ট বিএসএমএমইউতে ভর্তি করানো হয় রওশন আরাকে। রফিক সিকদারের দাবি, হাসপাতালে বেশ কিছু পরীক্ষা করানোর পর গত ৫ সেপ্টেম্বর অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের চিকিৎসকরা বাম পাশের কিডনি রাখতে চাননি। বাম কিডনি তখন কিছুটা কাজ করছিল। আর ডান পাশের কিডনি পুরোপুরি ভালো ছিল। অপারেশনের পর পোস্ট অপারেটিভে নেওয়ার পর মায়ের জ্ঞান ছিল, কিন্তু শরীর ফুলে যাচ্ছিল। তবে ক্যাথেটার লাগানো থাকার পরও তার প্রস্রাব হচ্ছিল না। দায়িত্বরত চিকিৎসকরাও এটা আমাকে জানিয়েছিল। ওই দিন দুপুরে অপারেশনের পর রাত সাড়ে ৮টার পর বলা হলো, আইসিইউ (নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে) সাপোর্ট লাগবে। কিন্তু তখন বিএসএমএমইউতে আইসিইউ খালি না থাকায় তারা আমাদের বেসরকারি হাসপাতালে খোঁজ নিতে বলেন। তারা বলেন, রোগীর ইউরিন তৈরি হচ্ছে না। আর বমি হচ্ছিলো। পরে রাতেই রোগীকে মগবাজারের ইনসাফ বারাকা হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে সিটিস্ক্যান করার পরামর্শ দিলে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তখনই তা করা হয়। কিন্তু সিটিস্ক্যান করানোর পরই ধরা পড়ে রোগীর একটি কিডনিও নেই। এরপর ইনসাফ বারাকা হাসপাতাল থেকে রোগীকে আবার বিএসএমএমইউতে নিতে বলা হয় এবং বিএসএমএমইউতে ডায়ালাইসিস করানো শুরু হয়। ডায়ালাইসিস শুরু হলেও রোগীর বেড়ে যাওয়া ক্রিয়েটিনিন কমছিল না।

তিনি বলেন, জটিলতা বেড়ে গেলে ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতালের চিফ কনসালট্যান্ট ও কিডনি রোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদের কাছে নেওয়া হয় রওশন আরাকে। এই চিকিৎসকও রোগীর কোনো কিডনি নেই বলে নিশ্চিত করেন। তাই আবার মাকে বিএসএমএমইউতে ফিরিয়ে আনা হয় বলে তিনি জানান।

বিএসএমএমইউ’র ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও রওশন আরার চিকিৎসক হাবিবুর রহমান দুলাল সাংবাদিকদের জানান, অপারেশনের সময় বাম দিকে ইনফেকশন থাকায় রক্তনালি, খাদ্যনালি, কিডনি বোঝা খুব কঠিন হয়ে যায়। প্রচন্ড রক্তপাত হয়। শেষে বিএসএমএমইউর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ অক্টোবর রাতে মারা যান রওশন আরা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিএসএমএমইউ


আরও
আরও পড়ুন