Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধারে অযোধ্যা ইস্যু সামনে আনছে বিজেপি

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৬ নভেম্বর, ২০১৮, ৮:৪৭ পিএম | আপডেট : ১২:১৯ এএম, ৭ নভেম্বর, ২০১৮

সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যা মামলা শুনানিতে রাজি না হওয়ায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) ক্রুদ্ধ হয়েছে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ভাইয়ুজি যোশি তার ক্রোধ গোপন না করে বলেছেন, সর্বোচ্চ আদালত অযোধ্যাকে অগ্রাধিকার তালিকায় না রাখায় হিন্দুরা ‘অপমানিত’ বোধ করছে। ফলে আহত ও অবজ্ঞার শিকার আরএসএস প্রয়োজনবোধে রাম মন্দির নির্মাণের জন্য বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করবে।

অযোধ্যার বিতর্কিত স্থানে রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে আরএসএস ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতো সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ বোধগম্য। তারা ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাম মন্দির নির্মাণের দাবি তুলেছে। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আছে, তাদের গলার জোরও তত বাড়ছে। এমনকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং আরো আগ বাড়িয়ে বলেছেন, হিন্দুদের ধৈর্য ফুরিয়ে যাচ্ছে।

আরএসএস এখন যত দ্রুত একটি সমাধান চাচ্ছে। তারা মনে করছে, আইনি পথে এই সমাধান পাওয়া যাবে না। এ কারণে এখন তারা পার্লামেন্টে আইন প্রণয়ন করে রাম মন্দির নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিতে চাইছে। এ কারণে মন্দির নির্মাণের সব বাধা অপসারণ করার জন্য আইনি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

মন্দির নিয়ে সঙ্ঘের মধ্যে কোনো দোটানা ভাব নেই। তারা জানে, তাদের সরকার কঠিন অবস্থায় পড়েছে। আবার মোদি সরকারের সময়ও ফুরিয়ে যাচ্ছে। ফলে তারা এখন রাম মন্দির ইস্যুটিকেই মূল ইস্যুতে পরিণত করতে চাইছে।

বাবরি মসজিদ তো আগেই গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। এখন রয়েছে কেবল কয়েক একর ফাঁকা স্থান। এই স্থান নিয়ে চলছে আইনগত জটিলতা। এখন হিন্দুত্ববাদী শক্তি তাদের পেশীশক্তি প্রদর্শন করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে চায়। আর তা করলে গেলে ভারতে দেশের ঐতিহ্যকে সংরক্ষিত রাখার ইতিহাসটিকেই হারিয়ে ফেলবে। কিন্তু জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে সঙ্ঘ পরিবারের মধ্যে কোনো দোটানা নেই। তারা মুসলিমদের সাথে সহাবস্থানের ধারণাতেই বিশ্বাস করতে চায় না। তাদের কাছে বিতর্কিত স্থানে রামমন্দির নির্মাণ তাদের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির মূল বিষয়। এর মাধ্যমেই তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদকে প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী। হিন্দুত্ববাদী শক্তি বিশ্বাস করে, বিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত বিষয়াদি দেশের আইনের অধীনে থাকতে পারে না।

রাম মন্দির ইস্যুটি কাকতালীয়ভাবে সবরিমালা মন্দির মামলার রায়ের কাছাকাছি সময়ই ঘটেছে। ওই রায়ের ব্যাপারেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আরএসএস। কেরালার ওই মন্দিরে নারীদের প্রবেশাধিকারে ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, সুপ্রিম কোর্ট তা প্রত্যাখ্যান করেছে। আদালত তার রায়ে বলেছে, ভক্তি প্রদর্শনে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকতে পারে না। এমনকি ধর্মে যদি বৈষম্য থাকেও কিন্তু সাংবিধানিক নিয়মে তা অনুমোদন করতে পারে না।

এই রায় বিজেপিকে বেশ ভয় পাইয়ে দিয়েছে। তারা হয়তো মনে করছে, সবরিমালার মতো বাবরি মসজিদ বনাম রাম মন্দির মামলাটিও তাদের বিপক্ষে যাবে। আর সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়ে ফেললে তাদের আর কিছুই করার থাকবে না।

গত চার বছর ধরে মোদি সরকার কিন্তু অযোধ্যা ইস্যু নিয়ে নীরব ছিল। কিন্তু নির্বাচন ঘনিয়ে আসতে থাকায় তাদের জনপ্রিয়তায় ভাটার বিষয়টি দেখতে পেরে তারা এখন একটি নিশ্চিত বিষয়ে মনোনিবেশন করেছে। তারা বুঝতে পেরেছে, অযোধ্যা ইস্যুটিই তাদেরকে ভোটাদের মন লোকসভায় ফিরিয়ে আনতে পারে। আবার হিন্দি বেল্টে থাকা তিনটি রাজ্য রাজস্তান, মধ্য প্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে বিজেপি হেরে যেতে পারে বলে পূর্বাভাসও তাদের এই পথ গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, তারা ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে অযোধ্য ইস্যুতে শুনানি করবে। কিন্তু তত দিন অপেক্ষা না করে তারা এখন পার্লামেন্টে বিল এনে মন্দির নির্মাণকাজ এগিয়ে নিতে চায় বিজেপি। সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিজেপি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ