Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ০৬ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

ইরাকে লক্ষাধিক কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা

শামসুল ইসলাম | প্রকাশের সময় : ৭ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০৪ এএম

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকে লক্ষাধিক কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইরাকের বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ অঞ্চলে কোরিয়ান কোম্পানী, চীনা কোম্পানীসহ পশ্চিমা বিশ্বের বৃহৎ কোম্পানীগুলো মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে ব্যাপক নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। আগামী বছর মেগা প্রজেক্টসহ বিভিন্ন নির্মাণ খাতে লক্ষাধিক বাংলাদেশী কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। বাগদাদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র সত্যায়নে জনপ্রতি ৫০ মার্কিন ডলার করে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিমান বন্দর দিয়ে দুবাইয়ের ভিজিট ভিসায় ইরাকে মানবপাচারের অভিযোগ উঠছে। ইরাকে জনশক্তি রফতানিকারক একাধিক প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইরাকের নির্মাণ খাতে প্রচুর বাংলাদেশী কর্মীর চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে ইরাকের শান্তিপূর্ণ এলাকায় কর্মরত বাংলাদেশীরা কঠোর পরিশ্রম করে প্রচুর রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছে বলেও জনশক্তি রফতানিকারকরা উল্লেখ করেন।
বিএমইটির সূত্র জানায়, গত জানুয়ারী মাস থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত ইরাকের বিভিন্ন কোম্পানীতে ৯ হাজার ২শ ১২ জন কর্মী চাকুরি লাভ করেছে। এসব কর্মী থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসা ফ্রি এবং প্রতি মাসে জনপ্রতি ৪শ থেকে ৫শ মার্কিন ডলার বেতন-ভাতা পাচ্ছে। গত ৮ অক্টোবর থেকে ৯ নভেম্বর এক দিনে ১ হাজার ৭১ জন কর্মী ইরাকে গেছে।
বায়রার সাবেক নেতা ও আবিদ এয়ার ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী কে এম মোবারক উল্লাহ শিমুল রাতে ইনকিলাবকে বলেন, ইরাকের বাগদাদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম সচিব মোহাম্মদ রেজাউল কবির গত এক মাস যাবত ছুটিতে থেকে কোনো চাহিদা পত্রে সত্যায়ন দেয়নি। দালাল চক্র উল্লেখিত এক মাস ইরাকে নিয়োগের জন্য যেসব ভিসা বের হয়েছে তার সত্যায়ন ছাড়াই ঢাকা বিমান বন্দরের ইমিগ্রেশনের অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে কন্টাক্ট করে ভিজিট ভিসায় দুবাই হয়ে ইরাকে কর্মী পাঠিয়েছে। এতে মানবপাচারের ঘটনা ঘটছে। এতে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি বিমান বন্দরে ভিজিট ভিসায় দুবাই যাওয়ার বিষয়টি নজরদারীর আওতায় আনতে টাস্কফোর্সকে আরো তৎপর হওয়ার জোর দাবী জানান। এক প্রশ্নের জবাবে শিমুল বলেন, ইরাকস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্রে সত্যায়নের জন্য মার্কিন ডলারে ঘুষ দিতে হয়। বাগদাদস্থ দূতাবাসের শ্রম সচিব রেজাউল কবির ছুটিতে দেশে এলেও কর্মী প্রেরণের চাহিদাপত্র সত্যায়নের জন্য দূতাবাসের কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে খামখেয়ালির পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরাকে পাওয়ার প্লান্ট, হাসপাতাল ও আবাসনের অনেক নির্মাণ কাজ জোরেশোরে শুরু হয়েছে। সরকার ইরাকের শ্রমবাজার সম্প্রসারণে বাস্তবমুখী উদ্যোগ নিলে আগামী বছর কয়েক লাখ কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে বলেও শিমুল উল্লেখ করেন। গতকাল বাগদাদস্থ দূতাবাসের শ্রম সচিব রেজাউল কবিরের সাথে চাহিদাপত্রে সত্যায়নে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছু জানতে চাইলে ই-মেইলে লিখে পাঠাতে পরামর্শ দেন।
বায়রার সভাপতি বেনজীর আহমেদ ইনকিলাবকে বলেন, ইরাকে বর্তমানের ব্যাপক পুর্নগঠনের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পর ইরাকসহ নতুন নতুন শ্রমবাজার সন্ধানে বায়রার পক্ষ থেকে ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হবে। ইরাকে বাংলাদেশী কর্মীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।



 

Show all comments
  • sajib ৭ নভেম্বর, ২০১৮, ৩:৫৪ এএম says : 0
    এখানে আপনি আপনার মন্তব্য করতে পারবেন আমি ইরাক থাকি ।।।ভালো বেতন কিন্ত আকামা নাই ।।।কারো আকামা নাই ।।।।আমাদের সরকারকে বলেন এটা দেখতে ।।।ধন্যবাদ আপনাকে
    Total Reply(1) Reply
    • Saiful ৭ নভেম্বর, ২০১৮, ৭:৪৩ এএম says : 0
      sajib. আপনি বললেন ভালো বেতন, আচ্ছা বাংলাদেশের কতো টাকা পরবে।। বাঙালীদের জন্য কি কাজের চাহিদা আছে, ওখানে থাকা ও খাওয়ায় খরচ হবে কতো। ইরাকের ১ টাকা সমান বাংলাদেশকে কতো টাকা হয়। প্লিজ জানাবেন।

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইরাক

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন