Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮, ০৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

ভারতের ক্ষেপনাস্ত্র প্রতিরক্ষার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের নতুন ‘এমআইআরভি’

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৮ নভেম্বর, ২০১৮, ৯:০১ পিএম

উপমহাদেশে আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই বিভিন্ন শক্তি ও পাল্লার বহু ধরনের ক্ষেপনাস্ত্র উন্নয়ন করে চলেছে। প্রাথমিকভাবে প্রতিরোধক হিসেবে উন্নয়ন ঘটানো এসব ক্ষেপনাস্ত্র প্রচলিত ও পারমাণবিক দু’ধরনের ওয়ারহেড বহনের ক্ষমতা রাখে।
সম্প্রতি পারমাণবিক সাবমেরিন আইএনএস অরিহন্ত সি-পেট্রোল শেষ করার ফলে জল-স্থল-আকাশ সব পথেই পারমাণবিক অস্ত্রযুক্ত ক্ষেপনাস্ত্র ছোড়ার ক্ষমতা বা ‘পারমাণবিক ত্রয়ী’ অর্জন করেছে ভারত। দেশটি ধেয়ে আসা ক্ষেপনাস্ত্র ঠেকাতে ব্যলিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স (বিএমডি)’রও উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। এর জবাবে মাল্টিপল ইনডিপেনেডন্টলি টার্গেটেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকেল (এমআইআরভি) প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ক্ষেপনাস্ত্র উন্নয়ন করছে পাকিস্তান।
এমআইআরভি প্রযুক্তির ব্যালিস্টিক মিসাইল সাধারণত পোস্ট-বুস্ট পর্যায়ে গিয়ে ওয়ারহেড অবমুক্ত করে। এতে ক্ষেপনাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে যায়। বিএমডি মূলত একক কোন ক্ষেপনাস্ত্র প্রতিরোধ করতে সক্ষম। বিএমডি’র রাডার ছুটে আসা কোন ক্ষেপনাস্ত্র সনাক্ত করার পর এর গতিপথ নির্ণয় করে কমপিউটার। এর ভিত্তিতে ছুটে আসা ক্ষেপনাস্ত্রটি মাঝপথে ধ্বংস করার জন্য প্রতিরোধক ক্ষেপনাস্ত্র বা ইন্টারসেপ্টর ছোড়া হয়। ইন্টারসেপ্টরে একটি ওয়ারহেড থাকলেও এমআইআরভি-তে একাধিক ওয়ারহেড সংযুক্ত থাকে।
২০১৭ সালের ২৪ জানুয়ারি পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রথম এমআইআরভি-প্রযুক্তির ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষার কথা ঘোষণা করে। ২০১৭ সালের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে উপমহাদেশের প্রথম এমআইআরভি-সজ্জিত ক্ষেপনাস্ত্র হিসেবে আবাবিলের আগমন ঘটে।
অবশ্য পাকিস্তান সত্যিই এই প্রযুক্তি পুরোপুরি হাসিল করতে পেরেছে কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন কিছু বিশেষজ্ঞ। কারণ এমআইআরভি ওয়াহেডগুলো সাধারণভাবে প্রচলিত ওয়ারহেডের তুলনায় অনেক ছোট হয়। এর জন্য পারমাণবিক ওয়ারহেডের মিনিয়েচারাইজেশন প্রয়োজন হয়। তাই এমআইআরভি-তে ব্যবহারের উপযোগী ক্ষুদ্র পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরিতে পাকিস্তান কতটা সফল হয়েছে বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন সেখানে।
বিবিসি’র এক খবরে বলা হয় যে, চীনের সহায়তায় পাকিস্তান এমআইআরভি-যোগ্য ক্ষেপনাস্ত্র তৈরি করেছে। দিল্লিডিফেন্সরিভিউ.কম-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আবাবিলের হিট শিল্ডের পরিধি এর কোর ভেহিকেলের চেয়ে বেশি। এতে বুঝা যায় আবাবিলের প্রয়োজনীয় এমআইআরভি-সামর্থ্য রয়েছে। তবে পাকিস্তানকে এমআইআরভি সামর্থ্য অর্জনের স্বীকৃতি দিতে হলে আরো কিছু ফ্যাক্টর বিবেচনা করতে হবে।
তবে ভারতও এমআইআরভি প্রযুক্তি হাসিলের পথে হাটছে কিনা এ ব্যাপারে কোন স্পষ্ট জবাব বা সরকারি স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি। সরকারি ভাষ্যে জানা যায়, ভারত চার-স্টেজের আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপনাস্ত্র অগ্নি-৬ তৈরি করছে। এর পাল্লা হতে পারে ৮,০০০ থেকে ১২,০০০ কিলোমিটার। এতে এমআইআরভি প্রযুক্তি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবাবিল যদি পুরোদুস্তর এমআইআরভি প্রযুক্তিতে সজ্জিত হয় তাহলে তা ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হবে। যদিও আবাবিল কতটা এমআইআরভি সামর্থ্য অর্জন করতে পেরেছে বা এটি একসঙ্গে কতটি ক্ষেপনাস্ত্র ছুড়তে সক্ষম তা এখনো জানা যায়নি। এমআইআরভি সজ্জিত ক্ষেপনাস্ত্র থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো এটি মেইন-কোন থেকে বের হওয়ার আগেই ধ্বংস করে দিতে পারা। যা সত্যিই খুব কঠিন। মাল্টিপল ওয়ারহেড একবার বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারলে এগুলোকে আলাদাভাবে অনুসরণ ও ইন্টারসেপ্টর দিয়ে আটকানো অনেকটাই অসম্ভব।
এমআইআরভি-প্রযুক্তির ব্যাপারে ভারত প্রকাশ্যে কোন ঘোষণা দেয়নি। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন অগ্নি-৫ পরীক্ষার সঙ্গে ভারত এমআইআরভি’র পরীক্ষা চালিয়েছে। সূত্র: বিবিসি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ