Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

চট্টগ্রামে গায়েবি মামলা

বিএনপির হিসাবে ২ মাসে ১৪৯ মামলা

রফিকুল ইসলাম সেলিম | প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০৪ এএম

চট্টগ্রামে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে থেমে নেই ‘গায়েবি’ মামলা। গণভবনে সংলাপ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে অর্ধশত মামলা হয়েছে। এ নিয়ে গত দুই মাসে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে শুধু মহানগরীতেই ১৪৯টি মামলা করেছে পুলিশ। মহানগর বিএনপির দাবি, এসব মামলার একটিরও কোন ভিত্তি নেই। আজগুবি এবং ভুতুড়ে অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের দাবি, সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা হয়েছে।
রাজপথে আন্দোলন, মিছিল-মিটিং-ভাঙচুর নেই। তারপরও একের পর এক মামলা। মামলায় অভিযোগ, বিএনপি নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা করে রাস্তায় গাড়ি ভেঙ্গেছে। বোমাবাজি করে নাশকতা করেছে। তবে কবে কখন এসব ঘটনা ঘটেছে তা কারও জানা নেই। শুধুমাত্র মামলার এজাহার হাতে পাওয়ার পর আসামিরা জানছেন তাদের বিরুদ্ধে কি অভিযোগ।
বিএনপির হিসেবে, গত দুই মাসে ১৪৯টি মামলায় সাত হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের আসামি করা হয়। গ্রেফতার করা হয়েছে ৫শ’র বেশি নেতা-কর্মীকে। এসব গায়েবি মামলায় আসামি হওয়া থেকে বাদ পড়ছেন না মৃত ব্যক্তি, পঙ্গু, প্রবাসী এমনকি চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থানকারীরাও। মামলার আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযানও থেমে নেই। নেতা-কর্মীদের বাসাবাড়ি এমনকি আত্মীয়-স্বজনদের বাসাবাড়িতেও হানা দিচ্ছে পুলিশ। নারী নেত্রীরাও মামলায় ঘরছাড়া।
মামলার আসামি হয়ে উচ্চ আদালতে জামিন নিতে গেলে রাজধানী ঢাকার আবাসিক হোটেল থেকেও গ্রেফতার করা হয়েছে বেশ কয়েকজন নেতাকে। মহানগর বিএনপি দফতরে মামলার যে তথ্য এসেছে তাতে দেখা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার ১৬টি থানায় ১৪৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। পতেঙ্গা থানায় ১৬টি, বন্দর থানায় ১২টি, ইপিজেড থানায় ১৫টি এবং কর্ণফুলী থানায় ১০টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর অধিকাংশই পুলিশের ওপর হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, নাশকতার অভিযোগে। সব মামলার বাদী পুলিশ।
এছাড়াও ডবলমুরিং থানায় ৪টি, পাহাড়তলী থানায় ৯টি, হালিশহর থানায় ৫টি এবং আকবর শাহ থানায় ৫টি মামলা দায়ের হয়েছে। চান্দগাঁও থানায় ১৩টি, পাঁচলাইশ থানায় ৭টি, বায়েজিদ থানায় ১০টি এবং খুলশী থানায় ৮টি মামলা হয়েছে। সদরঘাট থানায় ৯টি, কোতোয়ালি থানায় ১১টি, চকবাজার থানায় ৫টি এবং বাকলিয়া থানায় ১০টি মামলা হয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরীর নাসিমন ভবনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ হয়। এরপর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে অন্তত ১০টি মামলা হয়েছে, যাতে নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ও সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ানকেও আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের নেতারা। ঐক্যফ্রন্টের ওই সমাবেশের আগেই আদালত চত্বরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম ও চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনসহ ২৪ জন নেতা।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, বাসা-বাড়ি কিংবা রাস্তা থেকে ধরে তাদেরকে থানায় নেয়ার পর পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে মামলা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার সাজা দ্বিগুণ করার প্রতিবাদে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশে যাওয়ার পথে গ্রেফতার হন উত্তর জেলা বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। তাকে পুলিশের উপর হামলার মামলায় আসামি করা হয়। কেন্দ্র ঘোষিত অনশন কর্মসূচি থেকে কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। তাদেরও নাশকতা মামলায় চালান দেয়া হয়।
গত রোববার হাইকোর্ট থেকে জামিন নিতে ঢাকায় যান চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া ও নগর ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক জমির উদ্দীন নাহিদ। রাতে তাদের মতিঝিলের একটি আবাসিক হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এছাড়া রোববার রাতে নগর বিএনপির সহ-ধর্ম সম্পাদক রেহান উদ্দীন প্রধান ও নগর মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ছকিনা বেগমের বাসায় অভিযান চালায় আকবর শাহ থানা পুলিশ। দু’জনই চিকিৎসার জন্য ভারতে অবস্থান করছেন। পুলিশ বাসা থেকে ছেলে আরিফুর রহমান সুমনকে ধরে নিয়ে গেছে। একই রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে চকবাজার থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূর হোসেনকেও।
এদিকে পুলিশের হিসেবে, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত নগরীর ১৬টি থানায় ১৯৫টি মামলা হয়। এর মধ্যে ১৭২টি মামলার চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। অপর মামলাগুলো তদন্তাধীন। ১৭২টি মামলায় পুলিশ ৩ হাজার ৭৭২ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয়। আদালতে এসব মামলার প্রায় সব আসামি জামিন পেয়ে যায়। গত কয়েক মাসে ফের নতুন করে মামলা দেয়ায় অনেকে গ্রেফতার হয়েছে। জেলার বিভিন্ন থানায় এমন মামলার সংখ্যা কয়েকশ। আর এসব মামলায় আসামি হাজার হাজার বিএনপি নেতা-কর্মী।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ