Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০৪ এএম

নির্বাচনকালীন সরকার গঠন আজ শুক্রবার না হলে আগামী সপ্তাহে হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করে। প্রধানমন্ত্রীর উপর নির্ভর নির্বাচনকালীন সরকার গঠন। একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এবারের নির্বাচনকালীন সরকারে নতুন মুখ আসছে না। গতকাল সন্ধ্যায় তফসিল ঘোষণা করছে সিইসি।
গতকাল সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, শুক্রবারই নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হতে পারে। তিনি বলেন, নতুন কেউ মন্ত্রিত্ব পাবে না। টেকনোক্র্যাটদের পদত্যাগপত্র এখনও গ্রহণ হয়নি। নির্বাচনকালীন সরকারে নতুন মুখ আসছে না।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেছেন, নির্বাচন সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় সরকার যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। তবে এবার নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় কতটা পরিবর্তন আসতে পারে এখনই বলা যাবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এক অতিরিক্ত সচিব বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হতে পারে। সেটা বর্তমান সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আকার বড় হবে না ছোট হবে। বড় থাকলে প্রজ্ঞাপন হবে,ছোট থাকলেও প্রজ্ঞাপন হবে। তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকালীন যখন নিদেশনা দিবেন তখন হবে।
গত অক্টোবর মাসে বর্তমান মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে একটি ছোট আকারের নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা গঠন করার কথা থাকলে তা দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের কারণে পিছিয়ে যায়।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক করতে দশ সদস্য বিশিষ্ট নির্দলীয় নিরপেক্ষ উপদেষ্টা পরিষদ নিয়ে নির্বাচন কালীন সরকারের প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একইসাথে সংসদ ভেঙ্গে দেয়া, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের কথা বলেছেন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দল।
এদিকে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের আগে চার মন্ত্রীকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নির্দেশের পর ওইদিন সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। সেই অনুযায়ী গতকাল বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিকালে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর বুধবার দুপুরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ থেকে মন্ত্রী জব্বারের একটি অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র সাংবাদিকদের পাঠানো হয়।
সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন হতে হবে। সংবিধানের ১২৩ (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে (ক) মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে’ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশন বসেছিল ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। সে হিসাবে সংসদের ৫ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ২৯ জানুয়ারি। এর ৯০ দিন আগে অর্থাৎ ২৯ অক্টোবর থেকে আগামী বছরের ২৯ জানুয়ারির মধ্যে যে কোনো দিন একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগেই নির্বাচনের অন্য সব প্রস্তুতি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, তফসিল ঘোষণা, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র আহ্বান, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এগুলো শেষ করতে হবে।
গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সরকার। তফসিল ঘোষণার পর মন্ত্রীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা না নেয়ার নির্দে দেন তিনি। তবে এ সরকারের কার্যপরিধি কমে যাবে। মন্ত্রিসভার সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন অনুযায়ী সবাই নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলবেন। সরকারি গাড়ি ব্যবহারসহ কোনো ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেবেন না। তিনি বলেন, গত নির্বাচনের আগে ছোট আকারে নির্বাচনকালীন সরকার করার কথা ভাবা হয়েছিল। কারণ তখন সংসদে বিএনপি ছিল। তাদের নির্বাচনকালীন সরকারে আনার জন্য সে চিন্তা করা হয়েছিল।এবার তো সংসদে বিএনপি নেই। আর নির্বাচনকালীন সরকারে অনির্বাচিত কাউকে রাখা যাবে না। তাই এ সরকারকে আর ছোট করার কোনো দরকার নেই।
সংবিধানের ৫৭ (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের কোনোকিছুই অযোগ্য করিবে না। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর অর্থ হচ্ছে যিনি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি নতুন একজন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত স্বপদে বহাল থাকবেন। নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে সংসদ বহাল রেখে সরকারের রুটিনওয়ার্ক পরিচালনা এবং নির্বাচন কমিশনকে অবাধ নির্বাচন আয়োজনে সহায়তা করা। নির্বাচনকালীন সরকার কবে নাগাদ গঠিত হবে এটা নিয়েও কোনো বাধ্যবাধতা নেই। এটা পুরোটাই প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি চাইলে মন্ত্রিসভা ছোট না করে বর্তমান মন্ত্রিসভা নিয়েও নির্বাচন করতে পারেন।



 

Show all comments
  • কাওসার আহমেদ ৯ নভেম্বর, ২০১৮, ৮:৪৭ এএম says : 0
    নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রয়োজন
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ