Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮, ০৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

কঠোর নিরাপত্তায় সারাদেশ

আবদুল্লাহ আল মামুন | প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০৪ এএম

নানা জল্পনা কল্পনা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। এ দিকে, নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বড় ইস্যুগুলোর সুনির্দিষ্ট সুরাহা না হওয়ায় তফসিল ঘোষণা নিয়ে জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। যদিও তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার শুরু করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় টহল জোরদারসহ বিশেষ প্যাট্রলিং চলছে। একইভাবে চলছে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও তালিকাভুক্ত অপরাধীদের গ্রেফতার কর্যক্রম। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, যে কোন ধরণের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাহিনীগুলোকে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নির্বাচন নিকটে এলেই জনমনে এক ধরণের আতঙ্ক ও সংশয় শুরু হয়। সম্ভাবনা দেখা দেয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে সুষ্ঠ নির্বাচন দেওয়া নিয়ে অন্য বিরোধী দল ও গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংশয় কাজ করে। এ ছাড়া বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর নানা চাহিদা ও বিদ্যমান সংকটের সুরাহা না করে স্বেচ্ছাচারী মনোভাব নিয়ে নির্বাচন করতে গেলে সংঘর্ষের সম্ভাবনা আরও প্রকট হয়। অন্যদিকে গত মঙ্গলবারের ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ থেকে তফসিল ঘোষণার পরে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে পদযাত্রা কারা ঘোষনা দেওয়া এ শঙ্কা আরও বেড়েছে।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এলেই বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের পক্ষ থেকে আধিপত্য বিস্তার ও পেশিশক্তি প্রদর্শনের মহড়া শুরু হয়। এ কাজে নিজ দলের বাইরে ভাড়াটে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ছাড়াও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার অনেক বাড়ে। পলাতক অবৈধ অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীর প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে। বিভিন্ন দল বা প্রার্থীর পক্ষে প্রভাব বিস্তার, ক্ষমতা প্রদর্শন ও প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করে। চলে নানা নাশকতামূলক কর্মকান্ড। যার কারণে অনেক ক্ষেত্রে অবাধ, সুষ্ঠু ও শানিস্তপূর্ণ ভোট গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব বিষয় মাথায় রেখেই গত বুধবার থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। কোথাও-কোথাও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযানও শুরু করা হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে কেউ যেন কোন ধরণের নাশকতা ও অস্ত্রবাজি করতে না পারে সে ব্যাপারেও বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে পলাতক সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্রের চালান যেন ঢুকতে না পারে সে জন্যও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে।
র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, তফসিল ঘোষণার পর যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সংস্থাটি। এরই অংশ হিসেবে ঢাকাসহ সারাদেশে বিশেষ প্যাট্রলিং শুরু করেছে র‌্যাবের সব ব্যাটালিয়ন। এ ছাড়া গোয়েন্দা কার্যক্রমের ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। গত বুধবার থেকে ঢাকার রাজপথে র‌্যাবের বিশেষ প্যাট্রলিং চোখে পড়েছে। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা তল্লাশি চৌকি বসিয়েছে পুলিশ ও র‌্যাব।
এ বিষয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, বুধবার থেকেই সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আগাম হুমকির বিষয় না থাকলেও যে কোন ধরণের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবেলায় র‌্যাব প্রস্তুত রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) শেখ নাজমুল আলম বলেন, নির্বাচনি তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কাউকে কোনো ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। পুরো রাজধানীজুরে পুলিশ বাহিনী সতর্ক রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে তাদেরকে কঠোরভাবে দমন করা হবে।

অস্ত্র উঁচিয়ে টহল চট্টগ্রামে নিরাপত্তা জোরদার
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদের তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন সড়কে টহল দিয়েছে র‌্যাব-পুলিশের সদস্যরা। বিকেলে নগরীর কাজির দেউড়ি এলাকায় আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার-এপিসিতে চড়ে অস্ত্র উঁচিয়ে একদল পুলিশকে টহল দিতে দেখা যায়। এছাড়া নগরীর কয়েকটি সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশ টহল দেয়।
র‌্যাবের পক্ষ থেকেও গতকাল নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। নগর পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর কোন পক্ষ যাতে রাস্তায় নেমে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে না পারে সেজন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।



 

Show all comments
  • খাইরুল ইসলাম ৯ নভেম্বর, ২০১৮, ৮:৪৯ এএম says : 0
    সরকার ও প্রশাসনকে ধন্যবাদ
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ