Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

২৩ ডিসেম্বর ভোট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

পঞ্চায়েত হাবিব | প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০৪ এএম

গণভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে ‘নির্বাচনকালীণ সরকার ব্যবস্থা’ নিয়ে বিরোধের সুরাহা’র আগেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা ‘২৩ ডিসেম্বর’ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী তিনি ১৯ নভেম্বরের মধ্যে মনোনয়ন জমা দেয়া, ২২ নভেম্বর যাচাই-বাছাই ও ২৯ নভেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ঘোষণা করেন। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৩ দফা (৩) উপদফা (ক)-এর বরাতে এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তিনি নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেন। তবে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের অন্যতম বিএনপির জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ অনেকগুলো দলের ‘সংলাপে সংকটের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা নয়’ ইসির প্রতি দাবি উপেক্ষা করেন সিইসি। তবে ক্ষমতাসীন ১৪দলীয় জোট তাদের সমর্থিত বি চৌধুরীর যুক্তফ্রন্ট ও এরশাদের সম্মিলিত জাতীয় ফ্রন্টের ‘দ্রুত তফসিল ঘোষণার দাবি’ পুরণে তরিঘড়ি করে তফসিলের ঘোষণা দেন। বাম দলগুলো গতকালই বলেছে, দ্রুত তফসিল ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করবে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ইসি সরকারের ইচ্ছা পূরন করেছে।
এর আগে গতকাল বেলা ১১টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে নিবাচন কমিশনের সভাকক্ষে নির্বাচন কমিশন বৈঠক করে। চলে সাড়ে ১২টার পর্যন্ত। বৈঠকে কে এম নুরুল হুদা ছাড়াও ছিলেন চার কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মোঃ রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। ইসি সচিব হেলালুদ্দিন আহম্মদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সভায় নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়। এছাড়া প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহারের দিনক্ষণ ও তফসিলের বিস্তারিত চূড়ান্ত করা হয়।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোননয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৯ নভেম্বর সোমবার। মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাইয়ের তারিখ ২২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার এবং প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার নির্ধারন করা হয়। ২৩ ডিসেম্বর রোববার ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। প্রার্থী ও ভোটার বিহীন বিতর্কিত ওই নির্বাচনে বিএনপি, সিপিবি, গণফোরামসহ ইসির নিবন্ধিত বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি। ওই নির্বাচনে ১৫৩ আসনে কোনো ভোটই হয়নি। এক রকম প্রতিদ্ব›িদ্বতাহীন ভাবে আসনগুলোতে প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। দেশে এবং আন্তর্জাতিক মহলে ওই বিতর্কিত নির্বাচন কার্যত: গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। দশম সংসদের কার্যদিবস অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে জানান সিইস। নির্বাচনের বড় স্টেকহোল্ডারদের দাবি ও প্রস্তাবনা উপেক্ষা করে দ্রুত তফসিল ঘোষণা করলেও নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করবে বলে বক্তৃতায় আশা প্রকাশ করেন সিইসি। তিনি দাবি করে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। সব দল নির্বাচনে এলে অনিয়মের সুযোগ থাকবে না বলে মনে করেন সিইসি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক কোনো বিরোধ থাকলে তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার প্রতি তাগিদ দেন সিইসি। যদিও তিনি এর আগে ছোট পরিসরে স্থানীয় নির্বাচনগুলোও নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে পারেননি। সিটি কর্পোরেশনগুলোতে নিয়ন্ত্রিক নির্বাচনের পর তিনি স্ববিরোধী কথাবার্তা বলেছেন। হঠাৎ করে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বিতর্কেরও জন্ম দেন। ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে একতরফা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর জোরদার কর্মসূচি দেয়ার হুমকি রয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বাম গণতান্ত্রিক জোট।
ইসির হিসেবে অনুযায়ী এবার ৩০০ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচনে ভোটার ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪শ ৮০ জন।
নির্বাচন ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতার আগেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার দোহাই দিয়ে তফসিল ঘোষণা পেছানোর উপায় ছিল না দাবী করে নূরুল হুদা ইতোপূর্বে বলেছেন, সব দল চাইলে সংবিধান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে থেকে কমিশন ভোটগ্রহণের সময়সূচি কয়েকদিন পেছানোর কথা ভাবতে পারে। তফসিল ঘোষণার ভাষণে সিইসি আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করে নিজেদের মতানৈক্যের অবসান আলোচনার মাধ্যমে ঘটাতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
অধিকাংশ দলের বর্জনের মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপটে একাদশ সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করে আসছেন সিইসি। তফসিল ঘোষণার ঠিক আগে মতবিভেদ কাটাতে দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরে সংলাপ হলেও তাতে এখনও কোনো সমঝোতা হয়নি। বিএনপিকে নিয়ে গঠিত কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে, সংসদ ভেঙ্গে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাইছে। অন্যদিকে সংবিধানের বাইরে কোনোভাবেই যেতে নারাজ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দুই দফা সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর ফের আলোচনার আশা রেখে তফসিল পেছানোর আহ্বান ছিল ঐক্যফ্রন্টের। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের সমর্থন পাওয়ার পর তফসিল ঘোষণার পথেই হাঁটে ইসি। তফসিল ঘোষণা করে বিরোধী দলকে আশ্বস্ত করে সিইসি বলেছেন, নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ইসি সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েনের দাবি জানালেও তা উপেক্ষিত হয়েছে। সিইসি বলেছেন, আগের মতোই বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। বহুল আলোচিত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) পক্ষে বলে তিনি শহরাঞ্চলে কিছু সংখ্যক কেন্দ্রে যন্ত্রে ভোটগ্রহণ হবে, তা ভাষণে স্পষ্ট করেননি নূরুল হুদা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইভিএমের পক্ষে অবস্থান জানালেও তার ঘোর বিরোধিতা করছে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও বাম দলগুলো। ইভিএম নিয়ে বিতর্ক ওঠায় ইভিএম ব্যবহার এবার না করার পক্ষে মত জানিয়েছে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর অধিকাংশ।
প্রধানমন্ত্রীর সংলাপ চলার মধ্যে গত কয়েকদিনে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিজেদের বৈঠকের প্রেক্ষাপটে সিইসি বলেছেন, সার্বিকভাবে দেশে ভোটের অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে। সহিংসতা ও বর্জনের মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের প্রতিদ্ব›িদ্বতা যেন প্রতিহিংসা ও সহিংসতায় পরিণত না হয়, সে দিকে দৃষ্টি দিতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, আমরা একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইন সংস্কার, ভোটার তালিতা প্রস্তুতসহ ৭টি করনীয় বিষয় স্থির করে ২০১৭ সালে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করেছিলাম। সংলাপের মাধ্যমে ৪০টি রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, পর্যবেক্ষক সংস্থা, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নারীনেত্রী সংগঠনের কাঝে কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছিলাম। তাদের পরামর্শ এবং সুপারিশ বিচার –বিশ্লেষণের পর গ্রহণযোগ্য বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আমরা ৪০ হাজার ভোটার কেন্দ্রের বাচাই, ৭৫টি রাজনৈতিক দলে নিবন্ধন আবেদন নিস্পত্তি, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং প্রথম বারের মত পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি।
সিইসি বলেন, সংসদ নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় জনগণের মালিকার অধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়। নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্র তৈরি হয়। এমন নিবাচনে দেশের সব রাজনৈতিক দলকে অংশগ্রহণ করার জন্য আবারো আহবান জানাই। প্রত্যেক দলকে এক অপরের প্রতি সহনশীল, সম্মানজনক এবং রাজনীতিসুলভ আচরণ করার অনুরোধ জানাই। প্রতিযোগিতা এবং প্রতিদ্ব›িদ্বতা যেন কখনও প্রতিহিংসা বা সহিংসতায় পরিণত না হয় রাজনৈতিক দল গুলোকে সেই সর্তক দৃষ্টি রাখার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানাই। বিনা কারণে হয়রানীর শিকার না হয় বা মামলা নয়
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে পরিপত্র জারি করা হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ভোটার, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, প্রাথী, প্রার্থীর সমর্থক এবং পোলিং এজেন্ট যেন বিনা কারণে হয়রানীর শিকার না হয় বা মামলা - মোকদ্দমার সম্মুখীন না হন তার নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর উপর কঠোর নিদেশ থাকবে। দলমত নির্বিশেষে সকলে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। ভোট শেষে নিজ নিজ বাড়িতে নিরাপদে অবস্থান করতে পারবেন। নির্বাচনী প্রচারণায় সকল প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবেন। সকল দলের প্রার্থীদের জন্য অভিন্ন আচরণ ও সমান সুযোগ সৃষ্টির অনুকুলে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে। এ সব নিয়ে শীঘ্রই প্রয়োজনীয় পরিপত্র জারি করা হবে। দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান সংসদ নিবাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় আপনারদের সহযোগিতা, সাহায্য এবং সমর্থণ কামনা করি।



 

Show all comments
  • Jalal Uddin Ahmed ৯ নভেম্বর, ২০১৮, ৮:৪৫ এএম says : 0
    Wrong decision
    Total Reply(0) Reply
  • Altaf Member ৯ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:১৭ পিএম says : 0
    এই তফসিল বাংলার সাত কোটি মানুষ মানে না
    Total Reply(0) Reply
  • Nazrul Islam ৯ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ পিএম says : 0
    Player should be always ready for playing...
    Total Reply(0) Reply
  • Liton Miah ৯ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:১৯ পিএম says : 0
    এ নির্বাচন জনগনের নির্বাচন নয়। এটা আওয়ামীলীগএর খালি মাঠে গোল দেয়ার নির্বাচন।
    Total Reply(0) Reply
  • Shafiq Ahmed ৯ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:৩৭ পিএম says : 0
    জনগনকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করে ক্ষমতায় টিকে থাকার নীল নক্সা তবে মনে হয় জনগন তা বাস্তবায়ন করতে দিবে না ।
    Total Reply(0) Reply
  • নাহিদ ৯ নভেম্বর, ২০১৮, ১:২২ পিএম says : 0
    এই তফসিল আওয়ামী লীগ সরকারের একক ইচ্ছার প্রতিফলন।
    Total Reply(0) Reply
  • বুলবুল আহমেদ ৯ নভেম্বর, ২০১৮, ১:৪১ পিএম says : 0
    এ নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন।
    Total Reply(0) Reply
  • কাজল ৯ নভেম্বর, ২০১৮, ১:৪২ পিএম says : 0
    এ নির্বাচন কমিশনের মেরুদন্ড নাই। তাই তাদের তফসীল ঘোষনার মূল্য নেই।
    Total Reply(0) Reply
  • তমা ৯ নভেম্বর, ২০১৮, ১:৪৩ পিএম says : 0
    নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • জলিল ৯ নভেম্বর, ২০১৮, ১:৪৬ পিএম says : 0
    সরকারের অনুগত্য ও তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কীভাবে কাজ করতে হয় তা একশত ভাগ দেখিয়ে দিয়েছে আমাদের এই গুণধর নির্বাচন কমিশনের প্রধান ও তার কমিশন। এর জন্য তাকে বাহবা দিতেই হয়।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ