Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

জুভেন্টাসের নাটকীয় পরাজয়

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

কোপা দেল রে ও স্প্যানিশ লা লিগার পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ পরীক্ষাতে ভালো নম্বর পেয়েই পাশ করলেন রিয়াল মাদ্রিদের আপৎকালীন কোচ সান্তিয়াগো সোলারি। ইউরোপের সর্বোচ্চ ফুটবল প্রতিযোগিতায় আর্জেন্টাইন কোচের অভিষেক হয়েছে ৫-০ গোলের দারুণ জয়ের মাধ্যমে। একই রাতে রেকর্ড ব্যবধানের জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটিও। তবে শেষ পাঁচ মিনিটের নাটকীয়তায় জুভেন্টাসের মাঠ থেকে জয় ছিনিয়ে এনে রাতের সব আলো কেড়ে নিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

নাটকীয় নয়তো কি! ম্যাচের বাকি তখন চার মিনিট। আসরে ৪৫৩ মিনিটের গোলক্ষরা কাটিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ ভলিতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর করা একমাত্র গোলে চুড়ান্ত বিজয়োৎসবের জন্য যখন প্রস্তুত নিচ্ছিল জুভেন্টাস সমর্থকরা তখনই দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে স্কোরবোর্ডে সমতা এনে দেন হুয়ান মাতা। তিন মিনিট পর আত্মঘাতি গোল খেয়ে শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের মাল্য পরতে হয় স্বাগতিকদের। অ্যাশলে ইয়াংয়ের লম্বা সেট-পিস জটলার মধ্যে ডিফেন্ডার অ্যালেক্স সান্দ্রের গায়ে লেগে জালে জড়ায়।

এটাকে ‘বড় জয়’ হিসেবে দেখছেন রেড ডেভিল কোচ হোসে মরিনহো, ‘এটা আমাদের জন্য বিশাল জয়, এটা যে কেবল তিন পয়েন্ট পেয়েছি এজন্য তা নয়, অসাধারণ একটা দলের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচের কারণে।’ তবে ম্যাচের আসল চিত্র ফুটে উঠেছে রোনালদোর কথায়, ‘আমরা ম্যাচের ৯০ মিনিট আধিপত্য দেখালাম। অনেক সুযোগও পেলাম। তিন-চারবার ম্যাচ শেষ করে দিতে পারতাম। কিন্তু আমরা নির্ভার হয়ে পড়ি এবং তার শাস্তিও পেয়েছি।... ম্যাচটি জেতার জন্য ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিছুই করেনি।... আমরা তাদেরকে এটা (জয়) উপহার দিলাম।’
তবে এই পরাজয়ের সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি বলেও মনে করেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। নয় পয়েন্ট নিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপে শীর্ষেই আছে তারা। ৭ পয়েন্ট নিয়ে তাদের পরেই ম্যান ইউ। গ্রুপের অন্য ম্যাচে ঘরের মাঠে ইয়াং বয়েজকে ৩-১ গোলে হারানো ভ্যালেন্সিয়াও পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে আছে পরের রাউন্ডের দৌড়ে।

ওদিকে গ্রীসে রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের জন্য রাতটি ছিল স্বস্তির। হুলেন লোপেতেগির চেয়ারে বসে টানা তৃতীয় জয় তুলে নেন সোলারি। ঘরের মাঠে যে দলকে নূন্যতম (২-১) ব্যবধানে হারিয়েছিল লোপেতেগির দল, সেই ভিক্টোরিয়া প্লাজেনকে তাদেরই মাঠে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সোলারির রিয়াল। প্রথমার্ধেই করিম বেনজেমার জোড়া গোলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ান টনি ক্রুস। প্রথমার্ধের বাকি গোল দুটি কাসিমিরো ও গ্যারেথ বেলের। লস ব্ল্যাঙ্কোসদের হয়ে এদিন ২০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন বেনজেমা। পরে ম্যাচে রোমার বিপক্ষে ড্র করলেই নকআউট পর্বে উঠে যাবে রিয়াল। একই দিনে অন্য ম্যাচে সিএসকেএ মস্তোকে প্লাজের হারিয়ে দিলে অবশ্য কোন হিসাবের মধ্যেই যেতে হবে না বার্নাব্যুর দলকে। ‘জি’ গ্রুপে সমান নয় পয়েন্ট করে রিয়াল মাদ্রিদ ও রোমার। মুখোমুখি লড়াইয়ের এগিয়ে রিয়াল। চার পয়েন্ট নিয়ে আশা টিকিয়ে রেখেছে মস্কোও।

তবে রাতের সবচেয়ে বড় জয়টি তুলে নেয় পেপ গার্দিওলার ম্যান সিটি। ইতিহাদে শাখতার দোনেৎস্কের বিপক্ষে গোলের হ্যাটট্রিক করেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। যার দুটি আসে পেনাল্টি থেকে। একটি করে গোল সিলভা, স্টার্লিং ও মাহরেজের। ৬-০ ব্যবধানের জয়টি আসরে সিটির সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়। গ্রুপের অপর ম্যাচে যোগ করা সময়ে গোল করে লিঁওর বিপক্ষে হার এড়ায় হফেনহেইম। নইলে এদিনই শেষ ষোল নিশ্চিত হয়ে যেত সিটির। দশ জনের দল নিয়েও লিঁওর মাঠ থেকে দুই গোল আদায় করে স্কোরলাইনে ২-২ সমতা আনে হফেনহেইম। পরের ম্যাচে লিঁওকে তাদের মাঠে হারাতে পারলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের রাউন্ডে পেঁছাবে সিটি। নয় পয়েন্ট নিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের শীর্ষে আছে তারা। ছয় ও তিন পয়েন্ট যথাক্রমে লিঁও ও হফেনহেইমের। ২ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে শাখতার।

একই রাতে ঘরের মাঠে এইকে এথেন্সকে সহজে হারায় টুর্নামেন্টের আরেক ফেভারিট দল বায়ার্ন মিউনিখ। ২-০ গোলের জয়ে দুটি গোলই করেন পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভান্দোভস্কি। ১০ পয়েন্ট নিয়ে ‘ই’ গ্রুপের শীর্ষেই আছে তারা। আট পয়েন্ট বেনফিকার। চার পয়েন্ট নিয়ে শেষ আটের দৌড়ে আছে বেনফিকাও।

এক নজরে ফল
মস্কো ১ : ২ রোমা
ভ্যালেন্সিয়া ৩ : ১ ইয়াং বয়েজ
বেনফিকা ১ : ১ আয়াক্স
বায়ার্ন ২ : ০ এথেন্স
লিঁও ২ : ২ হফেনহেইম
ম্যান সিটি ৬: ০ শাখতার
ভিক্টোরিয়া ০ : ৫ রিয়াল মাদ্রিদ
জুভেন্টাস ১ : ২ ম্যান ইউ



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর