Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

শিরোপা জয়ে খুলনার পাশে রাজশাহী

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০১৮, ১:৩৭ এএম

জয়ের মঞ্চটা এক রকম প্রস্তুতই ছিল। শেষ দিনে এসে সেটাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে জাতীয় ক্রিকেট লিগের শিরোপা জিতেছে রাজশাহী বিভাগ। ২০১১-১২ মৌসুমের পর এটি তাদের ষষ্ঠ শিরোপা। প্রথম শ্রেণির এই প্রতিযোগিতায় খুলনা বিভাগের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি শিরোপাজয়ী দল এখন রাজশাহীও।

শেষ দিনে এসে প্রথম স্তর থেকে অবনমন এড়িয়েছে চ্যাম্পিয়ন খুলনা। রাজশাহীর কাছে হেরে যাওয়ায় যে ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে বরিশাল বিভাগকে। ছয় ম্যাচে দুই জয় ও চার ড্রয় ৩৪.৮১ পয়েন্ট নিয়ে মৌসুম শেষ করেছে রাজশাহী। এক জয় ও পাঁচ ড্রয়ে রানার্স-আপ দল রংপুর (২৪.৫৯)। হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নের তকমা নিয়ে মৌসুম শুরু করা খুলনা (১৬.১৫) কোন জয় ছাড়াই আসর শেষ করল। আব্দুর রাজ্জাক-তুষার ইমরান-সৌম্য সরকার-নুরুল হাসানদের নিয়ে গড়া দলটি হেরেছে একটিতে, একটি পরিত্যাক্ত, বাকি চারটি ম্যাচ ড্র। দুই হার, তিন ড্র ও একটি পরিত্যক্তের পরিসংখ্যান নিয়ে দ্বিতীয় স্তরে নেমে গেছে বরিশাল (১৪.৬১)।

ওদিকে এক বছরের মাথায় দ্বিতীয় স্তর থেকে প্রথম স্তরে ফিরেছে ঢাকা বিভাগ। দুই জয়, তিন ড্র ও এক পরাজয়ে ২৯.৩৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্তরের শীর্ষ দল তারা। ঢাকারই আরেক দল মহানগর এক জয়, দুই পরাজয় ও তিন ড্রয়ে তাদের পরে। একই পরিসংখ্যান নিয়েও সিলেট বিভাগের চেয়ে এক পয়েন্টে এগিয়ে তিনে থেকে মৌসুম শেষ করেছে চট্টগ্রাম বিভাগ।

এমন নাটকীয় মৌসুম দিয়ে শেষ হয়েছে বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক রাজিন সালেহর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট অধ্যায়। বিদায়ী ম্যাচে দুই ইনিংসেই ফিফটি করে দলকে পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচাতে পেরেছেন ঠিকই কিন্তু সিলেটকে প্রথম স্তরে রেখে যেতে পারলেন না লড়াকু এই ক্রিকেটার। দুটি ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়া রাজিন দেশের হয়ে ২৪ টেস্টের পাশাপাশি ওয়ানডে খেলেছেন ৪৩টি। ১৪৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ১৮টি শতক ও ৪৪টি অর্ধশতক নিয়ে ব্যাট তুলে রাখলেন কদিন বাদেই পঁয়ত্রিশে পা রাখতে যাওয়া এই ব্যাটসম্যান।

জয়ের জন্য শেষ দিনে ১০২ রান করতে হত রাজশাহীকে, হাতে ছিল আট উইকেট। আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান জুনায়েদ সিদ্দিক ও জহুরুল ইসলামের জুটিই এদিন জয় এক প্রকার নিশ্চিত করে। জহুরুল ৬৪ রান করে আউট হলেও ১২০ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন জুনায়েদ।

প্রথম স্তরের আরেক ম্যাচে আট নম্বর ব্যাটসম্যান মইনুল ইসলামের জোড়া ফিফটিতে ম্যাচ ড্র করতে সক্ষম হয় খুলনা। জয়ের জন্য শেষ দিনে তারা রংপুরকে দেয় ২৯৫ রানের লক্ষ্য। ৫১ ওভারে রংপুর ৬ উইকেটে ১৮৪ রান তুলে ফেললে দুই দল ড্র মেনে নেয়।

দ্বিতীয় স্তরের ম্যাচ দুটিও নিরুত্তাপ ড্র হয়। শেষ দিনে এসে শতকের দেখা পান শামসুর রহমান। পুরো দিনে মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে ম্যাচ ড্র করে সিলেট।


রোল অব অনার
মৌসুম চ্যাম্পিয়ন রানার্সআপ
২০১৮-১৯ রাজশাহী রংপুর
২০১৭-১৮ খুলনা রংপুর
২০১৬-১৭ খুলনা ঢাকা
২০১৫-১৬ খুলনা ঢাকা মেট্রো
২০১৪-১৫ রংপুর খুলনা
২০১৩-১৪ ঢাকা রাজশাহী
২০১২-১৩ খুলনা ঢাকা
২০১১-১২ রাজশাহী খুলনা
২০১০-১১ রাজশাহী ঢাকা
২০০৯-১০ রাজশাহী চট্টগ্রাম
২০০৮-০৯ রাজশাহী বরিশাল
২০০৭-০৮ খুলনা রাজশাহী
২০০৬-০৭ ঢাকা রাজশাহী
২০০৫-০৬ রাজশাহী চট্টগ্রাম
২০০৪-০৫ ঢাকা রাজশাহী
২০০৩-০৪ ঢাকা সিলেট
২০০২-০৩ খুলনা ঢাকা
২০০১-০২ ঢাকা রাজশাহী
২০০০-০১ বিমান চট্টগ্রাম
১৯৯৯-০০* চট্টগ্রাম সিলেট
*প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা ছিল না


সংক্ষিপ্ত স্কোর

বরিশাল-রাজশাহী, রাজশাহী (১ম স্তর)
বরিশাল : ৯৭ ও ৩৪৬। রাজশাহী : ১৬০ ও (লক্ষ্য ২৮৪) ৭৬ ওভারে ২৮৪/৪ (আগের দিন ১৮২/২) (জুনায়েদ ১২০*,জহুরুল ৬৪; সোহাগ ১/৬৯, তানভির ২/৬১, মোসাদ্দেক ১/১৭)। ফল : রাজশাহী ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : জুনায়েদ সিদ্দিক (রাজশাহী)।
খুলনা-রংপুর, বগুড়া (১ম স্তর)
খুলনা : ২৬১ ও ২৮২ (আগের দিন ১৯৬/৬)(জিয়াউর ৫২, মইনুল ৫৫; রবিউল ২/১০, তানবির ৩/৪০, মুভ ২/৪৯, মাহমুদুল ২/৬৪)।
রংপুর : ২৪৯ ডিক্লে. ও ৫১ ওভারে ১৮৪/৬ (মারুফ ৫০, রাকিন ৭৪, শুভ ২৫; মেহেদি ৩/১৭)। ফল : ড্র
ম্যাচসেরা : মইনুল ইসলাম (খুলনা)
ঢাকা মহানগর-চট্টগ্রাম, কক্সবাজার (২য় স্তর)
ঢাকা মেট্রো : ৩২৮ ও (তৃতীয় দিন শেষে ৯৬/৩) ৬২ ওভারে ২৬১/৬ ডিক্লে. (শামসুর ১২১, আশরাফুল ৪৩; শাখাওয়াত ১/৩৭, নাঈম ১/২০, ইরফান ১/২৩)। চট্টগ্রাম : ৩৪৫ ও (লক্ষ্য ২৪৫) ৪১ ওভারে ১৪২/৪ (পিনাক ২৬, শুক্কুর ৪৪, তাসামুল ২৬*, সাজ্জাদুল ২৬; আশরাফুল ১/৩২, আবু হায়দার ১/৩৩, আসিফ ২/২৯)। ফল : ড্র
ম্যাচসেরা : শামসুর রহমান (ঢাকা মেট্রো)
ঢাকা-সিলেট, কক্সবাজার (২য় স্তর)
সিলেট : ২৩৮ ও (তৃতীয় দিন শেষে ১০২/৪) ১২৪ ওভারে ৩০৩/৬ (রাজিন ৮৭, জাকের ৭৭*, শাহানুর ৭০*; শাহাদাত ২/৪৩, মোশাররফ ১/৮২ তাইবুর ১/৬৮, শুভাগত ২/৫২)। ঢাকা ১ম ইনিংস : ৩৪৬। ফল : ড্র
ম্যান অব দা ম্যাচ : রাজিন সালেহ (সিলেট)

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ